1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৩:২৮ অপরাহ্ন

কুরবানী উপলক্ষে ঝালকাঠিতে ৮৭৪৩ টি পশু মোটাতাজা করা হচ্ছে

  • প্রকাশিত : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০
  • ২১৩ বার পড়া হয়েছে
সদর উপজেলার গাবখান ধানসিড়ি ইউনিয়নের বৈদারাপুর গ্রামের খামারী ফাতিমা বেগম গোয়ালে গরুর পরিচর্যা করেন।

মোঃ আতিকুর রহমান
ঝালকাঠি জেলায় পারিবারিক ও বাণিজ্যিকভাবে কুরবানি উপলক্ষ্যে ৮হাজার ৭শত ৪৩টি পশু মোটাতাজা করা হচ্ছে। সম্পুর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরু ও ছাগল এ মোটাতাজা কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে। গরু মোটাতাজা করণ বিষয়ে কথা হয় সদর উপজেলার গাবখান ধানসিড়ি ইউনিয়নের বৈদারাপুর গ্রামের নাসির হাওলাদারের স্ত্রী খামারী ফাতিমা বেগমের সাথে। তিনি জানান, স্বামী ক্ষেতে খামারে কাজ করেন। আমি গৃহবধূ হিসেবে ছোট একটি গোয়াল ঘরে গাভী ও বলদ মিলিয়ে ৫টি গরু লালন পালন করি। সারা বছরই লালন-পালন শেষে প্রতিবছর কুরবানির হাটে বিক্রি করি। পারিবারিক খামার থেকে আমাদের বড় ধরনের পুজি অর্জন হয়।
ফাতিমা আরো জানান, বেশ কয়েক বছর ধরেই কয়েকটি ছাগল পালতাম। ছাগল বিক্রি করে ৩০হাজার টাকা পুজি হলে তা দিয়ে প্রথমে একটি গাভী গরু কিনি। এরপর বিআরডিবি থেকে ঋণ নিয়ে আরেকটি গরু কিনি। এদের সমন্বয়ে প্রাকৃতিক প্রজননের মাধ্যমে আমাদের গোয়ালঘরে গরু বাড়তে থাকে। এখন আমার গোয়ালে ৫টি গরু আছে। ইতিপূর্বে করোনার সময়ে কুরবানি গরুর হাটে কেমন দাম হবে? ন্যায্য দাম পাবো কি না? সে দুশ্চিন্তায় একটি বলদ গরু কশাইয়ের কাছে বিক্রি করি। এখন প্রাকৃতিক খাবারের সাথে ভিটামিন, দানাদার ও সুষম খাদ্য খাইয়ে গোয়ালে থাকা গরুগুলোকে মোটাতাজা করছি। কুরবানির হাটে যদি ভালো দাম পাই তাহলে বিক্রি করবো। আর যদি দাম কম হয়, তাহলে কুরবানির পরে কশাইয়ের কাছে বিক্রি করবো। গরু পালনের কাজে তার স্বামী নাসির হাওলাদার সার্বক্ষণিক সহায়তা করে থাকেন। আমরা গোয়াল ঘরকে সবসময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখি। যদি রাতে গরুতে পায়খানা-প্র¯্রাব করে ভিজিয়ে ফেলে তাহলে সারা রাত দাড়িয়ে থাকে। পরিস্কার স্থানে থাকার অভ্যাস হওয়ায় গরু ময়লার ভিতরে শুয়ে থাকতে পারে না বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, ঝালকাঠি জেলায় পারিবারিকভাবে সারা বছর গরুর সঠিক পরিচর্যা করে মটোতাজা করণের মধ্যে ৬ হাজার ৯শত ৯২টি পশু রয়েছে। যার মধ্যে ষাঢ় ৩হাজার ৮শ ৪৩টি, বলদ ৪১৬টি, গাভী ১০১৫টি এবং ছাগল ১হাজার ৭শত ১৭টি। শুধুমাত্র কুরবানি উপলক্ষে খামারীরা ১হাজার ৭শ ৫১টি পশু বাণিজ্যিকভাবে মোটাতাজাকরণ করছেন। এরমধ্যে ষাঢ় ৮শত ৯০টি, বলদ ২শত ৮৬টি, গাভী ১শত ৩১টি এবং ছাগল ৪শত ৪৪টি।
মোটাতাজা করণের উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত খাদ্যদ্রব্য সম্পর্কে জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানান, প্রথমে কৃমিনাশক ওষুধ খাইয়ে কৃমি মুক্ত করে দানাদার খাদ্য, ভিটামিনের সাথে মিনারেল মিক্স, কাচা ঘাসসহ সুষম খাবার দিতে হয়। তাহলে প্রাকৃতিক উপায়ে কুরবানির জন্য পশুকে মোটাতাজা করা সম্ভব হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, গরু মোটাতাজা করণের জন্য অনেক অসাধু ব্যবসায়ী স্টোরয়েড হরমোন ব্যবহার করে থাকেন। যা কুরবানির হাটে নিলে গরুর চেহারা দেখেই অনুমান করা সম্ভব হয়। এধরনের পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews