1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৪:২৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট:
সমালোচনার মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, ভারত থেকে নাগরিকদের ফেরাতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের নতুন তারিখ দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের অভিযান, ঝালকাঠির ঈদ মার্কেটে ছুটির দিনে মানুষের ঢল, স্বাস্থ্য বিধির কোন তোয়াক্কা নেই বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার, ঝালকাঠিতে প্রস্তুতিমুলক সভা ঝালকাঠিতে অভ্যন্তরিণ চারটি রুটে গণপরিবহণ চলাচল শুরু ঝালকাঠি সিটি ক্লাবের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে কৃষকের বোরো ধান সংগ্রহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুল্লাহ’র পদোন্নতিতে প্যান এর বরিশাল কো-অর্ডিনেটর এর অভিনন্দন রাজাপুরে ১২ সহাস্রাধিক দুঃস্থদের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ঝালকাঠিতে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ১৪ জনকে জরিমানা
শিরোনাম:
সমালোচনার মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, ভারত থেকে নাগরিকদের ফেরাতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের নতুন তারিখ দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের অভিযান, ঝালকাঠির ঈদ মার্কেটে ছুটির দিনে মানুষের ঢল, স্বাস্থ্য বিধির কোন তোয়াক্কা নেই বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার, ঝালকাঠিতে প্রস্তুতিমুলক সভা ঝালকাঠিতে অভ্যন্তরিণ চারটি রুটে গণপরিবহণ চলাচল শুরু ঝালকাঠি সিটি ক্লাবের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে কৃষকের বোরো ধান সংগ্রহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুল্লাহ’র পদোন্নতিতে প্যান এর বরিশাল কো-অর্ডিনেটর এর অভিনন্দন রাজাপুরে ১২ সহাস্রাধিক দুঃস্থদের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ঝালকাঠিতে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ১৪ জনকে জরিমানা

ঝালকাঠির শীতলপাটি শিল্পে করোনার থাবা

  • প্রকাশিত : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০
  • ১৯০ বার পড়া হয়েছে
ঝালকাঠি রাজাপুরের ডহরশংকর গ্রামের অসিম চন্দ্র দে শীতলপাটি তৈরি করেও করোনার কারণে এ বছর বিক্রি করতে পারেননি।

কে এম সবুজ
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ডহরশংকর গ্রামের অসিম চন্দ্র দে (৩২)। পাইত্র্যা বাগান পরিচর্যা, বেতি তৈরি, শীতলপাটি বিক্রি সবই করতে হয় তাকে। কঠোর পরিশ্রমী এই যুবক প্রতিবছর তিন-চার লাখ টাকার পাটি বিক্রি করে সংসার চালান। কিন্তু করোনায় এ বছর তিনি ১০ হাজার টাকারও শীতলপাটি বিক্রি করতে পারেননি। আয় হারিয়ে দুর্বিষহ অবস্থা তাঁর। শুধু অসিমই নয়, শীতলপাটি শিল্পের সঙ্গে জড়িত তিন শতাধিক পরিবার করোনায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
অসিম চন্দ্র দে বলেন, চট্টগ্রামে জব্বারের বলি খেলাসহ দেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও মেলায় লাখ লাখ টাকার শীতলপাটি বিক্রি করতাম। করোনার কারণে মেলা এখন বন্ধ, কোথাও বড় ধরণের অনুষ্ঠান হচ্ছে না। তাই আমাদের পাটি বিক্রিও বন্ধ। প্রতি বছর আমাদের গ্রাম থেকে ২০ লাখ টাকার শীতলপাটি বিক্রি হতো, এখন তা শূন্যের কোঠায়। শীতলপাটি শিল্প বর্তমানে হুমকির মুখে। আমাদের না খেয়ে মরে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। করোনায় দুই দফায় ১০ কেজি করে চাল পাইছিল অনেকে, কিন্তু এখন তাও বন্ধ। সংসার চালানোর মতো অর্থ আমাদের কাছে নেই।
অসিমের প্রতিবেশী অভিনাশ পাটিকর (৬৭) বলেন, পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে আছি। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এটাই বড় দুঃসময় আমাদের। সন্তানের মুখে দিকে তাকানো যায় না। নাতিদের প্রাইভেট পড়াতে পারি না। আমার ছেলে আগে পাটি বিক্রি করতো, এখন দিনমজুরের কাজ করছে। যেদিন কাজ পায় সেদিন খাওয়া হয়। সরকার যদি মাঠ থেকে ধান সংগ্রহের মতো আমাদের শীতলপাটি গ্রাম থেকে কিনে নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করে দিতো, তাহলেও শান্তিতে থাকতে পারতাম।
জানা যায়, ‘পেয়ারা আর শীতলপাটি, এ নিয়ে ঝালকাঠি’। জেলার ব্রান্ডিং পণ্য শীতলপাটির ঐতিহ্য দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও। প্রতি বছর চট্টগ্রামে জব্বারের বলি খেলাসহ বিভিন্ন উৎসবে ধুম পড়ে যায় শীতলপাটি বেচাকেনার। এ বছর করোনাভাইরাসের কারনে শীতল পার্টির ক্রেতা না থাকায় আর্থিক সংকটে পড়েছে ঝালকাঠিতে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত তিন শতাধিক পরিবার। সামান্য খাদ্যসামগ্রী ছাড়া কিছুই ঝোটেনি পাটিকরদের। তাই ঋণের কিস্তি মাথায় নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। বর্তমানে শীতলপাটি বিক্রি শূন্যের কোটায় রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার হাইলাকাঠি, ডহরশংকর ও গোপালপুর এবং নলছিটি উপজেলার কামদেবপুর গ্রামের তিনশতাধিক পরিবার শীতল পাটি বুনে জীবিকা নির্বাহ করে। এ কারণে গ্রামগুলোকে ‘শীতল পাটির’ গ্রামও বলা হয়। এখানকার শত শত হেক্টর জমি জুড়ে রয়েছে বিশাল নজরকাড়া পাইত্র্যা গাছের বাগান। শীতলপাটি, নামাযের পাটি ও আসন পাটি নামে তিন ধরনের পাটি তৈরি করা হয় বছরের পুরোটা সময়। ৯০ বছরের বৃদ্ধ থেকে শুরু করে ৮-১০ বছরের শিশুরাও নিপুন হাতে তৈরি করে শীতল পাটি। একটি পাটি বুনতে তিন-চার জনের দুই-তিনদিন সময় লাগে। যা বিক্রি হয় পাঁচশ থেকে দুই হাজার টাকায়। প্রতি বছর গ্রীস্মকালে বৈশাখ মাস থেকে ভাদ্রমাস পর্যন্ত পাঁচমাস প্রচুর শীতলপাটি বেচা বিক্রি হলেও এ বছর করোনা ভাইরাসের প্রভাবে শীতল পাটির বেচাকেনা নেই বললেই চলে। ফলে গত তিন-চারমাস ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছে পাটিকররা। শীতল পাটির বেচা বিক্রি না থাকায় কোন রকমের একবেলা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তাদের। বন্ধ রয়েছে ছেলে মেয়েদের লেখা পড়া। পেয়ারা এবং শীতল পাটিকে জেলার ব্রান্ডিং করা হলেও পাটিকরদের জন্য নেই কোনো ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা। পূঁজির জন্য পাটিকর শিল্পীরা দাদন ব্যবসায়ী, সুদখোর মহাজন ও এনজিওদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকেন। এ বছর করোনা ভাইরাসের প্রভাবে শীতল পার্টির বেচা-কেনা বন্ধ থাকলেও এনজিওদের কিস্তি আদায়ের চাপে পাটিকরদের জীবন অতিষ্ঠ। পাটি বাজারজাত করার জন্য সরকারি সহায়তা এবং পাটিকরদের জন্য কৃষি ঋণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
পাটিকর পুতুল রানী (৩৮) বলেন, আমরা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে শীতলপাটি তৈরির কাজে অর্থ ব্যবহার করি। নিজেদের কোন সম্পদ নেই। এ বছরও প্রায় ৫০টি পাটি তৈরি করেছি, কিন্তু বিক্রি করতে পারছি না। ঘরের মধ্যেই পড়ে আছে। এদিকে এনজিও থেকেও ঋণ পরিশোধের চাপ আসছে, তাদের কোন কিস্তি দিতে পারছি না। দুই চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়েছে।
সুনীতি বালা (৭০) বলেন, বিয়ের পর থেকেই পাটি বুনে স্বামীকে সংসার চালাতে সহযোগিতা করি। স্বামী মারা যাওয়ার পরে পাটির ওপর পরিবারের সবাই নির্ভরশীল। এ বছর একটি পাটিও বিক্রি করতে পারিনায়। তবুও বুনে যাচ্ছি, যদি ভাল সময় আবার ফিরে আসে, সেই আশায়।
ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, ঝালকাঠির রাজাপুর ও নলছিটি উপজেলার কয়েকটি গ্রামে শীতলপাটি তৈরি করে জীবীকা নির্বাহ করে প্রায় ৩০০ পরিবার। বর্তমানে করোনার কারণে তাদের শীতলপাটি বিক্রি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। আমরা তাদের খোঁজখবর নিচ্ছি। তাদেরকে আমরা ত্রাণ কার্যক্রমের আওতায় এনেছি। যতদিন এ অবস্থা থাকবে, ততদিন তাদের খাদ্যসহায়তা প্রদান করা হবে। আমরা আশাকরি, এ দুঃসময় বেশি দিন থাকবে না, তাদের শীতলপাটি আবারো বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করতে পারবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews