1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন

সংস্কারের অভাবে উত্তরকিস্তাকাঠি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ

  • প্রকাশিত : শনিবার, ২ মে, ২০২০
  • ৪৬১ বার পড়া হয়েছে

মোঃ আতিকুর রহমান
ঝালকাঠি উত্তর কিস্তাকাঠি আবাসন প্রকল্প ২০০৭ সালে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৬৫ একর খাস জমিতে গড়ে তোলা হয়। নির্মাণ করা হয় ৪৫০টি ঘর। যা বরাদ্দ দেয়া হয় নিম্ন আয়ের ভূমিহীন পরিবারকে। তবে নির্মাণের একযুগ পার হলেও সংস্কার করা হয়নি একটি ঘরও। ফলে টিনের চালায় ধরেছে মরিচা, পিলারগুলো থেকে খসে পড়েছে পলেস্তোরা। শীত আর বর্ষায় দুর্ভোগের সীমা থাকে না বাসিন্দাদের। দুয়েকটি পরিবার নিজেরা মেরামত করলেও বাকিদের পক্ষে তা সামর্থ্যরে বাইরে থাকায় সম্ভব হয় না। প্রতিটি ঘরে নতুন চালা দিয়ে তা বসবাসের উপযোগী করার দাবি আবাসনের বাসিন্দাদের।
জানাগেছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রতিটি ঘরের চালের ২টি করে টিন বদলে দেয় সদর উপজেলা প্রশাসন। যেখানে ঘর প্রতি ৩ বান টিনের প্রয়োজন সেখানে বাসিন্দাদের কাছে সরকারিভাবে হস্তান্তরের ১২ বছরে এই সংস্কার খুবই সামান্য। অনেক বাসিন্দাই আশ্রয়ণ কেন্দ্র ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বাধ্য হয়ে যারা বসবাস করছেন তাদের ভোগান্তির শেষ নেই।
সদর উপজেলা ত্রাণ পুনর্বাসন কার্যালয় ও সদর ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠিতে ২০০৭ সালে উত্তর কিস্তাকাঠি মৌজায় ৬৫ একর জমিতে ৩টি ব্যারাকে ৪৫০টি ঘর নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্প-১ এ ২৫০টি, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এ ১৪০টি ও আশ্রয়ণ প্রকল্প-৩ এ ৬০টি বাস্তুহারা পরিবারকে ৪৫০টি ঘরের সাথে পৌনে ২শতাংশ করে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়। তৎকালিন তত্বাবধায়ক সরকারের সময় সেনাবাহিনী এ ঘরগুলো নির্মাণ করে দেয়। ব্যারাকগুলো নির্মাণের পর থেকে আজ পর্যন্ত আক্ষরিক অর্থে সংস্কার করা হয়নি। ১৭-১৮ অর্থ বছরে উপজেলা ত্রাণ পূনর্বাসন কার্যালয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অফিসের সহায়তায় জেলার সকল আবাসন প্রকল্প সংস্কারের জন্য একটি প্রাক্কলীন বাজেট মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সে অনুযায়ী ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে। সেই টাকা দিয়ে ঘর প্রতি দুটি করে টিন বরাদ্দ দেয়া হয়।
আবাসন প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, এখানকার বাসিন্দারা দূর্বিসহ জীবন যাপন করছেন। ঘরের শত ছিদ্র চালগুলো মরিচা পরে নষ্ট হওয়ায় পলিথিন দিয়ে বর্ষার পানি ও শীতের হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে বাসিন্দারা। পিলারের পলেস্তারা খসে পরে মরিচা পরা রড বেরিয়ে গেছে। প্রতি দশটি পরিবারের জন্য ২টি শৌচাগার ও ২টি করে গোসলখানা বরাদ্দ আছে। শৌচাগারগুলো অনেক আগেই ব্যবহারের অযোগ্য। শৌচাগারের রিংগুলো ভরে যাওয়ায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ব্যারাকে কোন নর্দমা না থাকায় ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানি বাসিন্দাদের ব্যবহৃত পুকুরে পরছে। এ কারণে এখানে জনস্বাস্থ্য হুমকীর মুখে। আর্থিক সংগতি না থাকায় এ সকল গরিব অসহায় মানুষগুলো সংস্কার না করেই দিনের পর দিন পরিবার নিয়ে আবাসনে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।
এ বিষয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মরিয়ম বেগম, কোহিনুর বেগম, আ. মজিদ হাওলাদার, নরুজাহানি বেগম ও মুকুলি বেগম বলেন, প্রচন্ড শীতে নির্ঘুম কাটাতে হয়। আবার বর্ষা এলে বিছানা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভেজার ভয়ে আতঙ্কে থাকি। গত বছর ঘরের মাত্র দুটি টিন বদলে দিয়েছে প্রশাসন। কিন্তু ঘরের চালা পাল্টাতে কম করে হলেও তিন বান টিনের দরকার।
এ বিষয়ে উত্তর কিস্তাকাঠি আবাসন প্রকল্প সমবায় সমিতি-১ এর সাধারন সম্পাদক মন্টু খলিফা বলেন, আবাসন প্রকল্পগুলো হস্তান্তরের দুই বছর পর একবার কর্তৃপক্ষ টিনের চালার দুটি টিন বদলে দিয়েছে। আমরা বিভিন্ন সময় আবাসনের এসব সমস্যার কথা কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অনেক সময় বিভিন্ন কর্মকর্তা আবাসনে পরিদর্শনে এসে সংস্কারের কথা বললেও তা হয়নি।
এ প্রসঙ্গে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, কিস্তাকাঠি আবাসন প্রকল্প অনেক পুরোনো। তাই প্রতিটি ঘরের চাল পরিবর্তন করে নতুন টিন না দিলে সমস্যার সমাধান হবেনা। প্রকল্পের বাসিন্দারা গরীব বিধায় সরকারীভাবে এর সংস্কার করা উচিৎ। এ বছর আবারও সংস্কারের জন্য চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোজিনা আক্ত্রা বলেন, আবাসন অনেক বড় একটা এরিয়া নিয়ে। সাড়ে ৪শ ঘরে ৪ হাজারেরও অধিক জনসংখ্যা রয়েছে। ওই ঘরগুলো খুব জরাজীর্ণ হওয়ায় মেরামত করাও খুবই জরুরী। দেশের অবস্থা স্বাভাবিক হলেই মেরামত করে বসবাসের উপযোগী করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews