1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট:
সমালোচনার মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, ভারত থেকে নাগরিকদের ফেরাতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের নতুন তারিখ দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের অভিযান, ঝালকাঠির ঈদ মার্কেটে ছুটির দিনে মানুষের ঢল, স্বাস্থ্য বিধির কোন তোয়াক্কা নেই বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার, ঝালকাঠিতে প্রস্তুতিমুলক সভা ঝালকাঠিতে অভ্যন্তরিণ চারটি রুটে গণপরিবহণ চলাচল শুরু ঝালকাঠি সিটি ক্লাবের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে কৃষকের বোরো ধান সংগ্রহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুল্লাহ’র পদোন্নতিতে প্যান এর বরিশাল কো-অর্ডিনেটর এর অভিনন্দন রাজাপুরে ১২ সহাস্রাধিক দুঃস্থদের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ঝালকাঠিতে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ১৪ জনকে জরিমানা
শিরোনাম:
সমালোচনার মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, ভারত থেকে নাগরিকদের ফেরাতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের নতুন তারিখ দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের অভিযান, ঝালকাঠির ঈদ মার্কেটে ছুটির দিনে মানুষের ঢল, স্বাস্থ্য বিধির কোন তোয়াক্কা নেই বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার, ঝালকাঠিতে প্রস্তুতিমুলক সভা ঝালকাঠিতে অভ্যন্তরিণ চারটি রুটে গণপরিবহণ চলাচল শুরু ঝালকাঠি সিটি ক্লাবের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে কৃষকের বোরো ধান সংগ্রহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুল্লাহ’র পদোন্নতিতে প্যান এর বরিশাল কো-অর্ডিনেটর এর অভিনন্দন রাজাপুরে ১২ সহাস্রাধিক দুঃস্থদের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ঝালকাঠিতে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ১৪ জনকে জরিমানা

ঝালকাঠির পেয়ারা রাজ্যে, স্ত্রীর চোখের আলোতেই দৃষ্টিহীন সুমন্ত’র জীবন

  • প্রকাশিত : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২০
  • ২১৭ বার পড়া হয়েছে
ঝালকাঠির ভীমরুলী এলাকার খালে শক্তহাতে নৌকা চালাচ্ছেন পুষ্প রানি।

মো. আতিকুর রহমান
বৈঠা হাতে নিয়ে ট্রলারের সাথে সাথেই দ্রুত গতিতে নৌকা চালিয়ে যাচ্ছেন মধ্য বয়সী এক নারী। দেখলে মনে হবে নৌকা নিয়ে ট্রলারের সাথে দ্রুত গতিতে নৌকা চালানোর প্রতিযোগিতা করছেন তিনি। আসলে তা নয়, দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে নৌকা চালাতে চালাতে এমন পারদর্শি হয়েছেন তিনি। জীবন সংগ্রামের কারণেই সংসার চালাতে শক্তহাতে নৌকার বৈঠা হাতে নিয়েছেন তিনি।
জীবন সংগ্রামী নারী পুষ্প রানি’র স্বামী সুমন্ত সমাদ্দার ঝালকাঠি সদরের কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের ভীমরুলি গ্রামের একজন চাষি। ১৯৯৪ সালে একটি দুর্ঘটনায় অন্ধ হন তিনি। এ অবস্থায় ১৯ বছর আগে বিয়ে করেন বানারীপাড়ার মেয়ে পুষ্পকে। সংসার জীবনে তিন ছেলে-মেয়ের জনক হয়েছেন সুমন্ত। বড় মেয়ে পিংকির বয়স ১৮ বছর, ছেলে সুমনের ১০ ও ছোট মেয়ে লক্ষীর বয়স ৬ বছর।
সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে পড়াশোনা করানোর ইচ্ছে থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা পেরে ওঠেন না। সংসারের জন্য অর্থ উপার্জনে ক্ষেত-খামারে কাজ করে থাকেন পুষ্প, তার সঙ্গে মাঝে মধ্যে যান সুমন্ত। তবে, তার মজুরি না থাকায় বাড়িতেই বেশিরভাগ সময় কাটান তিনি।
বসতঘর আর এক খন্ড জমি ছাড়া আর কিছুই নেই দৃষ্টিহীন সুমন্ত সমাদ্দারের। সেই বাড়ির চারপাশে ছোট ছোট নালা/খাল বয়ে যাওয়ায় বারো মাসই তাদের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম ডিঙি নৌকা। পুরাতন নৌকাটি ভেঙে যাওয়ায় সেটি ঘাটেই বাঁধা আছে। এরপর নতুন একটি নৌকা দিয়ে স্ত্রীর হাত ধরে সংগ্রামী জীবন পার করে যাচ্ছেন কোনো রকম। স্ত্রীর শ্রম ও ভালোবাসায় তিন সন্তান নিয়ে আর্থিকভাবে না হলেও মানসিকভাবে বেশ ভালো আছেন ৪৫ বছর বয়সী সুমন্ত।
স্ত্রী পুষ্প রানী বলেন, ‘আমার সব কাজ সহজ ও গতিশীল করে দেন তিনি। সুমন্ত অনেক ভালো একজন মানুষ। যে কারণে তার সঙ্গে সংসার করছি। সে কখনোই আমার কোনো কষ্টের কারণ হয়নি। ক্ষেত-খামারে বা অন্যের বাড়িতে যখন কাজে যাই, সে সঙ্গে যায়, বসে যে কাজগুলো করা সম্ভব সেগুলো করে, এগিয়ে দেয়। ইচ্ছা আর আমার কর্মদক্ষতার কারণে নিজ জীবনের সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। পেয়ারা বাগান আর সবজি চাষাবাদ সবমিলিয়ে দারিদ্রতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে সফল আত্মসংগ্রামী হিসেবে পুস্প রানী নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার এ উদ্যোগী কার্যক্রমে সহায়তা করছেন তার দৃষ্টিহীন স্বামী সুমন্ত সমদ্দার।
তিনি আরও বলেন, আমি নৌকার পিছনে বসে হাল ধরে বৈঠা বেয়েছি আর সে সামনে বসে বৈঠা বেয়ে গতি বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। যার ফলে স্বল্প সময়ে চলাচল করতে পারি।’ এভাবে আমার সব কাজের সহায়ক হিসেবে কাজ করছে সে।
বড় মেয়ে পিংকি বলেন, ‘টাকার অভাবে পড়াশুনা করতে পারিনি, মানুষের বাড়ীতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়, মানুষের ছেঁড়া জামা-কাপড় গায়ে পড়ে দিন যাপন করছে। খাট-বিছানা-টিভি-ফ্রিজ-সোফা ইত্যাদি বাসায় থাকা তো দূরের কথা ঘরে একটা চকিও না থাকায় মাটিতে মাদুর বিছিয়ে ঘুমাতে হয়, মাঝে মধ্যে ঠান্ডা লেগে অসুখ হলেও টাকার অভাবে ডাক্তার দেখানো এবং ঔষধ কেনা সম্ভব হয় না।
সুমন্ত সমাদ্দার বলেন, ‘এই বাড়ির ভিটেটুকু ছাড়া কিছু নেই। বছরের বিভিন্ন সময়ে স্ত্রী মানুষের বাড়িতে গিয়ে কাজ-কর্ম করে যে টাকা আয় করে তা দিয়ে সংসার চলে। সেখান থেকে কিছু টাকা দিয়ে পেয়ারার ৩টা ১শ’ ফুট লম্বা কান্দি বরগা নিয়েছেন গাছসহ। যেখানে থেকে আষাঢ় ও শ্রাবণ মাস জুড়ে প্রায় প্রতিদিনই ২/৩ শত টাকার পেয়ারা বিক্রি করছি।
তিনি আরও বলেন, পেয়ারার ফলনে দেরী এবং প্রতিবছরের চেয়ে এবছর ফলনও কম কিন্তু উৎপাদন ব্যয় বেশি হয়েছে। তাই এইবার মৌসুমের শুরুতেই ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে প্রতি মন পেয়ারা বিক্রি কতে হচ্ছে।
সুমন্ত সমাদ্দারের চাচাতো ভাই পরিমল সমাদ্দার জানান, ‘স্ত্রীর হাত ধরেই বছরের পর বছর এগিয়ে চলছে অন্ধ সুমন্ত। আয়-রোজগার করে পুষ্পের কারণেই বেঁচে আছে তারা। এ পরিবারের সবাই নৌকা বাইতে জানে। তাই পথ না থাকলেও চলতে ফিরতে কষ্ট হয় না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews