1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ১০:৫৯ অপরাহ্ন

ঝালকাঠিতে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু হয়নি, এমআর পাসপোর্ট পেতে জনসাধারনের ভোগান্তি

  • প্রকাশিত : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২০
  • ৮৭ বার পড়া হয়েছে
এমআর পাসপোর্ট পেতে জনসাধারনের ভোগান্তি
এমআর পাসপোর্ট পেতে জনসাধারনের ভোগান্তি

মো. আতিকুর রহমান
ঝালকাঠি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে সঠিক সময়ে মেশিন রিডেবল (এমআর) পাসপোর্ট হাতে পাচ্ছে না পাসপোর্ট প্রত্যাশীরা। তবে করোনার কারণে বিদেশে লোক যাতায়াত বন্ধ থাকায় তেমন চাপ নেই পাসপোর্ট অফিসে। প্রতিদিন মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন ব্যক্তি আসেন নতুন পাসপোর্টের আবেদন করতে। অফিসিয়াল নিয়মানুযায়ী নির্ধারিত সময় থাকলেও প্রক্রিয়াগত কারণে যথাসময়ে পাসপোর্ট পেতে বিলম্ব হওয়ায় ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে জনসাধারনকে। ঝালকাঠি আঞ্চলিক কার্যালয়ে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু হলে শতভাগ সেবা পাবেন জনসাধারন এমনটাই দাবি করলেন সহকারি পরিচালক ফাতেমা বেগম।
জানাগেছে, ঝালকাঠিতে ২০১৩ সাল থেকে মেশিন রিডেবল (এমআর) পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ জেলায় পাসপোর্ট সেবা চালু হওয়ায় বিদেশ গমনে আশার আলো দেখতে পায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ। তবে তাদের বিপত্তি বাধে সঠিক নিয়মে ফরম পুরন করতে না পারা। একদিনের স্থানে ৩/৪দিনও লাগে অনেকের। পাসপোর্ট ফরমে সঠিকভাবে তথ্য দিয়ে সত্যায়িত করে ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার ভাউচারসহ জমা দিলে একদিনেই কার্যক্রম শেষ হয়। ফরমে ভুল হলে আবার সঠিকভাবে ফরম পুরন করে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্রের সত্যায়িত করে ২সেট অফিসে জমা দিতে হয়। এরপর ছবি তোলার কাজ শেষ হলে একটি ¯িøপ নিয়ে চলে যান পাসপোর্ট প্রত্যাশীরা। পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রাপ্তি সাপেক্ষে জরুরি পাসপোর্ট পেতে ৭ কার্যদিবস ও সাধারন পাসপোর্ট পেতে ১৫ কার্যদিবসের নিয়ম রয়েছে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রতিবেদন ও ঢাকায় প্রিন্ট হওয়া নতুন পাসপোর্ট পেতে সময় ক্ষেপন হয়। এতে বিদেশে চিকিৎসা ও গমনেচ্ছুক ব্যক্তিরা সঠিক সময়ে পাসপোর্ট হাতে পেতে বিলম্ব হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন। প্রতিদিন মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন আবেদন করে থাকেন। তবে সামনের মাসেই ই-পাসপোর্ট সেবা চালু হওয়ার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, সকল কিছু সম্পন্ন হলে দ্রæত সেবা পাবেন এবং ভোগান্তি লাঘব হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট অফিসের সকলে।
নলছিটি উপজেলার ইছাপাশা গ্রামের সেবা গ্রহিতা মো. বাচ্চু জোমাদ্দার তার ছেলে সাগর জোমাদ্দারকে নিয়ে যান পাসপোর্ট অফিসে। প্রতিবেদককে তিনি জানান, প্রথম দিন পাসপোর্টরে জন্য এসে সোনালী ব্যাংকে গিয়ে ৩হাজার ৪৫০ টাকা জমা দিয়ে  স্লিপ নিয়ে অফিসে গিয়ে জমা দিয়েছি। ছবি তুলে একটি ¯িøপ দিয়েছে। সেখানে নির্ধারিত দিনে যেতে বলেছে। পাসপোর্ট পেলে তখন বুজবো সেই সময়ের মধ্যে দিয়েছে নাকি পরে দিয়েছে।
একই উপজেলার নাঙ্গুলী গ্রামের পাসপোর্ট সেবা প্রত্যাশী জাকির খান তার ভাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাহান খান’কে নিয়ে যান পাসপোর্ট অফিসে। শাহজাহান খান জানান, পাসপোর্ট অফিস থেকে ফরম তুলে পুরন করে দেখিয়েছি সঠিক আছে কি না। কর্তৃপক্ষ জানালো ভুল আছে। তখন আবার নতুন ফরম নিয়ে পুরন করে দেখালে সেটা সঠিক হওয়ায় জমা দিয়েছি। ছবি তোলার জন্য অপেক্ষা করছি।
রাজাপুর উপজেলার পাড়গোপালপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক কৃষ্ণ হাওলাদার জানান, সাধারন পাসপোর্ট করতে আবেদন করলে ১৫ দিনের স্থানে তা দেড় মাস পরে পেয়েছি। পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং ঢাকা থেকে প্রিন্ট হওয়ায় যথাসময়ের ৩গুণ বিলম্বে পাসপোর্ট পেতে হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রথমবারে আবেদন করলে সেখানে তারা কিছু খরচ চেয়েছিলো, তা না দেয়ায় জমা দেয়া ফরমে ওভার রাইটিং করে ভুল করে। এরপর মাসখানেক পরে জানতে পারি জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে পাসপোর্টের সঠিক মিল না থাকায় ভুল পাসপোর্ট আটকে গেছে। পরে আবার নতুন করে জমা দিতে হয়েছে।
সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার  স্লিপের সাথে আরো দেড় হাজার টাকা দিলে আর কোন ভুল থাকে না। বাকি সব কাজই অফিস থেকে করিয়ে দেয়া হয়। বাড়তি দেড় হাজার টাকা না দিলে ফরমে অনেক ভুল ধরে এবং তা নিয়ে ৩/৪দিন সময় ক্ষেপন হয়।
ঝালকাঠি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারি পরিচালক ফাতেমা বেগম জানান, বর্তমানে পাসপোর্ট পেতে কোন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না। নতুন আবেদন পেলে পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য পাঠানো হয়। পুলিশ প্রতিবেদন পেলে ঢাকায় প্রেরণ করা হয় এবং পাসপোর্ট পেলে দ্রুত পৌছে দেয়া হয়। আগামী মাসেই ই-পাসপোর্ট সেবা চালু হওয়ার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, সকল কিছু সম্পন্ন হলে দ্রুত সেবা পাবেন এবং ভোগান্তি লাঘব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews