1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন

ঝালকাঠির ৩৬ গ্রামে বর্ষাকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক-কৃষাণী, কৃষি বিপ্লবের সম্ভাবনা

  • প্রকাশিত : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২০
  • ৫৩০ বার পড়া হয়েছে
ঝালকাঠির ডুমুরিয়া ও শতদশকাঠি গ্রামে বর্ষাকালীন সবজি উৎপাদন।

মোঃ আতিকুর রহমান
বর্ষা মৌসুমে শাক-সবজি উৎপাদনে ঝালকাঠি জেলার ৩৬ গ্রামের কৃষক-কৃষাণীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। চাষীরা কাঁকরোল, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, তিতা করলা, শসা, বরবটি, ঢেড়শ, পুঁই শাক, ডাটাশাক, পাটশাক, শশা, কাচকলা, বেগুন, পেপে, পানিকচু, কচুশাক, কচুর লতি, পটল, চালকুমড়া ইত্যাদি চাষ করে অধিক ফলনের আশা নিয়ে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। আগাম সবজি বেশি দামে বিক্রি করে আশাতীত আয় করার স্বপ্নও দেখছেন চাষীরা। সবজি চাষীদের অনেকে এক ফসলী জমিতে তিন ফসল চাষ করে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মাচায় ঝুলছে তিতা করলা, কাঁকরোল, বরবটি, চালকুমড়া, পুইশাক, শশা, ঝিঙা, ছিচিঙা, আর মাচার নীচের রসালো মাটিতে কচুর মুড়া। এ ধরণের সবজি চাষ করে উপজেলার অনেক চাষী স্বাবলম্বী হয়েছেন। বহু চাষী সবজি চাষ করে সাংসারিক খরচ মিটিয়ে বাড়তি কিছু সঞ্চয়ও করছেন। উৎপাদন খরচ ও শ্রম কম হওয়ায় এ ধরনের সবজি চাষ চাষীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। কয়েক বছর আগেও যাদের সংসার চলতো ধার দেনার উপর আজ আগাম সবজি চাষ করে তারা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন।
দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলার উপ-সহকারী কর্মকর্তার পরামর্শে এক ফসলি জমি বর্তমানে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হয়েছে। যে জমিতে আগে মাত্র একবার ফসলের চাষ করা হত, এখন সে জমিতে ১২ মাস রবি মৌসূমে (শীতকালীন), খরিপ-০১ (গ্রীষ্মকালীন) ও খরিপ-০২ (বর্ষাকালীন) উৎপাদিত হচ্ছে নানা জাতের শাক সবজি।
সবজি চাষী মো. ইউসুফ জানান, তিনি ৬০ শতক জমিতে জমিতে শসা ও ১০ শতক জমিতে কাঁকরোল চাষ করেছেন। এ দু’ধরনের সবজি চাষে তার মোট খরচ হয়েছে ৮২ হাজার টাকা। তার ক্ষেতের ফলনও হয়েছে ভাল। এ পর্যন্ত তিনি ১লক্ষ ২০ হাজার টাকার শসা ও কাঁকরোল বিক্রি করেছেন। ক্ষেতের সমস্ত শসা ও কাঁকরোল বিক্রি করতে পারলে আরো ৫০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে।
সরকারীভাবে কৃষি ঋণ পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কোন প্রকার সরকারী ঋণ পাননি। একই ইউনিয়নের কাঁকরোল চাষী সামছু মিয়া ও নুরুল ইসলাম জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও ৪০ শতক জমিতে শসা ও ১০ শতক জমিতে কাঁকরোল চাষ করেছি। প্রথম দিকে (রোজায়) প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে ১০ মন শসা ও ৬০ টাকা দরে ২ মন কাঁকরোল বিক্রয় করেছি। আবাহাওয়া ভাল থাকলে ও ক্ষেতের সব কাঁকরোল বিক্রি করতে পারলে আরো ১ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত আসতে পারে বলে তারা জানান।
কৃষক পঙ্কজ বড়াল জানান, ডুমুরিয়া গ্রামে ৩ বিঘা জমি লিজ নিয়ে সেখানে কাঁদি কেটে বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদ করেন তিনি। সেখানে পেয়ারা, আমড়া, লেবু, কলা, কচু, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, পাটশাক, পুঁইশাক, কুমড়াসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষি উৎপাদন করেন তিনি। রাসায়নিক ও জৈবসার দিয়ে আবাদি কৃষিতেও বেশ ভালো ফলন পেয়েছেন বলে খুশির হাসি দেন পঙ্কজ বড়াল।
জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফজলুল হক জানান, ঝালকাঠির সবজি চাষে মডেল গ্রামগুলোয় প্রণোদনা ও পরামর্শ দেওয়াসহ নানাভাবে কৃষি বিভাগ সহযোগিতা করে আসছে। নিরাপদ সবজি উৎপাদনে আমরা যতদূর সম্ভব মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। যে সমস্ত সবজি চাষী ক্ষেতের রোগ বালাই এর ব্যাপারে আমাদের নিকট আসেন তাদেরকে সাধ্যমত পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করে থাকি। সবজি চাষীরা প্রতিবছরই ৩টি মৌসূমে ভাল মানের সবজি উৎপাদন করে থাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews