প্রধানমন্ত্রীর গৃহনির্মাণ প্রকল্প, ঝালকাঠির ১৩৭৮টি পরিবার পাচ্ছেন মাথা গোজার ঠাঁই

1
245
প্রধানমন্ত্রীর গৃহনির্মাণ প্রকল্প ঝালকাঠি
ঝালকাঠিতে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নির্মাণকৃত গৃহের সামনে সুবিধাভোগী সোবাহান মাাঝি, ইউপি চেয়ারম্যান, প্রকল্প কর্মকর্তাসহ অন্যরা।

মানিক রায়
ঝালকাঠি জেলার ৪টি উপজেলায় দরিদ্র ও অস্বচ্ছল পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর গৃহনির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ১৩৭৮টি পরিবারকে গৃহনির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। সরকার এ খাতে ১৯ কোটি ৭২ লক্ষ ২৭ হাজার ৭শত ৪২ টাকা ব্যয় করে এ গৃহনির্মাণ করে দেয়া হয়েছে।
ঝালকাঠি জেলায় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় গৃহনির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছর থেকে শুরু করে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছর পর্যন্ত তিন বছরে ১০ কোটি ৭৮ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১০৬৭টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও সরকার ত্রাণ ও পূনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পের অর্থ দিয়ে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছর থেকে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ৮ কোটি ৭৩ লক্ষ ৮৭ হাজার ৭শত ৪২ টাকা ব্যয়ে ৩১১টি গৃহনির্মাণ করা হয়েছে। টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের অর্থ অপচয় রোধ করে এই ধরনের গৃহনির্মাণ প্রকল্প একটি বাস্তব সম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রসংশিত হয়েছে।
শুরুর বছর ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় প্রতিটি গৃহনির্মাণের জন্য ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। পরবর্তী ২ বছর গৃহনির্মাণ খাতে ঘর প্রতি ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে অর্থ বরাদ্দ করা হয়। বর্তমানে এই প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৮৮ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৫৭টি গৃহনির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে।
অন্যদিকে ত্রাণ ও পূনর্বাসন মন্ত্রণালয় ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছর থেকে প্রতি ঘরের জন্য ২ লক্ষ ৫৮ হাজার ৫শত ৩১ টাকা করে ব্যয়ে ১৪২টি গৃহ নির্মাণ করেছে। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ঘরের ব্যয় বরাদ্দ বাড়িয়ে ২ লক্ষ ৯৯ হাজার ৮ শত ৬০ টাকা করে ৪টি উপজেলায় ৫ কোটি ৬ লক্ষ ৭৬ হাজার ৩শত ৪০ টাকা ব্যয় ১৬৯টি গৃহ নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে। যে সকল গরিব ও অস্বচ্ছল পরিবারে নিজস্ব জায়গা রয়েছে, কিন্তু বসতগৃহ জড়াজীর্ণ, অর্থাভাবে বাসযোগ্য ঘর নির্মাণ করতে পারছেন না এমন সব পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী গৃহনির্মাণ করে দিচ্ছেন।
ঝালকাঠি জেলার ৪টি উপজেলার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় সদর উপজেলায় ৩৫৬টি, নলছিটি উপজেলায় ৩৫৭টি, রাজাপুর উপজেলায় ২০১টি ও কাঁঠালিয়া উপজেলায় ১৫৩টি গৃহনির্মাণ করা হয়েছে। ত্রাণ ও পূনর্বাসন মন্ত্রণালয়ধীন গৃহনির্মাণ প্রকল্পের মধ্যে ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ৭৩টি, নলছিটি উপজেলায় ৯০টি, রাজাপুর উপজেলায় ৮১টি এবং কাঁঠালিয়া উপজেলায় ৬৭টি গৃহনির্মাণ করা হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানগণ সুবিধা ভোগীদের নির্বাচন করে তালিকা তৈরী করেন। এই তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়। জেলা প্রশাসক মাঠপর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে তালিকা যাচাই বাছাই করে সুবিধাভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে অর্থ বরাদ্দের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে গৃহনির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানগণ স্বস্ব ইউনিয়নে সমন্বয় ও তদারকীর কাজ করেন।
ঝালকাঠি জেলায় ৪টি উপজেলার মধ্যে সদও উপজেলা ও নলছিটি উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রয়েছেন। রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। অতিরিক্তি দায়িত্ব হিসাবে ঝালকাঠি সদও উপজেলা ও নলছিটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাজ করছেন। এ কারণে মাঠ পর্যায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তাঁরা হিমসিম খাচ্ছেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে তদারকীর ক্ষেত্রে জনবল সংকট বড় বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে বলে দাবী করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here