1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০১:১১ পূর্বাহ্ন

নলছিটির সুবিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরের দ্বন্দ্বে পরিষদে অচলাবস্থা

  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২০
  • ১৬৮ বার পড়া হয়েছে
ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরের দ্বন্দ্ব

মো. আতিকুর রহমান
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে মেম্বরদের দ্বন্দ্বে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই ইউনিয়নের বাসিন্দারা তাঁদের নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নাগরিক সেবা নিতে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে বাসিন্দাদের মধ্যে।
চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান সিকদার ও মেম্বরদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। গত ১৬ আগস্ট এর প্রকাশ্য রূপ নেয়। ইউপি সদস্যরা জেলা প্রশাসক বরাবর চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থাপত্র প্রদান করেন। চেয়ারম্যান সাংবাদিক সম্মেলন করে ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। একারণে বর্তমানে পরিষদ অচল অবস্থায় রয়েছে। কোন জনপ্রতিনিধির আনাগোনা না থাকলেও সেবাগ্রহিতারা পরিষদে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন।
জানাগেছে, নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাত ও অশালীন আচরণের অভিযোগে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মান্নান সিকদারের বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছেন ইউপি সদস্যরা। রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে ১০ জন ইউপি সদস্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরে অনাস্থা প্রদান করেন। জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী তাদের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করে তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান।
ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করেন, সুবিদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান সিকদার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছেন। সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ইউপি সদস্যদের ভয় দেখিয়ে প্রকল্প বানিয়ে রেজুলেশনে সই নিতেন। অথচ প্রকল্পের কোন কাজ না করেই লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেন ইউপি চেয়ারম্যান। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের পুরনো ভবন ভাড়া দিয়ে তিন লাখ টাকা নিজের পকেটে নিয়েছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে কথা বললে সদস্য পদ থেকে বরখাস্তের ষড়যন্ত্র, হামলা, মামলা ও মেওে ফেলার হুমকি দিতো চেয়ারম্যান। অবশেষে পরিষদের সকল সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি রুখে দিতে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা দেন। জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিতে আসেন প্যানেল চেয়ারম্যান মানছুর খান, ফিরোজ আলম সোহাগ, ইউপি সদস্য আমানুর রহমান সুমন, শাহ আলম হাওলাদার, রেজাউর রহমান রেজা, আবদুল জলিল মৃধা, মিজানুর রহমান, লাভলী বেগম ও রাফিকা বেগম।
সুবিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মানছুর খান বলেন, আমরা অনেক সহ্য করেছি, চেয়ারম্যান আমাদের নানাভাবে হয়রানি করছে। তাঁর বিরুদ্ধে কথা বললেই হুমকি আসে। এলাকায় কোন উন্নয়ন হয়নি। মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি, কিছুই করতে পারিনি শুধু চেয়ারম্যানের দুর্নীতির কারণে। নলছিটি উপজেলায় মন্নান চেয়ারম্যানের মতো দুর্নীতিবাজ আর কোন চেয়ারম্যান নেই। তাই তার অপসারণ দাবি করছি।
অপরদিকে ইউপি সদস্যদের (মেম্বার) অবৈধ আবদার না রাখায় নানামুখী ষড়যন্ত্র ও হত্যা পরিকল্পনার অভিযোগ এনে নলছিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সুবিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান সিকদার। রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘কতিপয় ইউপি সদস্য অবৈধ সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে না পেরে আমার বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা বিভিন্ন প্রকল্প থেকে অন্যায়ভাবে আর্থিক সুবিধা ও দুর্নীতির আশ্রয় নিতে চাইলে আমি তাতে রাজি না হওয়ায় আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও ব্যক্তিগত সম্মানহানী করার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে রয়েছে নির্বাচনে পরাজিত হওয়া প্রার্থীরা। এদের মধ্যে একজন ঢাকায় অবৈধ সিলসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে জেলও খেটেছেন। এখন তিনি এলাকায় এসে ইউনিয়নকে আশান্ত করতে নগ্ন খেলায় মেতে উঠেছেন।
তিনি আরো বলেন, ‘এ চক্রের আরেকজন ইতিমধ্যে দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন। তাকে ইউপি সদস্য পদ থেকে বরখাস্ত করেছে স্থানীয সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।’ তিনি বলেন, ‘ওই চক্রটি সম্পূর্ণ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে কল্পকাহিনী সাজিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করেছে। সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট, ইউনিয়নে উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্ত ও তাদের অবৈধ আবদারকে মেনে নিতে বাধ্য করাই এ ষড়যন্ত্রের মূল কারণ।’
সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান মান্নান সিকদার ইউনিয়ন পরিষদ সংক্রান্ত সকল অভিযোগ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানান।
তবে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও হত্যা পরিকল্পনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মানছুর খান। তিনি বলেন, ‘এলাকার সাধারণ জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। আমাদের মেম্বারি করে লাভ কি? তাই আমরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছি।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews