1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন

ঝালকাঠিতে নারীর চুল কেটে নির্যাতন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার দাবি

  • প্রকাশিত : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ২২৪ বার পড়া হয়েছে
নির্যাতনের শিকার পারভীন আক্তার
ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নির্যাতনের শিকার পারভীন আক্তার।

স্টাফ রিপোর্টার
ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগ নেত্রী ও বিএনপি নেতা মিলে এক নারীর চুল কেটে রাতভর নির্যাতন শেষে ছবি তুলে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি বলে অেিভযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন নির্যাতনের শিকার পারভীন আক্তার। আসামিরা মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়ায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিও জানান তিনি। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজীপির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিত ওই নারী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পারভীন আক্তার জানান, শহরের পূর্ব চাঁদকাঠি এলাকার বোরহান উদ্দিন খান তাঁর প্রথম স্ত্রী সেলিনা আক্তার লাকিকে এক বছর আগে তালাক দেন। পরে তিনি গত ১০ জুলাই পারভীন আক্তারকে বিয়ে করেন। তাঁরা শহরের কৃষ্ণকাঠি জেলা পরিষদের সামনে কাদের কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় একটি ফ্লাট ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় প্রথম স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের লোকজন। গত ৩০ আগস্ট সন্ধায় তাঁর স্বামী বোরহান উদ্দন খানের প্রথম স্ত্রী সেলিনা আক্তার লাকি, তাঁর ভাই ঝালকাঠি শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান তাপু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শারমিন মৌসুমি কেকা, তাপুর বোন সেলিনা আক্তার লাকি ও আইরীন পারভীন এ্যানি, রাখি আক্তার এবং ফাতেমা শরীফসহ ১০-১২ জন তাদের বাসায় যায়। ভেতরে ঢুকেই তারা অতর্কিতভাবে তাকে (পারভীন আক্তারকে) মারধর শুরু করে। তাঁরা ওয়্যারড্রব ভেঙে দুই লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটে নেয়। পরে তাকে জোড়পূর্বক অপহরণ করে শহরের বিআইপি সড়কের হিলটন নামে আবাসিক হোটেলে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখে। রাতভর তাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে চুন লাগিয়ে দেয়। নির্যাতন শেষে ওই নারীর চুল কেটে দেয় তারা। এ ঘটনার ছবি তুলে রাতেই ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে কয়েকটি সাদা কাগজে সই নিয়ে তাঁর ভাই নুরুজ্জামান হাওলাদারকে ফোন করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ চায় আসামিরা। পরের দিন দুপুরে মুক্তিপণের টাকা দিলে নির্যাতিত নারীকে প্রায় অচেতন অবস্থায় ছেড়ে দেয় আসামিরা। এ ঘটনায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ নির্যাতিত নারী পারভীন আক্তার (৩০) বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. শহিদুল্লাহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এজাহার গ্রহণের নির্দেশ দেন। পাশাপশি বাদীর সম্পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদানের আদেশ দেন। রাতেই পুলিশ মামলা রেকর্ড করলেও এখন পর্যন্ত কোন আসামি গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামিদের গ্রেপ্তার ও তাকে নিরাপত্তা প্রদানের দাবী জানিয়েছেন পারভীন আক্তার। সংবাদ সম্মেলনে পারভীনের দুই বোন নাসরিন বেগম ও কহিনুর বেগম উপস্থিত ছিলেন।
পারভীন আক্তার অভিযোগ করেন, মামলা তুলে না নিলে আমার স্বামীর নামে মিথ্যা মামলা করার হুমকি দিচ্ছে তাপু ও কেকা। তাপুর বোন জামাতা মিজানুর রহমান নারায়ণগঞ্জের একজন যুগ্ম কর কমিশনার। তাকে দিয়ে আমার স্বামী ও আমাদের বাড়িওয়ালা কাদের মিয়াকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। ব্যবসা-বাণিজ্য করতে হলে তাঁদের কথা শুনে মামলা তুলে নিতে হবে বলেও হুমকি দিচ্ছেন মিজানুর রহমান। পাশাপাশি আমার স্বামীর প্রথম স্ত্রীও এখন ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করার পায়তারা করছেন। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিপির হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খলিলুর রহমান বলেন, একাধিক আসামির বাসায় অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের কাউকে বাসায় পাওয়া যায়নি। বাদীকে নিরাপত্তার জন্য আদালতের আদেশ আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। বাদীর সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews