1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন

ঝালকাঠির গ্রামীণ জনপদে গড়ে উঠছে হাঁসের খামার

  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ২৫২ বার পড়া হয়েছে
নাসির গাজীর হাঁসের খামার
ঝালকাঠি সদর উপজেলার চরভাটারাকান্দা গ্রামে নাসির গাজীর হাঁসের খামার।

মানিক রায়
ঝালকাঠি জেলার গ্রামীণ জনপদে হাঁসের খামার গড়ে উঠছে। দক্ষিণাঞ্চলের এই জেলায় খাল ও জলাশয় থাকায় লাভজনক হাঁসের খামার স্থাপনে মানুষের আগ্রহ রয়েছে। তবে হাঁস চাষের উপর প্রশিক্ষণ না নিয়ে কেউ কেউ খামার করতে এসে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকার এই এলাকার হাঁস খামার উদ্যোক্তা ও পারিবারিক পর্যায়ে হাঁস লালন পালননের জন্য গাবখান ব্রীজের পশ্চিম পাদদেশে ৩ একর জায়গার উপরে হাঁস লালন পালন কেন্দ্র স্থাপন করেছে। ২০০৫-২০০৬ অর্থ বছরে সরকারি হাঁস পালন কেন্দ্রটি উন্নয়ন খাতে জোড়া তালি দিয়ে ২০০৯ সাল পর্যন্ত শেষ হয়।
২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে প্রায় কোটি টাকা ব্যয় করে সরকার এর সংস্কার করে এবং ২০১৮ সালের অক্টোবর মাস থেকে প্রকল্পটি রাজস্বখাতভুক্ত করে চালু করে। সেই থেকে প্রকল্পটি আড়াই বছর ধরে চলমান রয়েছে। এখান থেকে ৬ শত উপকারভোগীর কাছ থেকে ১১ হাজার হাঁসের বাচ্চা বিক্রি করে ৬ লক্ষাধিক টাকা রাজস্ব আয় করেছে। এই কেন্দ্রে খুলনার দৌলতপুর আঞ্চলিক প্রজনন খামার থেকে ১ দিনের বাচ্চা এই কেন্দ্রে এনে ১৫দিন লালন পালন করে প্রতিষেধক ভ্যক্সিন দিয়ে ৬০ টাকা করে ১৫ দিনের হাঁসের বাচ্চা বিক্রয় করা হয়। এই কেন্দ্রে ১৫ শত ১দিনের বাচ্চা আনা হয় এবং বিক্রয় করা হয়। ঝালকাঠি প্রাণী সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী জেলায় ১৩৭টি হাঁসের খামার রয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি রেজিস্ট্রার খামার এবং ৯৩টি অ-রেজিস্ট্রার খামার। এছাড়াও পারিবারিক পর্যায় গ্রামিন প্রতিটি পরিবারে হাঁস লালন পালন করে থাকে। প্রাণী সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী জেলায় ৭ লক্ষাধিক হাঁস রয়েছে।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার চর-ভাটারাকান্দা গ্রামের সৌদি আরবে চাকুরী করে গ্রামের বাড়ীতে এসে ৫০০ শত হাঁস নিয়ে খামার করেছেন নাছির গাজী। তবে হাঁস লালন পালনের প্রশিক্ষণ না নিয়ে তার খামার করায় কিছু অসুস্থ হাঁসকে ভ্যক্সিন দিতে গিয়ে প্রায় ১ শত ৪ মাস বয়সী হাঁস মারা গিয়েছে। ছত্রকান্দা গ্রামে তরুণ উদ্যোক্তা মারুফ হাওলাদার ৩০০ শত হাঁস নিয়ে একটি খামার করেছেন। তিনি জানান, নেত্রকোনা থেকে খাকি ক্যাম্বেল জাতের ৪ মাসের বাচ্চা কিনে এনে খামার করেছেন। ইতিমধ্যেই তার লালন পালন করা হাঁস ডিম দেয়া শুরু করছে। খামার করে সে লাভবান হবেন বলে আশা করছেন। ঝালকাঠি হাঁস পালন কেন্দ্রের ডাক এটেনডেন্ট বিমল সিকদার জানান, খুলনা দৌলতপুর আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার থেকে সবচেয়ে ভাল জাত জিনডিং জাতের ১ দিনের বাচ্চা এনে এই কেন্দ্র রেখে ১৫ দিন লালন পালন করে ৬০ টাকা করে প্রতি বাচ্চা বিক্রয় করা হয়। বাচ্চা বিক্রয় করার সময় প্রতিষেধক ভ্যক্সিন দিয়ে খামারীদের মধ্যে বিক্রয় করা হয়। আড়াই বছর ধরে প্রকল্পটি চালু থাকায় হাঁসের বাচ্চা স্থানীয়ভাবে খামারী ও গৃহস্থ পরিবারের মধ্যে চাহিদা বেড়েছে। এই অঞ্চল হাঁস লালন পালনের জন্য অত্যান্ত উপযোগী এলাকা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews