1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন

ঝালকাঠির মাঠে ঘাটে ছুটছেন প্রশাসনের ত্রাতা ‘দুই হাসান’

  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০
  • ৪৫১ বার পড়া হয়েছে
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম.এম মাহমুদ হাসান ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) আহম্মেদ হাসান

মোঃ আতিকুর রহমান
কোভিড ১৯ যখন বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোকে থমকে দিয়েছে। বাংলাদেশও বাদ যায়নি এর আক্রমণ থেকে। বর্তমান সময়ে পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্রের সরকারকে ঘুমোতে দিচ্ছেনা নভেল করোনা নামক এই ভাইরাসটি। দিন দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। দেশের এই ক্রান্তিকালে পরিবার পরিজনের কথা না ভেবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারের নির্দেশনা জনগণকে মেনে চলাতে ঝালকাঠিতে দিন-রাত অবিরাম মাঠে ঘাটে ছুটছেন প্রশাসনের ‘হাসান’ নামের দুই কর্মকর্তা। এই দুই কর্মকর্তার অবিরাম ছুটে চলা চোখে পড়ার মত। ঝালকাঠিবাসী সংক্ষেপে এদেরকে উপাধী দিয়েছেন ‘মানব সেবক দুই হাসান’। এদের একজন হলেন ঝালকাঠি সদর সার্কেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম.এম মাহমুদ হাসান, আর অন্যজন জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) আহম্মেদ হাসান। এ দুই হাসান’কে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে দেখে থাকেন ঝালকাঠির মানুষ। এরা পৃথকভাবে একজন ছুটছেন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকাজে, আবার অন্যজন অপরাধ দমনে ছুটছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে। আবার কখনো দুজনেই গোপন খবরে খাদ্য সহায়তা নিয়ে কড়া নাড়ছেন ক্ষুধার্তদের দরজায়। সেটা কথনও দিনে আবার কখনও রাতে। দুজনেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদেরকে ফোন করে জানতে চান কার ঘরে খাদ্য সংকট আছে, কে অদ্যপর্যন্ত কোন সরকারি সহায়তা পায়নি ? তারপর গোপনেই সেই অসহায় নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্তের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে দেবদূতের মত হাজির হচ্ছেন দুই হাসান। পুলিশের আদর্শবান কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান নিজ অর্থায়নেও অগনিত ব্যক্তির ঘওে গোপনে খাদ্য সামগ্রী পাঠিয়েছেন। আর জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা আহমেদ হাসানকে সরকারি সহায়তা নিয়ে প্রায়ই মধ্যবিত্তের ঘরে ঘরে মধ্য রাতেও ছুটতে দেখা যায়।
বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার সাতানি গ্রামের কৃতিসন্তান এম.এম মাহমুদ হাসান। একজন আদর্শ শিক্ষক পিতার গর্বিত সন্তান স্কুল-কলেজের গন্ডি পেরিয়ে ২৮তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে যোগদেন। সহকারি পুলিশ সুপার হিসেবে ঝালকাঠিতে যোগদান করলেও বর্তমানে সাধারণ মানুষের আস্থা নিয়ে ঝালকাঠিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে সদর সার্কেলের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। পুলিশের একজন নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা হিসেবে সেবা, সাহসিকতা ও বীরোত্তপূর্ণ কাজের জন্য ২০১৬ এবং ২০১৮ সনে প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) অর্জন করেন। এই পুরস্কারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তিনি জনগণের আইনি সেবাসহ অসহায়ের পাশে থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
অপরদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের বাঁশখালী উপজেলার কৃতিসন্তান আহমেদ হাসান নাটমুরা গ্রামের পুকুরিয়া হাইস্কুল থেকে এস.এস.সি, বাঁশখালী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচ.এস.সি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং বিষয়ে বিবিএ এবং এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করে ৩৭তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে যোগদেন প্রশাসন ক্যাডারে। বর্তমানে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে নেজারত ডেপুটি কালেক্টরের (এনডিসি) পদে দায়িত্বে আছেন।
দু’জনই বলেছেন, ঝালকাঠি জেলায় দক্ষ, যোগ্য এবং পরম মমতাসিক্ত মানসিকতার জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার রয়েছেন বিধায় তারা নিরলসভাবে কাজ করতে উৎসাহ পাচ্ছেন। ঝালকাঠির বিশিষ্টজনরা বলছেন, সিনিয়র কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে যদি দক্ষতা, যোগ্যতা এবং সততা থাকে তাহলে তার অধিনস্ত জুনিয়র কর্মকর্তারা স্বাধীনতা নিয়ে রাষ্ট্রের কাজে নিজেদের নিয়োজিত করতে পারেন। এমনটাই হয়েছে ঝালকাঠি জেলায়ও। এখানকার জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী এবং পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন দক্ষতা, যোগ্যতা এবং সততা এর কোনটাই তাদের মধ্যে কমতি নেই। এ জেলার শীর্ষ রাজনৈতিক কর্মকর্তারা বলেছেন, জেলার অভিভাবক ঝালকাঠি-নলছিটির সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু নিজেও সততা নিয়ে কাজ করেন। তিনি জেলা প্রশাসন বা পুলিশ বিভাগের বৈধ কোন কাজে হস্তক্ষেপ করেন না। তিনি জেলার আইন শৃঙ্খলা বিষয়ে সঠিক পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আর তাই এ জেলার ডিসি-এসপি সাহেবরা নিরলসভাবে জনগণের সেবক হিসেবে সরকারের পক্ষে স্বাধীন ও বাধাহীনভাবে কাজ করতে পারছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews