1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন

ঝালকাঠিতে যত্রতত্র পেট্রল এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি

  • প্রকাশিত : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২০
  • ৮৩ বার পড়া হয়েছে
ঝালকাঠি জেলায় যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে তরলীকৃত পেট্রলিয়াম (এলপি) গ্যাসের সিলিন্ডার ও পেট্রল।
ঝালকাঠি জেলায় যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে তরলীকৃত পেট্রলিয়াম (এলপি) গ্যাসের সিলিন্ডার ও পেট্রল।

স্টাফ রিপোর্টার
নীতিমালা লঙ্ঘন করে ঝালকাঠি জেলায় যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে তরলীকৃত পেট্রলিয়াম (এলপি) গ্যাসের সিলিন্ডার ও পেট্রল। অনুমোদিত পেট্রল পাম্প ছাড়া পেট্রল-জাতীয় দাহ্য পদার্থ বিক্রির বিধান নেই। কিন্তু তা উপেক্ষা করে রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার এলাকা ও সড়কের মোড়ে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের পাশাপাশি জারিকেন ও বোতলে পেট্রলসহ দাহ্য পদার্থ বিক্রি হচ্ছে। তবে কোন দপ্তরেই নেই গ্যাস এবং জ্বালানি তেল বিক্রি দোকানের সঠিক কোন তথ্য।
সরকারি বিধি মোতাবেক গ্যাস সিলিন্ডার, পেট্রল, মবিল বিক্রির জন্য কমপক্ষে পাকা মেঝেসহ আধাপাকা ঘর, ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা সংক্রান্ত লাইলেন্সসহ অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার এবং মজবুত ও ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার থাকতে হবে। একজন ব্যবসায়ী ওই সব শর্ত পূরণ করলেই কেবল বিস্ফোরকদ্রব্য বিক্রির নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন। বিস্ফোরকদ্রব্য বিক্রির লাইসেন্স ছাড়া কোনো দোকানে দাহ্য পদার্থ বিক্রি করা যাবে না। কিন্তু এ আইনের তোয়াক্কা করছেন না স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
যত্রতত্র গড়ে ওঠা দাহ্য পদার্থ বিক্রি না করতে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেছে নতুন কলেজ রোডের একাধিক বাসিন্দা। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়ছে পরিবহন সংখ্যাও। একারণে জ্বালানী তেলের চাহিদাও বাড়ছে দিন দিন। এ সুযোগে সরকারী আইনের তোয়াক্কা না করে কোন বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই গাড়ির জ্বালানী তেল হিসেবে বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ বিক্রি করছে। জ্বালানী তেল বিক্রির জন্য বিস্ফোরক লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, নো অবজেকশন সার্টিফিকেট, টিআইএন, ট্রেড লাইসেন্স এবং অগ্নি নির্বাপকযন্ত্র রাখার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই মানছে না কোন নিয়ম। শুকনো মৌসুমের শুরুতেই ব্যবস্থা নেয়া না হলে নারায়নগঞ্জের মতোই ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, জেলা শহরের ফায়ারসার্ভিস ও সদর পুলিশ ফাড়ি সংলগ্ন নতুন কলেজ রোডের সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের উত্তর পাশে একটি চতুর্থতলা দালানের নীচতলায় জ্বালানী তেল বিক্রির পাশাপাশি তৈরী ও বিক্রি করা হচ্ছে পোষাক। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অদূরে এতোগুলো সরকারী প্রতিষ্ঠানের সন্নিকটে এমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা উদ্বেগজনক। স্থানীয়রা ওই ব্যবসায়ীকে নিষেধ করা সত্বেও তিনি কোন গ্রাহ্য করছেন না। এছাড়া এ সড়কের মধ্যে রয়েছে আরো কয়েকটি জ্বালানী তেল বিক্রের দোকান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা শহরসহ ৪ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজার এলাকায় তুলার দোকান, ওষুধের দোকান, মুদির দোকান, ফলের দোকান, কাপড়ের দোকানসহ বিভিন্ন দোকানে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার ও জ্বালানী তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সড়কের মোড়ে এক লিটার অথবা আধা লিটার ওজনের প্লাস্টিকের বোতলে পেট্রল ভরে পসরা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। যে কেউ ইচ্ছা করলেই বোতলভর্তি পেট্রল কিনতে পারছেন।
ঝালকাঠি ফায়ারলাইসেন্স পরিদর্শক দেওয়ান মো. রাজিব জানান, গ্যাসের সিলিন্ডারের ব্যবসা করলে অবশ্যই তাকে লাইসেন্স নিতে হবে। সড়কের ধারে সাজিয়ে রেখে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা খুবই বিপজ্জনক। এ ছাড়া যত্রতত্র পেট্রল বা দাহ্য পদার্থ বিক্রির কারণে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডসহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
তিনি আরো জানান, ঝালকাঠি জেলার ৪উপজেলায় ১১শ’রও বেশি ফায়ার লাইসেন্স আছে। এরমধ্যে ইটভাটার ২৩টি লাইসেন্স দিয়েছি। আরো কিছু আছে যেগুলো আমাদের আওতায় এখনও আসেনি। পেট্রোল পাম্পের ৫টি লাইসেন্স আমাদের আওতাভুক্ত আছে। আরো কয়েকটি পেট্রোল পাম্প আছে যাদের আমরা নোটিশ করার পরেও তাদের কোন রেসপন্স নেই। পেট্রোলপাম্প মালিক সমিতির সাথে কথা বললে তারা আমাদের জানিয়েছেন করোনা পরিস্থিতির জন্য নিস্ক্রিয় আছেন। জেলায় ইটভাটাগুলোর মধ্যে নলছিটিতে সংখ্যা বেশি। অন্যান্যের মধ্যে ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক, ফ্লাওয়ার মিল, গ্যাসসিলিন্ডার ও জ্বালানি তেল বিক্রির দোকান, ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন আকারে জেলায় মোট ১১শর বেশি লাইসেন্স আছে।
উপজেলার নবগ্রাম বাজারের একজন গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা ছোট ব্যবসায়ী। সারা দিনে দু-একটা সিলিন্ডার বিক্রি করি। এ আইন সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণা নেই। লোকজনের চাহিদা থাকায় ডিলারদের কাছ থেকে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে এসে বিক্রি করেন বলে তিনি জানান।
সচেতন ব্যক্তিরা জানান, আইনের প্রয়োগ না থাকায় দিন দিন বেড়ে চলেছে এই ব্যবসা। কোমল পানীয়র পুরনো বোতলে ভরে পেট্রল বিক্রি করা হচ্ছে। এসব দোকানের পেট্রলের ক্রেতাদের অনেককে দোকানিরা চেনেন না। এটি খুবই বিপজ্জনক। দুস্কৃতকারীদের হাতেও পেট্রল চলে যেতে পারে।
ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. কামাল হোসেন জানান, দাহ্য পদার্থ বিক্রির সুনির্দিষ্ট বিধিমালা আছে। যত্রতত্র বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের কর্মকান্ডে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews