1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন

ঝালকাঠির পেয়ারার সম্ভাবনা কাজে লাগানোই বড় চ্যালেঞ্জ

  • প্রকাশিত : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২০
  • ২৪৬ বার পড়া হয়েছে

মোঃ আতিকুর রহমান
ধান, নদী আর খাল এই তিনে বরিশাল। বরিশাল বিভাগের মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে নদী ও কৃষি। কৃষিতে সফলতার পাশাপাশি এ নদী মাতৃক অঞ্চলে মৎস্য সম্পদেও ভরপুর। তাই প্রবাদ রয়েছে “মাছে ভাতে বাঙালী”।
বরিশাল বিভাগের ছোট্ট একটি জেলা ঝালকাঠি। সুগন্ধা, বিষখালী, গাবখান এবং ধানসিঁড়ি নদীর পলিতে উর্বর হয়ে উঠেছে দক্ষিণের এ জেলার মাটি। স্থানীয়দের জীবিকার বড় মাধ্যমই হলো কৃষি আর জেলাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নদী। প্রচলিত কৃষির পাশাপাশি পেয়ারা চাষের জন্য দেশে-বিদেশে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে ঝালকাঠি। কয়েক দশকের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ঝালকাঠির পেয়ারা সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। স্থানীয়দের জীবনমান উন্নয়ন ও জেলার অর্থনৈতিক বিকাশে এ খাত সন্ধান দিচ্ছে নতুন দিগন্তের। ঝালকাঠির উন্নয়নে পেয়ারার সম্ভাবনা নজর কেড়েছে সরকারেরও। জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের তালিকায় জায়গা পেয়েছে বাংলার আপেল খ্যাত মৌসূমী এ ফলটি। জেলায় পেয়ারার আবাদ বাড়ানো ও উৎপাদিত পেয়ারা দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য নেয়া হচ্ছে নানামুখী পরিকল্পনা।
গত বছর ঝালকাঠির এই ভাসমান হাট-বাজার পরিদর্শন করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। পরিদর্শন শেষে তিনি ফ্রি ওয়াইফাই জোন চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সম্প্রতি ঝালকাঠির ভীমরুলি বাজারে চালু হয়েছে ফ্রি ওয়াইফাই জোন। যার মাধ্যমে কৃষকরা তাঁদের পণ্য অনলাইনে দেশ-বিদেশের ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারবেন।
স্থানীয়দের মতে, ঝালকাঠির পেয়ারা চাষ একটি সম্ভাবনাময় খাত। তবে এজন্য প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, নীতিমালা ও উদ্যোগ। প্রতিবছর ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও যশোর থেকে পাইকাররা এসে পেয়ারা কিনে নেন। কিন্তু এ বছর বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে পাইকার আসছেন না। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিলম্বে ফলন এবং ফলনও অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। আসছে না দেশী-বিদেশী পর্যটকরাও। তাই প্রতিবছরের তূলনায় এবছর পেয়ারার দামও অপেক্ষাকৃত অনেক কম। প্রতিমণ (৪ কেজি) পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ৩শ টাকায়। দাম নিয়ে হতাশায় পেয়ারা চাষীরা। পেয়ারা খাত নিয়ে এ সম্ভাবনা কাজে লাগানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কৃষক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
ঝালকাঠিতে পেয়ারা চাষ শুরু হয় প্রায় ২০০ বছর আগে। তখন এ ঝালকাঠি ছিলো বাকেরগঞ্জ জেলার অধীনে বরিশালের একটি অংশ। বর্তমানে ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্তিপাশা, গাভারামচন্দ্রপুর ও নবগ্রাম ইউনিয়নকে ঘিরে জেলার পেয়ারা চাষ বিকাশ লাভ করেছে। ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, প্রতি মৌসুমে ঝালকাঠিতে প্রায় ৭৫০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ হয়। হেক্টরপ্রতি উৎপাদন প্রায় ১০ হাজার কেজি। সেই হিসাবে এক মৌসুমে ঝালকাঠিতে প্রায় ৭৫ লাখ কেজি পেয়ারা উৎপাদন হয়। এ জেলায় স্বরূপকাঠি, মুকুন্দপুরী ও চায়না জাতের পেয়ারা চাষ হয়।
ঝালকাঠিসহ পুরো বরিশাল বিভাগের কৃষিজমি তুলনামূলক নিচু ও জলমগ্ন। ঝালকাঠির খাল ও নদ-নদীগুলোও জোয়ার-ভাটার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এ কারণে এখানে কাঁদি পদ্ধতিতে পেয়ারা চাষ করা হয়। চাষীরা হোগলা বন কেটে জমি তুলনামূলক উঁচু করে পেয়ারা চাষের জন্য কাঁদি ও বেড় নির্মাণ করেন। এরপর সেখানের কাঁদিতে বাগান করা হয়। ফলে এসব জমিতে সহজে জোয়ারের পানি ঢুকতে পারে না। ঢুকলেও তা অল্প সময়ের মধ্যে নিষ্কাশন হতে পারে। এ পদ্ধতির কারণে ঝালকাঠিতে পেয়ারার ভালো ফলন হয়। উৎপাদিত দেশীয় পেয়ারা হয় তূলনামূলক মিস্টি, সুস্বাদু ও উন্নত মানের।
সাধারণত পেয়ারা গাছে মাঘ মাসে ফুল আসে। পরপর তিনবার ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় একেকটি গাছ। আষাঢ়ের দিকে গাছে গাছে পেয়ারা পুষ্ট হতে শুরু করে। ওই সময় থেকেই বাজারে পাওয়া যায় ঝালকাঠির বিখ্যাত পেয়ারা। ভাদ্র পর্যন্ত বাজারে পেয়ারা বেচাকেনা হয়। সেই হিসাবে বর্ষাকাল তথা আষাঢ়-শ্রাবণ ও ভাদ্র মাস পেয়ারার ভরা মৌসুম। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এবছর পেয়ারার ফলন বিলম্ব হয়েছে। ফলনও হয়েছে অপেক্ষাকৃত কম। তাই প্রতিবছরের চেয়ে এবছর দেরীতে পেয়ারা পাকতে শুরু করেছে।
এখন পুরো দেশে বর্ষা চলছে। একই সঙ্গে ঝালকাঠিতে চলছে পেয়ারার ভরা মৌসুম। এ সময়টায় জেলার কীর্তিপাশা গাভারামচন্দ্রপুর ও নবগ্রাম ইউনিয়নের গ্রামগুলোয় গেলে পেয়ারার গন্ধে মাতোয়ারা হতে হবে। আশপাশের প্রায় ৩০ গ্রামের পেয়ারা বাগানে চাষীদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যাচ্ছে। ঝালকাঠির পেয়ারা চাষের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কীর্তিপাশা ইউনিয়নের ভীমরুলী ভাসমান হাটের নাম। নৌকায় করে পাকা পেয়ারা নিয়ে ট্রলারে থাকা পাইকারদের সাথে দর কষাকষি করে পছন্দমতো মূল্য পেলেই বিক্রি করে দেন পেয়ারা চাষীরা। এ ভাসমান হাট দক্ষিণবঙ্গে ফলের সবচেয়ে বড় বাজার। দেশে পেয়ারার বৃহত্তম হাট বললেও ভুল হবে না।
ভীমরুলী হাট আর সড়কের পাশে অথবা খোলা মাঠে বসা দশটা বাজারের মতো নয়। এটি পুরোপুরি জলকেন্দ্রিক বা ভাসমান। পাশের জেলা পিরোজপুরের সন্ধ্যা নদীর পানি আসে ভীমরুলী খালে। বর্ষায় এ পানি খালটিতে প্রাণ এনে দেয়। সেই সঙ্গে ভীমরুলী খালে জমে ওঠে পেয়ারার ভাসমান হাট। আশপাশের ১০ গ্রাম থেকে প্রতিদিন শত শত নৌকা ভিড়ে এ ভাসমান হাটে। প্রতিটি নৌকাতে বোঝাই করা থাকে মণকে মণ পেয়ারা। পাইকাররা আসেন ট্রাক ও বড় ট্রলার নিয়ে। দম ফেলার সময় নেই কারো। দরদাম চলছে, বেচাকেনা হচ্ছে প্রতিনিয়ত, চলছে লোড-আনলোড। পুরোটাই পানির ওপর, নৌকার মধ্যে। পাইকাররা ট্রাক কিংবা ট্রলার বোঝাই পেয়ারা নিয়ে ছুটছেন ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, যশোর ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
কথা হচ্ছিল ভাসমান ভীমরুলী হাটের পেয়ারা বিক্রেতা গৌতম মিস্ত্রির সঙ্গে। তিনি বলেন, বারো মাসই এ অঞ্চলের খাল ও নদ-নদীগুলো পানিতে পূর্ণ থাকে। বর্ষায় এসব খাল-নদী যৌবনপ্রাপ্ত হয়। কানায় কানায় ভরে যায় পানিতে। এ সময় ভীমরুলী খালে জমে ওঠে ভাসমান পেয়ারার বাজার। ৫০-৬০ বছর আগে থেকে প্রতি মৌসুমে এ হাট বসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হাটটি দেশে-বিদেশে পরিচিত হয়ে উঠেছে। বেড়েছে বেচাকেনা। স্বাদে গুণে উন্নত মানের কারণে ঝালকাঠির পেয়ারা পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।
গৌতম মিস্ত্রি বলেন, সবে নতুন মৌসুমের পেয়ারা হাটে আসতে শুরু করেছে। বেচাকেনা চলবে আরো এক-দেড় মাস। মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ পেয়ারা ৩০০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুরুর দিকে বেচাকেনা কম হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এক মৌসুমে ভাসমান এ হাটে প্রায় ২ কোটি টাকার পেয়ারা বেচাকেনা হয়।
ভীমরুলীতে পেয়ারার ভাসমান হাটকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক মানুষ এ হাট দেখতে আসেন। ভাসমান এ হাট দেখতে আসেন বিদেশীরাও। আশপাশের পেয়ারার বাগানে ঘোরার পাশাপাশি তারা হাটেও ফলটির বেচাকেনা কার্যক্রম দেখতে ভিড় করেন। আর এতেই চ্যালেঞ্জ বাড়ছে ভীমরুলী ভাসমান হাটের।
ভীমরুলী ভাসমান হাটের প্রায় ২কিলোমিটার দূরত্বে ইকোরিসোর্ট খুলে পর্যটন ব্যবসায় নেমেছেন অনুপ হালদার। তিনি জানান, ভীমরুলী হাট ঘিরে পর্যটকদের আকর্ষণ দিন দিন বাড়ছে। আশপাশ এলাকায় গড়ে উঠছে রিসোর্ট ও পর্যটন কেন্দ্র। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পরিকল্পনা কিংবা উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এতে পর্যটকের ভিড়ে অনেক সময়ই হাটের কার্যক্রম বিঘিœত হয়। পর্যটকবাহী ট্রলারের ভিড়ে হাটে পেয়ারাবোঝাই নৌকাগুলো ভিড়তে সমস্যায় পড়ে। এমনকি পর্যটকবোঝাই ট্রলারের ধাক্কায় পেয়ারাবাহী নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পর্যটকরা পেয়ারা বাগানে অবাধে চলে যান। ফল পাড়েন। এতে বাগানের গাছ ও ফল নষ্ট হয়।
তিনি বলেন, আমরা কখনই চাই না পেয়ারা বাগান ও হাটে পর্যটকদের আনাগোনা বন্ধ করতে। এতে বাজার হারানোর আশঙ্কা রয়ে যায়। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেয়া জরুরি। একই সঙ্গে পেয়ারার উৎপাদন বাড়ানো ও উৎপাদিত পেয়ারা বিদেশে রফতানির জন্যও উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। এর মধ্য দিয়েই ঝালকাঠির পেয়ারার সম্ভাবনা বাস্তবে কাজে লাগানো যাবে।
অনুপ হালদার আরো বলেন, গতবছর ইকোরিসোর্ট খুলেছি পর্যটকদের বিনোদনের নতুন মাত্রা যোগ করতে। এখানে মধ্যাহ্নভোজসহ বিভিন্ন ধরনের ফাস্টফুড ও কোমল পানীয় বিক্রি করি। কিন্তু মহামারি করোনার কারণে এবছর এখন পর্যন্ত ইকোরিসোর্ট সংস্কার ও উন্মুক্ত করতে পারিনি।
কীর্তিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস শুক্কুর মোল্লা বলেন, দক্ষিণের জেলা ঝালকাঠির পেয়ারা বাগান ও ভাসমান হাটের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশে-বিদেশে। প্রতিদিন দেশী-বিদেশী পর্যটক আসেন এখানে। তবে তাদের জন্য কোনো অবকাঠামো সুবিধা নেই। স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে কয়েকটি পার্ক গড়ে উঠেছে। রয়েছে কিছু রিসোর্ট। তবে এগুলো পর্যাপ্ত সুবিধা দিতে পারছে না।
গতবছরের জুলাই মাসে ঝালকাঠির পেয়ারা বাগান ও ভীমরুলী ভাসমান হাট পরিদর্শন করেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। ওই সময় তিনি বলেন, ‘থাইল্যান্ড-ভিয়েতনামের বিভিন্ন বড় শহরে এমন ভাসমান বাজারের দেখা মেলে। তবে বাংলাদেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে জলে ভাসা বাজার-হাট গড়ে ওঠা সত্যিই অবাক করার মতো। জমজমাট হাট, এটা সত্যিই চমত্কার। অদ্ভুত সুন্দর ভাসমান এ হাট এবং আশপাশের প্রকৃতি যে এতটা নজরকাড়া হতে পারে, এটি এখানে না এলে বোঝার উপায় নেই।’ এর কিছু দিনের মধ্যে ঝালকাঠির এই ভাসমান হাট-বাজার পরিদর্শন করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। পরিদর্শন শেষে তিনি ফ্রি ওয়াইফাই জোন চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। স¤প্রতি ঝালকাঠির ভীমরুলি বাজারে চালু হয়েছে ফ্রি ওয়াইফাই জোন। যার মাধ্যমে কৃষকরা তাঁদের পণ্য অনলাইনে দেশ-বিদেশের ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারবেন। এর আগে ২০১৮ সালে ভীমরুলীতে ভাসমান হাট পরিদর্শন করেছেন ততকালীন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রীংলাও।
ঝালকাঠির পেয়ারার সম্ভাবনা নজর এড়ায়নি সরকারেরও। স্থানীয় বিখ্যাত পণ্যের বিকাশের জন্য জেলা ব্র্যান্ডিং ব্যবস্থা চালু হলে ঝালকাঠির ব্র্যান্ড হিসেবে শীতলপাটির পাশাপাশি পেয়ারাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। স্লোগান নির্ধারণ করা হয় ‘পেয়ারা আর শীতলপাটি, এ নিয়ে ঝালকাঠি’। এর মধ্য দিয়ে ঝালকাঠিতে পেয়ারার উৎপাদন ও বিক্রি বর্তমানের তুলনায় ১০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্য পূরণে পেয়ারার জাত সংরক্ষণ, আধুনিক ও প্রযুক্তিগত চাষ ব্যবস্থার বিকাশে চাষীদের প্রশিক্ষণ, নতুন নতুন বাগান সৃজন করা, পেয়ারা সংরক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণসহ বেশকিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিছু উদ্যোগ পরিকল্পনাধীন রয়েছে। এমনকি এখানকার পেয়ারা শুধু ফল হিসেবে বিক্রি না করে জ্যাম- জেলিসহ বিকল্প পণ্য তৈরির মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে।
ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফজলুল হক বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জেলার পেয়ারাচাষীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, পেয়ারা ঝালকাঠির জন্য আশীর্বাদ। আমরা এ আশীর্বাদের সম্ভাবনাকে বাস্তবে কাজে লাগাতে চাই। এ লক্ষ্য পূরণে পেয়ারাচাষীদের উন্নয়নের জন্য যেসব পদক্ষেপ নেয়া দরকার, তা নেয়ার কাজ শুরু হয়েছে। পেয়ারাকে জেলার ব্র্যান্ড হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কৃষকদের অনলাইনে পণ্য বিক্রির সুবিধার্থে ফ্রি ওয়াফাই জোন চালু করা হয়েছে। যার মাধ্যমে কৃষকরা তাদের কৃষি পণ্য অনলাইনে বিক্রি করতে পারছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews