কাঁঠালিয়ার ছৈলারচরকে পুর্ণাঙ্গ পর্যটন সুবিধার দাবীতে মানববন্ধন

0
133
ঝালকাঠি: কাঁঠালিয়ায়ার ছৈলারচরকে পুর্ণাঙ্গ পর্যটন সুবিধা প্রদানের দাবীতে মানববন্ধন।
ঝালকাঠি: কাঁঠালিয়ায়ার ছৈলারচরকে পুর্ণাঙ্গ পর্যটন সুবিধা প্রদানের দাবীতে মানববন্ধন।

ফারুক হোসেন খান
উপকূলীয় জেলা ঝালকাঠির দক্ষিণ জনপদ কাঁঠালিয়ার বিষখালী নদীর তীরে প্রকৃতির অপরুপ লীলাভূমি ছৈলারচরকে পুর্ণাঙ্গ পর্যটন সুবিধা প্রদানের দাবীতে মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার বিকেলে সামাজিক আন্দোলন কাঁঠালিয়া নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এর আয়োজন করে। মানববন্ধন শেষে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অমিত হাসান তুহিন সিকদার, উপদেষ্টা নাসিম মীরবহর ও মো.কামাল হোসেন। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আরিফুল ইসলামের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও রয়েছে নানা সংকট। তবু সেই সংকট উপেক্ষা করেই প্রকৃতির নয়নাভিরাম এই ছৈলার চর পর্যটকের মিলন মেলায় পরিণত হচ্ছে। পৃষ্টপোষকতা পেলে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বিষখালীর বুক চিরে জেগে ওঠা ছৈলার চর।
জানা যায়, বঙ্গোপসাগর থেকে মাত্র সত্তর কিলোমিটার নিকটবর্তী ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের হেতালবুনিয়া মৌজায় বিষখালী নদীতে এক যুগেরও আগে ৭০ একর জমি নিয়ে জেগে উঠেছে এক বিশাল চর। যেখানে রয়েছে লক্ষাধিক ছৈলা গাছ। আর ছৈলা গাছের নাম থেকেই জেগে ওঠা এ চরের নামকরণ করা হয়েছে ‘ছৈলার চর’। শীতের সময় শুকনো চরে গহীন অরণ্য, চারপাশে নদী ঘেরা যেন ছৈলা বনের দ্বীপ। আর সেখানে লাখ ছৈলা গাছে পাখিরা বেঁধেছে নীড়। শালিক, ডাহুক আর বকের সারি। ছৈলা ছাড়াও এখানে কেয়া, হোগল, রানা, এলি, মাদার, আরগুজিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছে ঘেরা। তাই পাখির কিচিরমিচির ডাক সব সময়। ভ্রমন পীপাষুদের প্রতিদিনের পদচারণায় এখন মুখরীত ছৈলার চর। কাঁঠালিয়া লঞ্চঘাট থেকে নৌপথে যেতে হয় ছইলার চরে। আমুয়া বন্দর থেকেও ট্রলারে কিংবা অন্য যেকোন নৌযানে যাওয়া যায়। সড়ক পথে হেতালবুনিয়া আলিম মাদ্রাসার সামনে কেল্লা পর্যন্ত যাওয়া যায়। পর্যটন এলাকাকে ঘিরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রেস্ট হাউজ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। উপজেলা পরিষদ থেকে এখানে ঘাটলা, গভীর নলকূপ, বাথরুম এবং একটি সেট তৈরী করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ছৈলার চরে পর্যটকদের সুবিধার্থে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ছৈলার চরটি পর্যটন সম্ভাবনার হাতছনি, এখানে পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা তৈরি করতে ইতোমধ্যেই পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে আবেদন জানানো হয়েছে।
ছৈলার চরে ঘুরতে আসা দর্শানার্থী মো.আমিনুল ইসলাম জমাদার জানান,অনেক দৃষ্টি নন্দন এই ছৈলারচর। প্রকৃতিকভাবে এখানে ছইলার বনের সৃষ্টি যা বিষখালী নদীর তীরবর্তী অপুর্ব নৈসগিক। এখানে পর্যটনের অপার সম্ভবনা আছে। সরকারিভাবে যদি এখানে পিকনিক স্পট গড়ে তোলা যায় তাহলে সরকার এখান থেকে রাজস্ব খাতে আয় সম্ভব।
কাঁঠালিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো.রবিউল ইসলাম কবির সিকদার বলেন, প্রকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা ছৈলার বনভূমি প্রকৃতির অপার সম্ভবনাময়। এখানে প্রচুর মানুষজন ঘুরতে আসেন। পাখির নিরাপদ আবাসস্থল। এখানে পর্যটনের সম্ভবনা থাকলেও এখন পর্যন্ত সরকারি কোন ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। এখানে শীত মৌসুমে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ পিকনিক করতে আসে। অবকাঠামোগত কিছু না থাকায় সরকার রাজস্ব পাচ্ছেনা। এটি যদি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায় তবে সরকারে রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে।
এ ব্যাপারে কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুফল চন্দ্র গোলদার বলেন, ২০১৫ সালে ছৈলারচর স্থানটি পর্যটন স্পট হিসেবে চি‎হ্নিত করে, পর্যটন মন্ত্রাণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে সেট, গভীর নলকূপ ও ঘাটলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here