1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০২:১৮ অপরাহ্ন

ঝালকাঠির কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক পরিবারে নীরব দুর্ভিক্ষ

  • প্রকাশিত : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২০
  • ১৭৫ বার পড়া হয়েছে
কিন্ডারগার্টের নীরব দুর্ভিক্ষ
কিন্ডারগার্টের নীরব দুর্ভিক্ষ

মোঃ আতিকুর রহমান
করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে ঝালকাঠির কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোও। স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীর বেতন আদায় করতে না পেরে বাড়িভাড়া পরিশোধ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের মালিকের। এ দুর্যোগ মুহুর্তে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দিচ্ছে না প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা। এতে করে ব্যক্তি মালিকানাধীন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ছুটি আরো দীর্ঘ হলে স্কুল টিকবে কি-না, তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। আর বন্ধের কারণে মালিকরা বেতন দিতে না পারায় শিক্ষকরা সরকারি সহায়তার দিকে চেয়ে থাকলেও পাননি কোন প্রণোদনা। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকদের পরিবারে চলছে নীরব দুর্ভিক্ষ। এসব শিক্ষকদের সহায়তায় কেউ এগিয়ে না আসায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের।
ঝালকাঠি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে জেলার কিন্ডারগার্টেনের সঠিক কোন পরিসংখ্যান না থাকলেও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলায় ২টি পৌরসভা এবং ৪টি উপজেলায় অর্ধশতাধিক বেসরকারী শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল রয়েছে দুইটি এবং কিন্ডারগার্টেন ও সমমানের স্কুল রয়েছে ১২টি। নলছিটি উপজেলায় কিন্ডারগার্টেন সমমানের স্কুল রয়েছে ২৩ টি। রাজাপুর উপজেলায় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল রয়েছে ১টি এবং কিন্ডারগার্টেন ও সমমানের স্কুল রয়েছে ৮টি। কাঠালিয়া উপজেলায় কিন্ডারগার্টেন ও সমমানের স্কুল রয়েছে ১২টি। তবে প্রত্যেক উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, তাদের তালিকায় নুরানি মাদরাসা অথবা নুরানি কিন্ডারগার্টেন অন্তর্ভুক্ত নেই।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলায় কিন্ডারগার্টেনের সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে। এসব প্রতিষ্ঠান কারা পরিচালনা করছে, প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কী, শিশু শিক্ষার্থীদের কী শেখানো হচ্ছে এবং এমনকি দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য, কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার চেতনা পরিপন্থী কারিকুলাম পাঠদান করা হচ্ছে কিনা তাও দেখভালের কেউ নেই। অল্প বেতনে মোটামুটি শিক্ষিত যাকে পাচ্ছে তাকে দিয়েই পাঠদান করানো হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সঠিক কোনো পরিচালনা কমিটি নেই। কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠা করেই স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী এক ব্যক্তিকে সভাপতি পরিচয় দিয়ে প্রতিষ্ঠাতারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের সরকারি অনুমোদন নেই। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায় এবং সরকারিভাবে তাদের বিনামূল্যের পাঠ্যবইও সরবরাহ করা হয়। নিজেদের টাকা খরচ করে প্রতিষ্ঠাতারা এসব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় বর্তমানে এদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
ঝালকাঠি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ রুস্তম আলী বলেন, ঝালকাঠি জেলা শহরসহ প্রত্যন্ত এলাকায় অনেক কিন্ডারগার্টেন গড়ে উঠেছে। যেখানে সরকারি নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা নেই। কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার কাঠামোও জানেন না। শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় নয় বেশিরভাগ কিন্ডারগার্টেনই গড়ে উঠেছে শুধুমাত্র শিক্ষা ব্যবসার উদ্যেশ্যে। যেখানে শিক্ষকদের শিক্ষার কোনো মান নেই।
তিনি আরও বলেন, কিন্ডারগার্টেন শব্দটির অর্থ হচ্ছে যে প্রতিষ্ঠানে শিশুদের ক্রিড়াচ্ছলে শিক্ষা দেয়া হয়। বেশিরভাগ কিন্ডারগার্টেনেই কোনো বিনোদনের সুযোগ নেই।
বেসরকারী শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সাথে আলাপ করে জানাগেছে, জেলায় অর্ধশতাধিক শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪শ’ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন। এরা কয়েক হাজার শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকায় পরিচালিত হয়। এমনকি শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকায় শিক্ষকরা বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন। এটা দিয়ে আর প্রাইভেট টিউশনের ফি দিয়ে চলত শিক্ষকদের অস্বচ্ছল পরিবারের ভরণপোষণ। কিন্তু করোনার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের বেতন যেমন বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে প্রাইভেট টিউশন। ফলে কোনোদিক দিয়েও তারা উপার্জন করতে পারছে না। পারছেন না মুখ ফুটে কাউকে কিছু বলতে। এই মুহূর্তে সরকারিভাবে আর্থিক অনুদান ও সহজ শর্তে ঋণ পেতে দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঝালকাঠির শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুস সালাম একাডেমীর অধ্যক্ষ ফরিদুল হক বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা কোনো বেতন দিচ্ছে না। ওরা বেতন না দিলে তো শিক্ষকদেরও বেতন হবে না। তা ছাড়া বেসরকারী শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পায় না। এই দুর্যোগের সময়ে সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় আমাদের পরিবারে হাহাকার বিরাজ করছে। অবিলম্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সরকারি অনুদান এবং সহজ শর্তে ঋণ একান্তভাবে কামনা করছি।
ঝালকাঠি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, কিন্ডারগার্টেন স্কুলে অর্থনৈতিক সহায়তার বিষয়ে আমাদের কোনো পরিকল্পনা নেই। আমরা সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে ভার্চুয়াল ক্লাস করিয়েছি। এখন মোবাইল, রেডিও ও অনলাইন এই তিনটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যেন সব শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে পারি, সে বিষয়ে কাজ করছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews