ঝালকাঠির নৌ ও স্থলপথে শান্তি ছড়িয়ে দিতে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান

0
298
ঝালকাঠিতে সড়ক ও মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে জেলা পুলিশের অভিযানে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযানে পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন।

মোঃ আতিকুর রহমান
৭৫৮.০৬ বর্গকিলোমিটারে ৪ উপজেলা নিয়ে ঝালকাঠি জেলা গঠিত। ১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রæয়ারী মহাকুমা থেকে জেলায় উন্নতি করা হয়। বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কে ঝালকাঠি অংশে এবং বরিশাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের পটুয়াখালীর ঝালকাঠির অংশের স্থলপথে শান্তি ছড়িয়ে দিতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে জেলা পুলিশ। সেই সাথে জেলা পুলিশের নৌ-পুলিশ শাখার মাধ্যমে ঝালকাঠির অন্তর্ভুক্ত সুগন্ধা নদীর ১৫কিলোমিটার, বিষখালী নদীর ২৯ কিলোমিটার এবং গাবখান নদীর ১৮ কিলোমিটারেও এ অভিযান পরিচালনা করা হবে। যাতে করে কোন দুষ্কৃতিকারী চক্র যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহনে চাঁদাবাজিসহ কোন ধরনের অপকর্ম করতে না পারে সে ব্যাপারে বিশেষ অভিযানে তৎপর রয়েছে জেলা পুলিশ। শনিবার (১৩ জুন) দুপুর ১২ টায় বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠির গাবখান সেতৃুর টোলপ্লাজায় সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধের অভিযান পরিচালনাকালে ঝালকাঠি পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন এসব তথ্য জানান।
জানাগেছে, বরিশাল থেকে ঝালকাঠি হয়ে ভোমরা-বেনাপোল স্থলবন্দরের পণ্যবাহী ও এসব এলাকার লোকজনের যাতায়াতের জন্য যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচলের সহজতম রুট হিসেবে ব্যবহার করে আসছে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের চালকরা। অপরদিকে ঝালকাঠির সুগন্ধা ও গাবখান চ্যানেল হয়ে পায়রা সমুদ্র বন্দর, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ও মংলা সমুদ্র বন্দরের পণ্যবাহী এবং স্থানীয়দের দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলাচলের জন্য যাত্রীবাহী নৌ-যান চলাচল করছে। সুগন্ধা ও গাবখান নদীর মোহনা থেকে ১০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বিষখালী নদীটি বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পতিত হয়েছে। বিষখালী নদীর ঝালকাঠি অংশে রয়েছে ২৯ কিলোমিটার।
ঝালকাঠি জেলার নৌ ও স্থলপথে যাতে কোন ধরনের জলদস্যু, ডাকাত ও চাঁদাবাজরা অপকর্ম করতে না পারে এজন্য বিশেষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জেলা পুলিশ। শনিবার দুপুর ১২ টায় ঝালকাঠির গাবখান সেতুৃর টোল প্লাজায় পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী যানবাহনের চালকদের সাথে কথা বলেন পুলিশ সুপার মোঃ ফাতিহা ইয়াসমিন। চলাচলের সময় পথের কোথাও কোন টাকা দিতে হয়েছে কি না তার খোঁজ খবর নেন পুলিশ সুপার। কোথাও কোন টাকা দিতে হয়নি বলে পুলিশ সুপারকে জানান চালকরা।
এসময় ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোঃ হাবিবুল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়াটার) কাজী মোঃ ছোয়াইব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এমএম মাহমুদ হাসান, সদর থানার অফিসার ইন চার্জ (অপারেশন) মোঃ মুরাদ আলীসহ পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ঝালকাঠি পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন জানান, ঝালকাঠি জেলার সড়ক ও নৌ-পথে সবাই নির্বিঘ্নে চলাফেরা করবে। সরকার নির্ধারিত টোল ছাড়া কোন ধরনের টাকা-পয়সা কাউকে দেয়া যাবে না। পুলিশ হেডকোর্য়াটারের নির্দেশনা অনুযায়ী পণ্য ও যাত্রীবাহী চালকদের সাথে কথা বলে তাঁদের সচেতন করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সকল ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশ তৎপর রয়েছে। কোন অপ্রীতিকর সংবাদ শুনলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে পুলিশ বলেও জানান পুলিশ সুপার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here