1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন

সুগন্ধা বালিকা বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে অবৈধভাবে নির্মিত স্টল ভেঙে দেয়া হয়েছে

  • প্রকাশিত : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ২২৯ বার পড়া হয়েছে
অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলে পৌরসভা
ঝালকাঠি শহরের সুগন্ধা পৌর আদর্শ মা.বিদ্যালয় মাঠের অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলে পৌরসভা।

কে এম সবুজ
ঝালকাঠি সুগন্ধা পৌর আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ভেঙে খেলার মাঠে অবৈধভাবে নির্মিত বাণিজ্যিক স্টল ভেঙে দিয়েছে পৌরসভা। পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদারের নির্দেশে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে ভাঙচুরের কাজ শুরু করে শ্রমিকরা। এর আগে অবৈধভাবে স্টল নির্মাণ করার প্লান বাতিল করে দেয় পৌর মেয়র। স্টলের গাথুনি ভেঙে ফেলার সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের নতুন এডহক কমিটির সভাপতি গাজী সানাউল হক, প্রধান শিক্ষক রিতা মন্ডলসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরা। এদিকে স্টল ভাঙার প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় একটি রেস্তোরায় সংবাদ সম্মেল করেছেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদ্য বিদায়ী সভাপতি শারমিন মৌসুমি কেকা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিতা মন্ডল অভিযোগ করেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি থাকাকালে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শারমিন মৌসুমি কেকা জোড় পূর্বক রেজুলেশন করে খেলার মাঠে অবৈধভাবে স্টল নির্মাণ করেন। বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ভেঙে ফেলায় অনুভূতিতে আঘাত লাগে শিক্ষকদের। বিদ্যালয়ের মাঠ সংকুচিত করে ৯টি স্টল নির্মাণ করায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ব্যাহত হবে অভিভাবকরা ক্ষোভে ফুসে ওঠে। স্টলগুলো সরকার ও বিরোধী দলীয় কয়েকজন নেতা ও দুজন কাউন্সিলরের মধ্যে ভাগাভাগির চুক্তি হয়। ভুল বুঝিয়ে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে পৌরসভা থেকে তাৎক্ষণিক প্লান নিয়ে গত ১৪ আগস্ট কাজ শুরু করা হয়। দ্রæততম সময়ের মধ্যেই ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়। বিদ্যালয়ের নতুন এডহক কমিটি জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও পৌরসভার কাছে লিখিতভাবে স্টল ভেঙে ফেলার দাবি জানান। পরে পৌর কর্তৃপক্ষ প্লান বাতিল করে স্টল ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।
জানা যায়, শহরের সার্কিট হাউস সংলগ্ন প্রধান সড়কের পাশে গুরুধাম এলাকায় ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সুগন্ধা পৌর আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে এখানে ৪৭৫ জন ছাত্রী পড়ালেখা করে। পাশেই রয়েছে মিলন মন্দির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানেও প্রায় ৩৪০জন ছেলেমেয়ে লেখাপড়া করে। সকল ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয় পূর্ব সমাবেশ (এসেম্বলি), বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় দিবস ও ২৬ মার্চের স্বাধীনতা দিবসের প্যারেটের জন্য রয়েছে একটি খেলার মাঠ।
স্কুলের সামনে প্রধান সড়কের কাছে রয়েছে দেয়াল ঘেরা সাড়ে পাঁচ হাজার স্কয়ার ফুটের একটি খেলার মাঠ। মাঠের পশ্চিম প্রান্তে ছিল একটি শহীদ মিনার। গত ১৪ আগস্ট বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শারমীন মৌসুমি কেকা খেলার মাঠের প্রায় ২০০০ বর্গফুট জায়গায় দশটি স্টল নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজ প্রায় ২৫ ভাগ সমাপ্ত হয়েছে। স্টল নির্মাণ হলে ৬০ ফুট মাঠের অবশিষ্ট থাকবে মাত্র ৪৫ ফুট। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, ম্যানেজিং কমিটির সদ্য বিদায়ী সভাপতি শারমীন মৌসুমি কেকা অবৈধভাবে জোড় করে স্টল নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জনান, ৮টি স্টল কমিটির সভাপতি, প্রধান শিক্ষক, সরকার দলীয় কয়েকজন নেতা ও দুজন কাউন্সিলরের মধ্যে ভাগাভাগির চুক্তি হয়। এর মধ্যে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান তাপুর নামেও একটি স্টল বরাদ্দ করা হয়। স্টল নির্মাণের পুরো কাজ এই বিএনপি নেতাকে দিয়ে করানোর জন্য রেজুলেশন করেন সভাপতি।
বিদ্যালয়ের সিনিয়ির শিক্ষক গিতা রানী বলেন, শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়েছিল ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। কিন্তু এটা ভেঙে ফেলে আমাদের অনুভূতিতে আঘাতহানা হয়েছে। কথা ছিল, শহীদ মিনারটি নির্মাণের পরে স্টল নির্মাণ করা হবে, কিন্তু তা হয়নি।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদ্য বিদায়ী সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শারমিন মৌসুমী কেকা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্টল নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক যদি রাজি না থাকেন, তাহলে কিভাবে কোন ভাবেই স্টল নির্মাণ করা যেতো না। এখন এডহক কমিটি স্টল নির্মাণ ভেঙে ফেলতে পারে না, এডহক কমিটির এটা কাজ না। পৌরসভা আমাদের প্লান অনুমোদন দিয়েছে, তারাই আবার প্লান বাতিল করেছে। মেয়র সাহেব তাহলে প্লানে সই দিলেন কেন? আমরা স্কুলের বাচ্চাদের সুবিধার্থে এবং তাদের পড়ালেখার খরচ কমানোর জন্য স্টল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু এটা ষড়যন্ত্রকারীদের চোখে সইছে না।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং (এডহক) কমিটির সভাপতি গাজী সানাউল হক বলেন, সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে জোরপূর্বক স্টল নির্মাণের রেজুলেশন করেন সাবেক সভাপতি। এটা অনৈতিক কাজ, বিধায় আমরা নতুন করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি খেলার মাঠ ঠিক রাখার জন্য। খেলার মাঠ নষ্ট করে কোন স্থাপনা স্কুলে করতে দেওয়া হবে না।
ঝালকাঠি পৌরসভার মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার বলেন, পৌরসভায় যে কাগজপত্র দিয়ে প্লান নেওয়া হয়েছিল, তা সঠিক ছিল না। তাই প্লান বাতিল করা হয়েছে। অবৈধভাবে গড়ে তোলা স্টল ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

One response to “সুগন্ধা বালিকা বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে অবৈধভাবে নির্মিত স্টল ভেঙে দেয়া হয়েছে”

  1. Khedcype says:

    generic viagra review where do i buy viagra in sydney viagra with paypal payment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews