1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৯:১৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট:
ঝালকাঠিতে করেনাভাইরাসে ৩ জনের মৃত্যু টানা ৯ দফায় ইউপি চেয়ারম্যান পৌর মেয়র ও ৩০ ইউপিতে নৌকার জয় এমপি আমু’র সাথে নবনির্বাচিত মেয়রের সাক্ষাত ঝালকাঠিতে জনপ্রতিনিধিতে হেট্রিক করলেন যাঁরা ঝালকাঠি জেলা কল্যাণ সমিতি খুলনার নেতৃবৃন্দের বিবৃতি, ঝালকাঠি পৌর মেয়রসহ নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন শংকরপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবনটি অতি ঝুঁকিপুর্ণ ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ভিডিপি সদস্যদের সতর্ক দায়িত্ব পালন ঝালকাঠি পৌরসভা এবং ৩১টি ইউনিয়নে স্বতঃস্ফুর্ত ভোট অনুষ্ঠিত, দুই প্রার্থীর ভোট বর্জন ঝালকাঠি পৌর নির্বাচনে নৌকার জয় ঝালকাঠির ৩১ ইউপিতে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হলেন যাঁরা
শিরোনাম:
ঝালকাঠিতে করেনাভাইরাসে ৩ জনের মৃত্যু টানা ৯ দফায় ইউপি চেয়ারম্যান পৌর মেয়র ও ৩০ ইউপিতে নৌকার জয় এমপি আমু’র সাথে নবনির্বাচিত মেয়রের সাক্ষাত ঝালকাঠিতে জনপ্রতিনিধিতে হেট্রিক করলেন যাঁরা ঝালকাঠি জেলা কল্যাণ সমিতি খুলনার নেতৃবৃন্দের বিবৃতি, ঝালকাঠি পৌর মেয়রসহ নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন শংকরপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবনটি অতি ঝুঁকিপুর্ণ ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ভিডিপি সদস্যদের সতর্ক দায়িত্ব পালন ঝালকাঠি পৌরসভা এবং ৩১টি ইউনিয়নে স্বতঃস্ফুর্ত ভোট অনুষ্ঠিত, দুই প্রার্থীর ভোট বর্জন ঝালকাঠি পৌর নির্বাচনে নৌকার জয় ঝালকাঠির ৩১ ইউপিতে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হলেন যাঁরা

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব, কাঁঠালিয়ায় বাঁধ ভেঙ্গে ২০ গ্রাম প্লাবিত ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৭ মে, ২০২১
  • ৫৯ বার পড়া হয়েছে
ঝালকাঠি: কাঁঠালিয়ায় বিষখালী নদী তীরের বাঁধ ভেঙে প্লাবিত অনেক গ্রাম। স্থানীয়রা বাঁধ মেরামতের কাজ করছেন।
ঝালকাঠি: কাঁঠালিয়ায় বিষখালী নদী তীরের বাঁধ ভেঙে প্লাবিত অনেক গ্রাম। স্থানীয়রা বাঁধ মেরামতের কাজ করছেন।

কে এম সবুজ/ফারুক হোসেন খান

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ার উপজেলার বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৪ ফুট বেড়ে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বেশ কয়েকটি গ্রাম। বুধবার রাতে উপজলা পরিষদ এলাকার বিষখালী তীরের বাঁধের একটি অংশ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ে বাড়ির আঙিনায়। তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ ও মাছের ঘের। এতে আতংকে রয়েছেন বাঁধ ভাঙা এলাকার বাসিন্দারা। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে কাঁঠালিয়া উপজেলার বিষখালী নদীর বাঁধ ভেঙ্গে উপজেলা পরিষদ, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানচত্তর ও ফসলি মাঠসহ প্রায় ২০ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পানিতে ভেসে গেছে জেলেদের জাল, নৌকা। তলিয়ে গেছে মাছের ঘের ও ছোট-বড় পুকুর, রাস্তাঘাট। নষ্ট হয়েছে কাঁচা আধা কাঁচা ঘর-বাড়ি ও ফসলের ক্ষেত। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পানির চাপে কাঁঠালিয়া সদরের লঞ্চঘাট ও বড় কাঁঠালিয়া এলাকার মাঝামাঝি বিষখালী নদীর বাঁধের একটি অংশ ভেঙ্গে জলোচ্ছাসে উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, পল্লী উন্নয়ন অফিস, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, ভূমি অফিস, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কক্ষে পানি ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও নথিপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।

বিষখালী নদীতে আমুয়া থেকে রাজাপুর পর্যন্ত কাঁঠালিয়া অংশে ৩১ কিলোমিটার বাঁধ না থাকায় আমুয়া, হেতালবুনিয়া, মশাবুনিয়া, চিংড়াখালী, জয়খালী, কাঁঠালিয়া সদর, কচুয়া, শৌলজালিয়া, রঘুয়ার চর, রঘুয়ারদড়ি চর, তালগাছিয়া, আওরাবুনিয়া ও জাঙ্গালিয়াসহ নদী তীরবর্তী ২০টি গ্রামে সহজেই পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ঝালকাঠি: কাঁঠালিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার বিষখালী নদী তীরের বাঁধ ভেঙে নদীতে বিলীন।

গতকাল বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসক জোহর আলী বিষখালী নদীর ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো.এমাদুল হক মনির, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুফল চন্দ্র গোলদার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আহম্মেদুর রহমানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলার সবচেয়ে বড় বন্দর আমুয়া ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্র (আমুয়া) খাদ্য গুদাম এবং উপজেলার বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অঙিনায় পানি ঢুকে পড়ে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, জলোচ্ছাসের পানি ৪/৫দিন স্থায়ী হলে আউশের ক্ষতির সম্ভাবনা আছে। এছাড়া সবজী বাগানে পানি ঢুক পড়েছে। পানি সরে গেলে তেমন কোন ক্ষতি হবেনা।

ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক জোহর আলী ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর প্রভাবে বিষখালী নদীর ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধটি দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দিয়ে বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধটি স্থায়ীভাবে নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। যাতে দ্রæত বাস্তবায়ন হয় সে ব্যাপারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়াও জেলা সদর, নলছিটি ও রাজাপুর উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকার ফসলের মাঠ ও মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। রাতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্কে ছিলেন নদী তীরের মানুষ। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা ও দুইশ টন চাল মজুদ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ৫৯টি সাইক্লোন সেল্টার ও ৪৯৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্রে রূপ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ৩৭টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

বিষখালী নদী তীরের বাসিন্দা আবদুর রব খান বলেন, ঝড়-বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসলে আমারা খুবই আতঙ্কে থাকি। বিশেষ করে রাতে ছেলে-মেয়ে নিয়ে বসে থাকতে হয়, কখন বাড়িঘর ভেঙে নদীতে চলে যায়। হঠাৎ করে নদীর বাঁধ ভেঙে যেভাবে পানি উঠতেছে, এতে খুবই বিপদে আছি।

কলেজ শিক্ষার্থী মো. জহিরুল ইসলাম লিমন বলেন, বহু বছর ধরে লঞ্চঘাট এলাকা ভেঙে বিষখালী নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গত বছর ঘূর্ণিঝড় আম্পানে লঞ্চলঘাটের তিনশ মিটার এলাকায় বালুর বস্তা (জিও ব্যাগ) ফেলা হয়েছে। কিন্তু আমাদের উত্তর দিকে কিছুই ফেলা হয়নি। পানি স্রোতের চাপে প্রতিদিন নদী ভাঙছে। এখন বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে আমাদের এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে। রাতে পানি আরো বাড়তে পারে। আমরা সবাই আতঙ্কে আছি। তাই দ্রæত এ বাঁধটি মেরামত করা জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানাই।

কাঁঠালিয়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মো. কিবরিয়া বলেন, এক জোয়ারেই পানি অনেক বাড়ছে। এতে আমাগো কৃষির অনেক ক্ষতি হইছে। গাছের মরিচ ও ডাইল তুইল্লা নেওয়া যাইবে না। আর রাইতে পানি বাড়লে আমাগো বাড়ি-ঘর তো পুরাই ডুইব্বা যাইবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান বলেন, সকাল থেকে আমি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। কোথাও কোন সমস্যা নেই। তবে উপজেলা পরিষদের পেছনে বিষখালী নদীর তীরের বাঁধের কিছু অংশ ভেঙেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুফল চন্দ্র গোলদার বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ মোকাবিলায় উপজেলা পরিষদে জরুরী সভা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ মোকাবেলায় উপজেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews