1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন

ঝালকাঠিতে গরুর কৃত্রিম প্রজননের ৪০% বিফল

  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০
  • ২৩৮ বার পড়া হয়েছে
কৃত্রিম প্রজননের জন্য ইনজেকশন দেয়া হয়।

মোঃ আতিকুর রহমান
ঝালকাঠি শহরতলীর রামনগর এলাকার কৃষক পরিবারের বৃদ্ধ হারুন অর রশিদের গোয়ালে ৫টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে ১টি বলদ ও ৪টি গাভী। বড় গাভীটার ডাক উঠলে প্রাণি সম্পদ অফিস থেকে ডাক্তার এনে কৃত্রিম প্রজননের জন্য ইনজেকশন দেয়াই। তাতে কোন কাজ হয়নি। পরে আবার ডাক উঠলে আবারো ইনজেকশন দেয়াই। এভাবে ৪বার ইনজেকশন দেয়ানোর পরেও কাজ না হওয়ায় প্রাকৃতিক প্রজনন করাই। এখন সেটি গাভীন (গর্ভবতি) হয়েছে। মাসখানেক পূর্বে আরেকটি গাভীর ডাক উঠলে তখনও কৃত্রিম প্রজননের ইনজেকশন দেয়ালে কোন কাজ হয়নি। এরপর এখন পর্যন্ত আর ডাক আসেনি। এভাবেই কৃত্রিম প্রজননে বিফলের কথা বললেন বৃদ্ধ কৃষক হারুন অর রশিদ। একই এলাকার সরকারী কর্মজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমার একটি গাভীর ৩ বার ডাক আসে, আর ৩বারই কৃত্রিম প্রজননের চেষ্টা করি। কিন্তু তাতে কোনই কাজ হয়নি। প্রাণি সম্পদ অফিস থেকে কৃত্রিম প্রজননের জন্য যে স্পার্মের ইনজেকশন দেয়া হয় তা অকার্যকর বলে বারবার দেয়ার পরেও কোন সুফল পাওয়া যায় না। শুধু বৃদ্ধ কৃষক আর সরকারী কর্মজীবীই নন, এমন অভিযোগ আরো অনেকের।
এ প্রসঙ্গে উপসহকারী প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা (প্রাণিস্বাস্থ্য) মু. জহিরুল ইসলাম জানান, গাভীর ডাক ওঠার ১২ ঘণ্টা থেকে ১৮ ঘণ্টার মধ্যে কৃত্রিম প্রজননের ইনজেকশন পুশ করতে হয়। অনেক সময় মালিকও বুঝে না কখন ডাক আসে। রাতে ডাক আসলে তখন খেয়াল না করে সকালে দেখে। সঠিকভাবে ডাক আসছে কি না তা বুজতে গিয়ে কৃত্রিম প্রজননের নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হয়ে যায়। আবার গাভীর ডাকের সময় অতিবাহিত হলেও গাভীর দেহে উত্তেজনা থাকে। ডাক আসার পরে নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হবার পরে কৃত্রিম প্রজননের ইনজেকশন দিলে তাতে সুফল হয় না। গাভীর দেহ রোগাক্রান্ত না হলে প্রথমবারে সঠিক সময়ে কৃত্রিম প্রজননে কনসেপ্ট (গর্ভবতি) হবে। সুস্থ গাভীর প্রজনন বিফল হলে ১৮ থেকে ২৪ দিনের মধ্যে পুনরায় ডাক আসবে। রোগাক্রান্ত হলে ডাক আসবে না।

কৃত্রিম প্রজনন শতকরা ৬০ভাগ কার্যকর হয় বলে এ সম্পর্কে জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানান, যথাসময়ে এবং যথা স্থানে কৃত্রিম প্রজননের ইনজেকশন পুশ না করা। গাভীর দেহে প্রজনন উপাদানে কোয়ালিটি না থাকা, হরমোন ঘাটতি এবং গাভী কৃমি আক্রান্ত থাকলে। কৃত্রিম প্রজননের ক্ষেত্রে অনুর্বর স্পার্ম (পুষ্টিহীন বীর্যকণা) ব্যবহার এবং গাভীর মাতৃত্বজনিত সমস্যা থাকলে কৃত্রিম প্রজননে সুফল পাওয়া যায় না। এজন্য শতকরা ৬০ ভাগ কৃত্রিম প্রজনন কার্যকরী হয় এবং ৪০ভাগ বিফলে যায়।
অনুর্বর স্পার্মের বিষয়ে তিনি জানান, আমাদের কাছে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর থেকে স্পার্ম সরবরাহ করা হয়। যে সব বলদ থেকে স্পার্ম সংগ্রহ করা হয় তা অনেক সময় অস্বাস্থ্যকর থাকে। আবার স্পার্ম সংগ্রহ করার পরে সংরক্ষণ শালায় বেশিদিন থাকলে তা অকার্যকর হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews