রোগীদের সেবায় কাঁঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগের দাবী

0
197
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

মো. আতিকুর রহমান / ফারুক হোসেন খান
১৯৬৩ সালে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে যাত্রা শুরু হয় ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ার আমুয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। হাসপাতালটি উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ৫০ শয্যা রয়েছে। হাসপাতালটিতে ২০ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও ১০টি, ২৩ জন নার্সের ৬টি পদ ও ওয়ার্ড বয় ৩টি পদের ৩টিই শূন্য রয়েছে। এছাড়াও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) ২ জন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওলজি) ১জন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) ১ জন, ফার্মাসিস্ট ৪ জন না থাকার কারণে প্যাথলজিক্যাল কোন পরীক্ষা করানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া এক্স-রে, আলট্রাসোনাগ্রাফিসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা না হওয়ার ফলে যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পরেছে এবং প্রতি বছর যে সকল নতুন যন্ত্রপাতি বরাদ্দ হয় তা জনবল না থাকার কারণে ফেরৎ দেয়া হয়। তাছাড়া হাসপাতালে ১ জন করে পরিসংখ্যানবিদ, স্টোর কিপার, জুনিয়র মেকানিক ও অফিস সহকারী ৩টি পদের ২ জনই শূন্য রয়েছে ।
এছাড়া হাসপাতালে আয়া ২টি পদের মধ্যে ২ জন, কুক (বাবুর্চি) ২টি পদের ২জন, এমএলএসএস ৬টি পদের ৪ জন, গার্ড ২টি পদের ১জন ও সুইপার ৫টি পদের ৩টি পদ দীর্ঘদিন যাবৎ শূন্য রয়েছে। যার কারণে বিভিন্ন রোগীরা রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে হাসপাতালের আশে পাশে থাকা বেসরকারি ক্লিনিকের উপর নির্ভর হয়ে পড়ছে, যা গরীব রোগীর ক্ষেত্রে খুবই কষ্টকর।
উপজেলার হেতালবুনিয়া গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এতবড় সরকারি হাসপাতালে রোগী দেখা ছাড়া কোন পরীক্ষা সম্ভব হয় না, অথচ ছোট্ট একটা ক্লিনিকে রোগীর সিজার থেকে সকল পরীক্ষা সম্ভব। কিন্তু কেন? এটা বুঝে উঠতে পারছি না।
এ বিষয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তাপস কুমার তালুকদার বলেন, সেবা শতভাগ দেয়ার ইচ্ছা থাকলেও জনবল না থাকার কারণে সেটা সম্ভব হয় না, জরুরিভাবে বাহির থেকে লোকজন এনে নিজেদের অর্থায়নে কাজ করে দিন অতিবাহিত করছি এবং দিনরাত পরিশ্রম করে যতটুকু সম্ভব আমি ও আমার সহকর্মীরা রোগীর সেবা দেয়ার চেষ্টা করি।
তবে এ হাসপাতালটিতে উল্লেখযোগ্য সেবার মধ্যে রয়েছে দেশের বিভিন্ন খ্যাতনামা হাসপাতালের ডাক্তারের সাথে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রোগীর সেবা প্রদান। এছাড়াও রোগীদের বিভিন্ন সেবাসহ এ্যান্টিবায়টিক ঔষধসহ নানা ধরনের ঔষধ বিতরণ করা হয়। তবে দ্রুত এ সকল শূন্য পদ পুরণের মাধ্যমে হাসপাতালের সকল দুর্ভোগ দুর্দশা দূর হবে, ও গরীব রোগীরা সঠিকভাবে সুচিকিৎসা পাবে এ প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here