করোনা দুর্যোগে ঝালকাঠির খামারিরা আর্থিক সংকটের সঙ্কায়

0
192
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার খামারী সৈয়দ এনামুল হক পশু পরিচর্যায়।

মানিক রায়
করোনা মহামারির কারণে ঝালকাঠির খামারিরা কোরবানিতে চরম আর্থিক সংকটে পড়ার আশংকা করছেন। সারা বছরের পরিশ্রমের ফল হিসেবে লাভের আশা থাকলেও এবারের করোনা পরিস্থিতি তাদের সে আশা নিরাশায় পরিণত হচ্ছে। তবে, প্রাণি সম্পদ বিভাগ বলছে ভিন্ন কথা, খামারিরা ঈদের পরেও এসব পশু বিক্রি করতে পারবেন, ফলে তাদের আশংকা অনুযায়ী লোকশান হবে না। অপরদিকে অনলাইনে হাটবসানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রাণি সম্পদ বিভাগ। তবে এখন পর্যন্ত এ হাটের কোন সারাই পাচ্ছেন না বিক্রেতারা। নতুন এ পদ্ধতিতে ক্রেতা-বিক্রেতা কেহই আগ্রহী নন।
ঝালকাঠিতে আসন্ন ঈদুল আযহায় পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার। জেলায় ১২৩০টি খামর এবং পারিবারিকভাবে লালন পালনকৃত পর্যাপ্ত সংখ্যক পশু প্রস্তত রয়েছে। এসব পশু কোরবানি উপযোগী মোটাতাজা করণে খড়, দানা, শস্য, বিশেষ করে গম, খৈল, ভুষি এবং কাঁচা ঘাস খাওয়ানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন করোনা থাকায় গো-খাবার, ঔষধ, কিটনাশক, পরিবহন ও লেবার মুজুরি অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। তাই অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর গরু তৈরিতে খরচ হয়েছে অনেক বেশি। খামারিরা ব্যাংক ঋণের সাহায্যে অর্থের সংস্থান করে এসব খামার গড়ে তুলেছেন। সারা বছরের পরিশ্রমের ফল হিসেবে লাভের আশায় থাকলেও এবারের করোনা পরিস্থিতি তাদের সে আশাপুরণ হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার উত্তর পিংড়ী এলাকার সৈয়দ এগ্রো ফার্মের মালিক সৈয়দ এনামুল হক কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ৬০টি গরু ও ৭০টি ছাগল কিনে প্রায় এক বছর ধরে লালন-পালন করে বিক্রি উপযোগী করে তুলেছেন। তার আশা এবারে কোরবানীতে ৪০টি গরু ও ৫০টি ছাগল বিক্রি করে ব্যাংক ঋণ পরিশোধের পরে ভাল মুনাফা পাবেন। তবে করোনায় তার এ লক্ষ্য অর্ধেকও পুরণ হবে না বলে জানান। একই অবস্থা জেলার অন্যান্য খামারিদেরও।
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে কোরবানীর ঈদে হয়তো আশানারুপ পশু বিক্রি নাও হতে পারে। তবে বিক্রি উপযোগি পশুগুলো কোরবানীর পরেও বিক্রি করা যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here