1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০৪:৪৪ অপরাহ্ন

আমরা ভাস্কর্য বা মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির জরুরি অবসান চাই —–হযরত নেছারাবাদী হুজুর

  • প্রকাশিত : শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৫২ বার পড়া হয়েছে
ঝালকাঠি: ভাস্কর্য নির্মাণকে কেন্দ্র করে নাস্তিকদের ষড়যন্ত্র ও পীর-মাশায়েখ-ওলামাদেরকে বিষোদগারের প্রতিরোধে প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আমীরুল মুছলিহীন হযরত মাওলানা মুহম্মদ খলীলুর রহমান নেছারাবাদী হুজুর।
ঝালকাঠি: ভাস্কর্য নির্মাণকে কেন্দ্র করে নাস্তিকদের ষড়যন্ত্র ও পীর-মাশায়েখ-ওলামাদেরকে বিষোদগারের প্রতিরোধে প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আমীরুল মুছলিহীন হযরত মাওলানা মুহম্মদ খলীলুর রহমান নেছারাবাদী হুজুর।

খবর বিজ্ঞপ্তির
‘আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, রাজধানীর ধোলাইপাড় মোড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাহেবের ভাস্কর্য নির্মাণকে কেন্দ্র করে দেশ আজ স্পষ্টত দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে-যা জাতীয় ঐক্য-সংহতি ও ধর্মীয় অনুভ‚তির ক্ষেত্রে মারাত্মক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত বহন করে।’ শুক্রবার (২৭শে নভেম্বর শুক্রবার সকাল ১১টায়) ঝালকাঠি নেছারাবাদে ভাস্কর্য নির্মাণকে কেন্দ্র করে নাস্তিকদের ষড়যন্ত্র ও পীর-মাশায়েখ-ওলামাদেরকে বিষোদগারের প্রতিরোধে অনুষ্ঠিত মিছিল ও প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হযরত কায়েদ ছাহেব হুজুর রহ.-এর একমাত্র ছাহেবজাদা আমীরুল মুছলিহীন হযরত মাওলানা মুহম্মদ খলীলুর রহমান নেছারাবাদী হুজুর এ কথা বলেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা গাজী মুহম্মদ শহীদুল ইসলাম, ঝালকাঠি কুতুবনগর মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা কাজী আব্দুল মান্নান, মুছলিহীন সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা মাসুম বিল্লাহ আযীযাবাদী, নেছারাবাদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতীব মাওলানা মুহম্মদ আব্দুল কাদির মাদানী, বিশিষ্ট মুহাদ্দেস হযরত মাওলানা আবু হানীফা, মুহতারম আযীযুর রহমান তাকী (ছদর ছাহেব), মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ নেছারী প্রমূখ।
হযরত নেছারাবাদী হুজুর আরো বলেন ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাহেব স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি। তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণ এবং উত্তর প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সৃষ্টিকারী যে কোনো ধরনের ভাস্কর্য ও স্থাপনা নির্মাণে কারো আপত্তি থাকতে পারে না। কিন্তু কথা হচ্ছে সেই ভাস্কর্য মূর্তি কিনা। যদি তা মূর্তির আদল পায়, তবে তা নিঃসন্দেহে ইসলামী শরীয়তে হারাম এবং শের্ক-এর অন্তর্গত। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, নেছারাবাদ, ছারছীনা, চরমোনাই, হাটহাজারী মাদরাসার দারুল ইফতা বা গ্রহণযোগ্য কোনো মুফতি থেকে ফতোয়া সংগ্রহ করা যেতে পারে। এমনকিছু করবেন না যা মুসলিম পরিচয়ের পরিপন্থী।’

নাস্তিকদের ষড়যন্ত্র ও পীর-মাশায়েখ-ওলামাদেরকে বিষোদগারের প্রতিরোধে প্রতিবাদ

নাস্তিকদের ষড়যন্ত্র ও পীর-মাশায়েখ-ওলামাদেরকে বিষোদগারের প্রতিরোধে প্রতিবাদ

আমীরুল মুছলিহীন হযরত নেছারাবাদী হুজুর বলেন, ‘ব্রিটিশ আমল থেকেই বিরামহীনভাবে তৌহীদের দ্বীপ বাংলাদেশকে কুফরির সমুদ্রে বিলীন করার চক্রান্ত চলছে। একটি চিহ্নিত নাস্তিক্যবাদী মহল সরকারের বাইরে কিংবা অভ্যন্তরে লুকিয়ে থেকে কখনো সংস্কৃতির নামে, কখনো রাষ্ট্রের প্রয়োজনের নামে, কখনো ভাস্কর্য-সৌন্দর্যের নামে এমনকিছুর আমদানি করছে যা জাতীয় অস্তিত্ব ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এরা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থে যখন যেমন প্রয়োজন তখন তেমন করেই সরকার কিংবা বিরোধীদের, হিন্দুর কিংবা মুসলমানের, উপজাতির কিংবা বিদেশীদের বন্ধু সেজে দলে-দলে, ধর্মে-ধর্মে, জাতিতে-জাতিতে সুকৌশলে সংঘাত লাগিয়ে দেশের অভ্যন্তরে যেমন গোলযোগ সৃষ্টি করছে, তেমনি দেশীয় সংস্কৃতির বিলোপ ঘটিয়ে সীমান্তরেখা মুছে ফেলার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে বঙ্গভ‚মির দালালী করে যাচ্ছে। কিন্তু আল্লাহ পাকের শোকর যে, আমাদের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দূরদর্শী নেতৃত্বে আজও আমাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাহেবের পর তার যোগ্য উত্তরসূরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বেও ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র প্রতিবারই নস্যাৎ হয়েছে, আশাকরি এবারেও নস্যাৎ হবে। সর্বজনশ্রদ্ধেয় নেতা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান ছাহেব ধর্মপ্রাণ হওয়া সত্ত্বেও কেন তাকে অমুসলিম চেতনার মধ্যে গুলিয়ে ফেলার দুরভিসন্ধি চলছে তা অনুধাবন পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার ব্যর্থ হলে সকলকেই এর খেসারত দিতে হবে, আল্লাহ তায়ালার লা’নত থেকে রক্ষা পাবো না আমরা কেউই।’
আমীরুল মুছলিহীন বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি যে, আমরা কোন ব্যক্তি কিংবা দলের অন্ধ-সমর্থক ও অন্ধ-বিরোধী নই বরং আওলিয়ায়ে কেরামের অনুসৃত নীতি মোতাবেক এসলাহে হুকুমতের নিমিত্ত যতোটুকু সম্ভব নিয়মতান্ত্রিক রাহনোমায়ীর চেষ্টা-সাধনা করি। হেফাযত, চরমোনাই বুঝি না এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়, মাওলানা মামুনুল হক ও চরমোনাইর পীর ছাহেবের প্রতি যারা অবমাননাকর আচরণ করেছে তারা দেশ-জাতি-ইসলামের শত্রু, তাদের ধিক্কার জানাই। সরকার বুঝে হোক, না বুঝে হোক বা নাস্তিকদের খপ্পরে পড়ে হোক ভাস্কর্যের নামে যে কর্মসূচি নিয়েছে তা নিঃসন্দেহে দেশের আপামর মানুষের মনে বেদনা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ষড়যন্ত্রকারীরা ভাস্কর্যকে তাদের নীলনকশা বাস্তবায়নের হাতিয়ার বানিয়েছে, এটা বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধার ছদ্মাবরণে হীন-স্বার্থ চরিতার্থের এক ভয়ানক খেলা বৈ কিছু নয়। আমরা জানিয়ে দিতে চাই, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান নির্বিশেষে এদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ। জনবিচ্ছিন্ন গুটিকয়েক নাস্তিকের বিষোদগারে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখদের কিছুই হবে না। যারা গণমানুষের অনুভ‚তিকে মূল্যায়নে ব্যর্থ হবে তারাই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। আমরা যা বলছি তা কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে নয় বরং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের স্বার্থে এবং যে ম্যান্ডেট দিয়ে সরকার গঠিত হয়েছে তা প্রতিফলনে কুরআন-সুন্নাহর কথাই বলছি।’

হযরত নেছারাবাদী হুজুর বলেন, ‘আমরা ভাস্কর্য বা মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির জরুরি অবসান চাই। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে তৎপরতা চলছে। নিজস্ব পরিমণ্ডলে, দলগত পর্যায়ে তাদের এ খেদমতের অপরিসীম মূল্য রয়েছে বটে, তবে
সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পরিবর্তন তথা ধর্মদ্রোহী নাস্তিকদের ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তি পেতে হলে সমগ্র বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টাকে সম্মিলিত বেগবান ধারায় পরিণত করতে দল-মত-ছেলছেলা নির্বিশেষে সকল দেশপ্রেমিককে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে; অন্যথায় নাস্তিকরা একাট্টা হয়ে যেভাবে ১৬কোটি মানুষের দাবি ও অনুভূতিকে অবজ্ঞা করছে তাতে গণমানুষ হবে উপেক্ষিত, অস্তিত্ব সংকটে নিপতিত হবে গোটা দেশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews