চাহিদার তুলনায় সহায়তা অপ্রতুল, ঝালকাঠিতে নিবন্ধিত ৫২৬৫ জেলের মধ্যে সহায়তা পাচ্ছেন ৩৫০০জনে

0
106
চাহিদার তুলনায় সহায়তা অপ্রতুল
চাহিদার তুলনায় সহায়তা অপ্রতুল

মো. আতিকুর রহমান
ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মা ইলিশ রক্ষায় ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে ইলিশ নিধনে নিষেধাজ্ঞা সময়ে সাড়ে ৩হাজার জেলেকে প্রণোদনা (ভিজিডি) সহায়তা দেয়া হচ্ছে। ঝালকাঠি জেলায় নিবন্ধিত জেলে ৫২৬৫ জনে ইলিশ আহরনকারী জেলে রয়েছেন ৪হাজার ৬৩জন। এরমধ্যে ইলিশ নিধন নিষেধাজ্ঞা সময়ে সাড়ে ৩হাজার জেলেকে সহায়তা দেয়া চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। গত ১৪অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে আগামী ৪নভেম্বর পর্যন্ত ২২দিন সব ধরনের জাল ফেলা, মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন সরকারিভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। এ সময়ে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে খাদ্য সহায়তা হিসেবে সকল জেলে পরিবারকে ভিজিএফ সুবিধা দেওয়ার কথা। কিন্তু বরাদ্দ অপ্রতুল হওয়ায় নদী উপকূলীয় এলাকার নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে শতভাগ এ সুবিধার আওতায় আসছেন না। যে কারণে সুবিধাভোগীদের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার আশঙ্কায় জেলে পরিবারের মধ্যে এখন ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশ রক্ষায় ২১ কিলোমিটার দৈর্ঘের সুগন্ধা নদী ঝালকাঠি অংশে ১৬ কিলোমিটার ও ১০৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বিষখালীর নদীর ঝালকাঠি অংশে ২৯কিলোমিটার নৌ-সীমাকে সরকার ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ অভয়াশ্রম এলাকায় গত ১৪অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে আগামী ৪নভেম্বর পর্যন্ত ২২দিন সব ধরনের মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। অভয়াশ্রম এলাকার জেলেরা যাতে নদীতে না নামে এ জন্য সরকার প্রতি বছর এ সময়ে ৪০কেজি করে খাদ্যশস্য (চাল) ভিজিএফ সহায়তা হিসেবে বরাদ্দ দেয়। কিন্তু নদী তীরবর্তী এ জেলার ৩২টি ইউনিয়নে ৫হাজার ২৬৫ নিবন্ধিত জেলে থাকলেও ভিজিএফ সহায়তার বরাদ্দ এসেছে মাত্র সাড়ে ৩হাজার জনের জন্য।
ঝালকাঠি জেলে পাড়া সমবায় সমিতির সভাপতি নবদীপ মালো জানান, জেলেদের পরিবারের একাধিক সদস্য সংখ্যা থাকে। আমাদের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম হলো নদীতে জাল ফেলে ইলিশ ধরা। ঝালকাঠি জেলায় প্রকৃত পেশাদার জেলেদের সংখ্যার চেয়ে সহায়তার জন্য বরাদ্দ অনেক কম। তারপর আবার দিচ্ছে ৪০ কেজি করে শুধু চাল। তাহলে অন্যান্য তেল, মসলা ও তরকারি পাবো কোথায়? শুধু চালে কি পেট ভরে? এমন প্রশ্ন এখন ঝালকাঠি জেলার প্রায় ৫ হাজার জেলের মুখে।
জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার ভিজিডি চালের সহায়তার পরিমাণ ও সংখ্যা বাড়িয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যও যদি সহায়তা দিতো তাহলে আমাদের আর দুঃখ থাকতো না।
রাজাপুর উপজেলার বিষখালী নদী তীরবর্তি মঠবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল সিকদার জানান, বিষখালী নদী তীরবর্তি অনেক পরিবারই আছে যারা নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরে জিবীকা নির্বাহ করে। এ সময়ে সবারই মাছ ধরা বন্ধ। যতজন জেলে আছে তারা সবাই সহায়তা পাচ্ছেন না। তাহলে এমন আইন মেনে তারা কি খাবেন, তাই বাধ্য হচ্ছে এমন সময় অন্যপেশায় জীবনের জীবিকা নির্বাহ করতে।
ঝালকাঠি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বাবুল কৃষ্ণ ওঝা জানান, ঝালকাঠি জেলায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ৫২৬৫ জন। এদের মধ্যে ইলিশ আহরনকারী জেলে রয়েছেন ৪হাজার ৬৩জন। ইলিশ নিধন নিষেধাজ্ঞা সময়ে সাড়ে ৩হাজার জেলেকে ভিজিডি (খাদ্য) সহায়তা দেয়া হচ্ছে। গত ১৪অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে আগামী ৪নভেম্বর পর্যন্ত ২২দিন সব ধরনের জাল ফেলা, মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন সরকারিভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here