1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০২:৪১ অপরাহ্ন

করোনা সংকটকালে ঝালকাঠির দুটি আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জনগণের পাশে নেই

  • প্রকাশিত : সোমবার, ৪ মে, ২০২০
  • ৬৩২ বার পড়া হয়েছে

মোঃ আতিকুর রহমান
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) ও ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) নিয়ে ঝালকাঠি জেলায় দুটি আসন। এ দুটি আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী একডজনেরও বেশি। বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমনের সময়ে নেতাকর্মীসহ জনসাধারণের পাশে দাড়ায়নি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কেউই। এনিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও জনসাধারণের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছে জাতীয় পর্যায়ের হেভিওয়েট নেতারাও। করোনা দুর্যোগের মধ্যে কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্র নেতাকর্মীরাসহ শ্রমজীবী ও জনসাধারণকে আওয়ামীলীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ অবস্থান থেকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছেন। সদর উপজেলা বিএনপি, জেলা যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবকদল খাদ্যসহায়তা প্রদান করলেও উধাও রয়েছে সংসদ নির্বাচনের সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছায় টিকেট প্রত্যাশীরা।
অপরদিকে ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় একাধিকবার নৌকার মনোনয়নে বিজয়ী আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা, শিল্পমন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সাবেক শিল্প ও খাদ্যমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপির অর্থায়নে শনিবার (২মে) ১০হাজার জনসাধারণকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তাদের বসন্তের কোকিল ও সুযোগ সন্ধানী বলে আখ্যায়িত করেছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন ঝালকাঠি-০১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম জামাল, স্বেচ্ছাসেবকদলের কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রফিক হাওলাদার, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী মমতাজ বেগম, ছাত্রদল নেতা গোলাম আজম সৈকত, ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক ভিপি মাহবুবুল হক নান্নু, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য জেবা আহমেদ খান, সাবেক এমপি (২০০১-২০০৬) ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মিঞা আহমেদ কিবরিয়া, কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংসদ মহাসচিব নুরুল ইসলাম খান বাবুল, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট হোসেন আলী খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর, জেলা যুবদলের সভাপতি জিএম সবুর কামরুল।
ঝালকাঠির তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপির কর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান সোহাগ জানান, তারা সকলেই ঝালকাঠি জেলার দুটি আসনেই বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। করোনা ভাইরাসের কারণে ঝালকাঠির সাধারণ খেটে খাওয়া মেহনতী মানুষগুলো না খেয়ে আছে। করোনাভাইরাসে এতবড় বিপদেও ঝালকাঠির জনগণ ও বিএনপি’র নেতাকর্মীরা তাদের কোনরকম সাহায্য সহযোগিতা পেলোনা। যেখানে মানুষের বিপদে তাদের জনগণের পাশে থাকার কথা, নির্বাচন আসলেই পোস্টারে লেখবেন জনগণের বন্ধু, কৃতি সন্তান, সমাজ সেবক আরো অনেক কিছু। তাদের বিবেকহীনতা রাজনীতি আজ প্রশ্নবিদ্ধ।
তবে প্রত্যেক মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতার ব্যক্তিগত অনুসারীদের কাছে ফোনে ফোনে যোগাযোগ করে জেলার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ খবর রাখলেও খাদ্যসহায়তা প্রদানের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক ভিপি মাহবুবুল হক নান্নুর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তিনি মোবাইলে নেতাকর্মীদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং ধৈর্য ধরার আশ্বাস দিয়েছেন বলে তারপক্ষে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। প্রকাশ্যে ১৪ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর ১৩জনই ঢাকার বাসিন্দা। সেই সুবাদে সবারই একই কথা যাতায়াত ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় ঝালকাঠিতে আসা সম্ভব হচ্ছে না।
ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর জানান, মনোনয়ন প্রত্যাশী সবাই ঢাকায় থাকলেও আমি ঝালকাঠিতে থেকেই রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করি। জরুরী প্রয়োজনে মার্চ মাসের প্রথম দিকে ঢাকায় এসে লকডাউনে আটকা পড়েছি। ২৫ মার্চ থেকে ঝালকাঠিতে অঘোষিত লকডাউন শুরু হয়। সকল ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় ঝালকাঠি আসতে পারছি না। ঝালকাঠি জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ জনসাধারণের সাথে মোবাইল এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews