ঝালকাঠিতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, নদীতে পানি বৃদ্ধি, কাঁঠালিয়ার জনজীবন বিপর্যস্ত- জেলা প্রশাসনের জরুরী সভা

0
83
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও সুগন্ধা নদীর পানি বৃদ্ধিতে জনজীবন বিপর্যস্ত
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও সুগন্ধা নদীর পানি বৃদ্ধিতে জনজীবন বিপর্যস্ত

স্টাফ রিপোর্টার
সাগরে গভীর নিম্নচাপের কারণে ঝালকাঠিতে শুক্রবার সকাল থেকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। বৃষ্টির পাশাপাশি বইছে ধমকা হাওয়া। এদিকে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি ঢুকে পড়েছে শহরের রাস্তাঘাট, ফসলের ক্ষেত ও মাছের ঘেরে। ২দিনের টানা বৃষ্টিতে ঘর থেকে কেউ বের হতে না পারায় জনজীবন স্থবির হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবীরা। সুগন্ধা, বিষখালী, গাবখান ও হলতা নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পেলে তলিয়ে যায় নদী তীরে বসবাসরত ঘরবাড়ি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঝালকাঠিতে ১৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পানি বেড়ে যাওয়ায় নদী তীরের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরী সভা করে দুর্যোগের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী। নদী তীরের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও মেডিক্যাল টিম ও সেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে সভায়। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সরদার মো. শাহ আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোজী আকতার প্রমুখ। সভায় সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিস, রেডক্রিসেন্টসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা অংশ নেয়।

টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে বাগড়ি এলাকার বসতঘর
টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে বাগড়ি এলাকার বসতঘর

বৃষ্টির কারণে লোকজন ঘর থেকে বের হতে পারেনি। রাস্তাঘাট ফাকা, লোকজন নেই বললেই চলে। এ ছাড়া নদী তীরবর্তী অঞ্চলের বাগানবাড়ি কাচারাস্তা, পুকুর, মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। পানি ঢুকে পড়েছে নদী তীরবর্তী আমন ধানের জমি, আগাম শীতকালীন সবজি ক্ষেতে বাগান বাড়িতে ও রাস্তাঘাটে। এতে মৌসূমী শাক-সবজি গোড়া পচে গিয়ে ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে। স্বাভাবিক জীবযাত্রা ব্যাহত হয়েছে অনেকের। বিষখালি নদী এলাকার বাসিন্দারা জানান, স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায ২/৩ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ এলাকায় ৯ টি গ্রামের ফসলের ক্ষেত, মাছের ঘের, পথঘাট, বাগানবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। রাজাপুরের মঠবাড়ি বাসিন্দারা জানান, মঠবাড়ি, মানকি, সুন্দর, পুখরীজানা, নাপিতের হাট এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বাড়ি ঘরে পানি ঢুকেছে। মাছের পুকুর তলিয়ে গেছে। রোপা আামন বীজতলাও তলিয়ে রয়েছে।
ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ ফজলুল হক জানান, ২দিনের টানা বৃষ্টিতে কিছুৃ স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ক্ষতির আশঙ্কা করছি।
এদিকে কাঁঠালিয়া প্রতিনিধি ফারুক হোসেন জানান, মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে অতি বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় কাঁঠালিয়ার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পানিতে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। স্বাভাবিক জোয়ারে চেয়ে অধিক উচ্চতায় বিষখালীসহ ছোটবড় নদীতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বর্ষণে আগাম শীতকালিন সবজী পানের বরজের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তলিয়ে গেছে উপজেলা পরিষদ মাঠ, রাস্তা-ঘাট ঘরবাড়ী ও মাছের ঘর। জোয়ারের অস্বাভাবিক পানিতে তলিয়ে গেছে উপজেলার ১৫টি গ্রাম। বিষখালী নদীতে বেড়িবাঁধ না থাকায় নদী তীরবর্তী কাঁঠালিয়া সদও, বড় কাঁঠালিয়া, জয়খালী, চিংড়াখালী, মশাবুনিয়া, হেতালবুনিয়া, আমুয়া, পাটিখালঘাটা, শৌলজালিয়া, তালগাছিয়া, রঘুয়ার চর, রঘুয়ার দড়িচর, আওরাবুনিয়া ও জাঙ্গালিয়া গ্রামের মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলা সদরের পোস্ট অফিস রোড, পুরাতন রোডসহ বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জয়খালী গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান জানান, পানিতে পাকের ঘর তলিয়ে যাওয়ায় অনেকের ঘরে দুপুরে রান্না হয়নি। মহিষকান্দি গ্রামের কৃষক মোশারফ হোসেন জানান, টানা বৃষ্টিতে আগাম শীতকালিন সবজীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবজি ক্ষেতগুলোতে লাল শাক, পালং শাক, ধনে পাতা বাধাকপি মুলাসহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালিন সবজী কেবল বাড়তে শুরু করেছিল। শুক্রবার সকালে সবজী ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায় ক্ষেতের সব ফসল মাটির সাথে মিশে গেছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবে না অনেক কৃষক। কাঁঠালিয়া সদরের কৃষক আঃ মজিদ জানান, অতি বর্ষণে আমন ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। যেসব ক্ষেতে ধানের ছড়া বের হয়েছিল তা নুয়ে পড়েছে। এছাড়া অনেক মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। কৃষি অফিসার কৃষিবীদ মো. শহীদুল ইসলাম জানান, ভারী বর্ষণে সবজী ক্ষেতের কিছুটা ক্ষতি হলেও আমনের কোন ক্ষতি হবেনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here