1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন

ঝালকাঠির শতদশকাঠি গ্রামের সংগ্রামী নারী, স্বামী পরিত্যক্তা লিজা’র উপার্জনেই চলছে সংসার ও সন্তানের পড়ালেখার খরচ

  • প্রকাশিত : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২০
  • ২৯৩ বার পড়া হয়েছে
ঝালকাঠি শহরের কালিবাড়ি রোডের পাশে বসে পেয়ারা বিক্রি করেন সংগ্রামী নারী লিজা।

স্টাফ রিপোর্টার
ঝালকাঠি সদর উপজেলার শতদশকাঠি গ্রামের লিজা (৪৫) শহরের কালিবাড়ি রোডে পেয়ারা ও মিস্টি কুমড়া নিয়ে বিক্রির জন্য বসেছেন। প্রতিদিন সকাল ১১টায় বসে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেচা-বিক্রি করেন। এতে যা উপার্জন হয় তা দিয়ে চলে তাদের জীবন সংসার। স্বামী পরিত্যক্তা লিজার এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে। মায়ের উপার্জনেই পড়ালেখা চলে দু’ভাই-বোনের।
লিজা জানান, আমাদের দাম্পত্য জীবনে প্রথমে মেয়ে এবং পরে ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। ছেলের বয়স যখন আড়াই বছর তখন স্বামী আমাদের ফেলে চলে গেছেন। মেয়ে মাদারীপুর সরকারী নার্সিং ইনস্টিটিউটে এবং ছেলে ঝালকাঠি সরকারী কলেজে এইচএসসিতে পড়ে। এতো বছর স্বামীর খোঁজ করেও এখন পর্যন্ত কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।
লিজা দুঃখ করে জানান, স্বামী থাকতেও যখন সন্তানরা পিতৃহারা, তখন মাকেই উভয় দায়িত্ব পালন করতে হয়। বাংলা সাল অনুযায়ী বৈশাখ থেকে চৈত্র হিসেবে প্রতিবছর পেয়ারা চাষের ১ বিঘা জমি লিজ নেই। বাগান পরিচর্যা করে সেখানে পেয়ারার পাশাপাশি বিভিন্ন সাথী ফসল যেমনঃ- শসা, করলা, চালকুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, কাকরোল, লেবু, পেপে উৎপাদন করি। তা বাগান থেকে কেটে স্থানীয়ভাবে পাইকারদের কাছে বিক্রি করলে ন্যায্য মূল্যের চেয়ে দাম কম পাওয়া যায়। তাই ভ্যান গাড়িতে করে ঝালকাঠি শহরে নিয়ে বিক্রি করতে হয়। এখন পেয়ারার মৌসুম, তাই পেয়ারা ও ভাদ্রা মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করছি। এভাবে অন্যান্য ফসলও শহরে রাস্তার পাশে বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্যকোন আয় না থাকায় পেয়ারা বাগানের কৃষিতে যা উপার্জন হয়, তা দিয়ে সংসার ও ছেলে-মেয়ের পড়াশুনার খরচ চালাতে হচ্ছে। দু’সন্তানের মধ্যে মেয়ে বড়। সে মাদারিপুর সরকারী নার্সিং ইনস্টিটিউটে নার্সিং পড়ছে। ছোট ছেলে ঝালকাঠি সরকারী কলেজে এইচএসসিতে পড়ে। ওদের পড়াশুনাসহ সব খরচই আমার একার বহন করতে হয়।
সন্তানদের জীবনের উন্নতির দিকে তাকিয়ে একার শ্রম দিয়েই সবকিছু করতে হচ্ছে। কারণ দরিদ্র বাবার বাড়িতে শুধুমাত্র থাকার যায়গাটুকু ছাড়া আর কিছুই নেই। সন্তানদের সামাজিক ও সহপাঠিদের কাছে মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখার কথা চিন্তা করে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি আত্মসংগ্রামী নারী লিজা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews