1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন

ঝালকাঠি বাজারে কাঁচা মরিচের ঝালে হাসফাস ক্রেতাদের

  • প্রকাশিত : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ২৪৪ বার পড়া হয়েছে
কাঁচা মরিচ।

মোঃ আতিকুর রহমান
কাঁচা মরিচ কিনতে বাজারে গিয়ে ঝালের তোড়ে ধাক্কা খেয়ে হাসফাস করছেন ক্রেতারা। মাসখানেকের ব্যবধানে দাম চার গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০০ টাকা কেজি। বন্যা আর বৃষ্টিতে ক্ষেত ডুবে গিয়ে মরিচগাছ নষ্ট হচ্ছে। অনেক এলাকায় ক্ষেত থেকে মরিচ সংগ্রহও করা যাচ্ছে না। আবার সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তারই প্রভাব পড়েছে দামে। বিক্রেতারা এমন যুক্তি দেখালেও অতিরিক্ত দাম আদায়ের চিত্র দেখা গেছে জেলার বাজারগুলোতে।
ঝালকাঠি বড় বাজার, পূর্ব চাঁদকাঠি চৌমাথা বাজার, কলেজ মোড় বাজার, বাগড়ি হাটসহ অন্যান্য বাজারে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কাঁচা মরিচ খুচরা বিক্রি হয়েছে ৩০০ টাকা কেজি। সপ্তাহখানেক আগের চেয়ে বর্তমানে খুচরা বাজারে কেজিতে পার্থক্য থাকছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। খুচরা বাজারেই কাঁচা মরিচের কেজি ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা।
সরেজমিনে বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুওে দেখা যায়, কাঁচা মরিচ কিনতে গিয়ে আকাশছোঁয়া দাম শুনে অনেক ক্রেতাই তর্ক জুড়ে দিচ্ছেন বিক্রেতার সঙ্গে। অনেকে না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।
বাগড়ি বাজারে এক ক্রেতা কিছুটা রাগান্বিত স্বরে বলেন, ‘আধাকেজি মরিচ কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিক্রেতাদের কেউই দেড় শ টাকার নিচে দেবে না। অথচ কয়েক দিন আগেও কাঁচা মরিচের কেজি ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। তাই না কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে চলে যাচ্ছি’।
সরকারী চাকুরীজীবী একজন জানান, বাজারে গিয়ে ৪০টাকার তরকারীর সাথে ১০টাকার কাচা মরিচ দিতে বলছিলাম দোকানীকে। আমাকে ১০টাকার কাচা মরিচ দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে। অনুরোধ করলে তখন বলে ১০০গ্রাম কাচা মরিচ ৩০ টাকা। আমি আপনাকে ১০০ গ্রাম মেপে সামনে দেই, তারপর আপনি ৩টি ভাগ করে ১ভাগ নিয়ে যান।
বাগড়ি বাজারের পাইকারি বিক্রেতা আব্দুর রহিম বলেন, ‘কাঁচা মরিচের অনেক মোকাম বন্ধ। উঁচু এলাকাগুলোতে যে মরিচ হচ্ছে তাই ভরসা। ফলে কৃষক পর্যায় থেকেই দাম বাড়িয়ে দিয়েছে’।
মূলত মানিকগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, বগুড়া, পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের আরো কয়েকটি জেলার উৎপাদন থেকেই দেশে কাঁচা মরিচের চাহিদা পূরণ হয়ে থাকে। বৃষ্টি আর বন্যার পানিতে ক্ষেত ডুবে যাওয়ায় এসব এলাকায় স্থানীয় বাজারেই এখন মরিচের ঘাটতি। ফলে দামও বেড়েছে কয়েক গুণ।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পৌষ মাসে মরিচের চারা রোপণ করা হয়। ফলন শুরু হয় চৈত্রের প্রথম সপ্তাহ থেকে। শ্রাবণ মাসে বর্ষার পানি মরিচ ক্ষেতে না ঢোকা পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। কিন্তু এবার আষাঢ়ের মাঝামাঝিতেই বন্যার পানি ক্ষেতে ঢুকে পড়েছে। ফলে মরিচের আগাম সংকট তৈরি হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews