কৃষকদের নিম্ণমাণের বীজ দেয়ার অভিযোগ, ঝালকাঠি বিএডিসি বীজাগারে বীজ সংকট

0
65
বিএডিসি বীজাগারে বীজ সংকট
বিএডিসি বীজাগারে বীজ সংকট

মো. আতিকুর রহমান
ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রান্তিক ক্ষুদ্র চাষিদের পুনর্বাসন ও প্রণোদনার বীজ এবং সার বিনামূল্যে উপজেলা কৃষি বিভাগের মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন ঝালকাঠি শাখায় দেয়া চাহিদা অনুযায়ী বীজ সরবরাহ করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। একারণে কৃষি বিভাগ বাহির থেকে বীজ কিনে কৃষকদের বিনামূল্যে প্রদান করছে। বাহির থেকে কেনা বীজ নিম্ণমাণের বলে অভিযোগ রয়েছে কৃষকদের।
ঝালকাঠি কৃষি বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, ঝালকাঠি জেলায় চাহিদা দেয়া হয়েছিলো বোরো ২১টন, সূর্যমুখী দেড়টন, চিনাবাদাম ৬টন, মশুর ডাল ৫টন, খেসারী ৮টন। কৃষি বিভাগ থেকে সরবরাহ করা হয়েছে বোরো ৫টন ১৩৭কেজি, সূর্যমূখী ৫শ কেজি, চিনাবাদাম ১টন ১৬৫ কেজি, মশুর ডাল ৪টন, খেসারী ৩টন ৩শ কেজি। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় চাহিদা দেয়া হয়েছিলো বোরো ৮টন, সূর্যমূখী ১৫০কেজি, চিনাবাদাম ৩শ কেজি, মশুর ডাল দেড়টন, খেসারী ২টন ৪শ কেজি। কৃষি বিভাগ থেকে সরবরাহ করা হয়েছে বোরো ৪৪০ কেজি, মশুর ডাল ১টন ২শ কেজি, খেসারী ১টন।
সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিঘা প্রতি একেকজন কৃষককে ১কেজি সরিষা বীজের সাথে ডিএপি ও এমওপি সার ২০কেজি, ৫ কেজি মশুর ডাল বীজের সাথে ডিএপিও এমওপি সার ১০কেজি, ৮কেজি খেসারী ডাল বীজের সাথে ডিএপি ও এমওপি সার ১০কেজি, ৫০ গ্রাম টমেটো বীজের সাথে ডিএপি ও এমওপি সার ২০কেজি, ৩শ গ্রাম মরিচের বীজের সাথে ডিএপি ও এমওপি সার ২০কেজি প্রদান করা হয়েছে। পুনর্বাসন তালিকাভুক্ত বিঘা প্রতি একেকজন কৃষককে ২০কেজি গম, ১কেজি সূর্যমুখী ও ১০কেজি চিনাবাদাম বীজ দেয়া হলেও তাতে কোন সার বরাদ্দ নেই।
অপরদিকে উপজেলার কৃষকদের কৃষি প্রণোদনা/ভর্তুকির আওতায় বিঘা প্রতি একেকজন কৃষককে ১কেজি বোরো বীজের সাথে ডিএপি ও এমওপি সার ২০কেজি, ২০কেজি গম বীজের সাথে ডিএপি ও এমওপি সার ২০কেজি, ২কেজি ভূট্টা বীজের সাথে ডিএপি ও এমওপি সার ৩০কেজি, ১কেজি সরিষা বীজের সাথে ডিএপি ও এমওপি সার ২০কেজি, ১কেজি সূর্যমূখী বীজের সাথে ডিএপি ও এমওপি সার ২০কেজি, ১০কেজি চিনাবাদাম বীজের সাথে ডিএপি ও এমওপি সার ১৫কেজি, শীতকালীন মুগ ডাল বীজের সাথে ডিএপি ও এমওপি সার ১৫কেজি, গ্রীষ্মকালীন মুগ ডাল বীজের সাথে ডিএপি ও এমওপি সার ১৫কেজি প্রদান করা হয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, ভালো ফসলের জন্য ভালো বীজ দরকার। বিএডিসি থেকে সংগৃহিত বীজের মাণ স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু বিএডিসিতে বীজ সংকটের কারণে বাহির থেকে যে সব এনে কৃষকদের প্রদান করা হয়েছে তার পুষ্টিমাণ তেমন একটা ভালো না। এমন বীজ থেকে তেমন ভালো ফসলের আশা করা যায় না। তাতে সরকারের কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসনের কার্যক্রম শতভাগ সফল না হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তাঁরা।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিফাত সিকদার জানান, বিএডিসিতে আমরা বীজের জন্য চাহিদাপত্র দিয়েছিলাম। চাহিদা অনুযায়ী সব বীজ তারা সরবরাহ করতে না পারায় বাহির থেকেও কিছু বীজ কিনতে হয়েছে। ভালোমাণের বীজই কৃষকদের বিনামূল্যে দেয়া হয়েছে বলেও দাবী করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here