1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন

নতুন কমিটির আশায় কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে আছেন ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা

  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১২১৯ বার পড়া হয়েছে
ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগ
উপরে বা থেকে সভাপতি পদ প্রত্যাশী শেখ সজিব, আল মাসুদ মধু, মোঃ জুবায়ের হোসেন, তরিকুল ইসলাম পারভেজ। নীচে বা থেকে সাধারন সম্পাদক পদপ্রত্যাশী শেখ রাব্বি, কাজী রইচ আহমেদ অন্তু, সৈয়দ আতিকুল ইসলাম হৃদয়, রেজবা আহমেদ আলভী।

মোঃ আতিকুর রহমান
ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের কমিটি মেয়াদউত্তীর্ণ হওয়ায় নতুন কমিটিতে কে কোন পদে আসীন হবে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। পদ পেতে নেতা-কর্মীরাও শুরু করেছেন দৌড়ঝাঁপ। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শীর্ষ পদ প্রত্যাশীদের ছবিসহ প্রচার প্রচারণাও দেখা যাচ্ছে পুরোদমে। সংগঠনটির সাধারণ নেতাকর্মীরাও আলোচনার শীর্ষে রেখেছেন বিষয়টিকে। নেতাকর্মীসহ সবাই তাকিয়ে আছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দিকে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ কখন ঝালকাঠি জেলা, শহর ও সদর উপজেলার কমিটি ঘেষণা করবেন। আর এ কমিটিও ১৪দলের মুখপাত্র এবং সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু এমপির দিকেও তাকিয়ে আছেন কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
জানাগেছে, গত ২০১৫ সালের ১৯ জুলাই তৎকালীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দক্ষিণ জনপদের গুরুত্বপূর্ণ জেলা ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন পায়। ১৯৪৮ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়ে ওঠা এশিয়ার সর্ব বৃহত্তম ও প্রাচীণ এই ছাত্র সংগঠনটি মা মাটি ও মানুষের প্রয়োজনে যুগে যুগে দুর্যোগে দুর্জয়ে মানবিকতায় গৌরব গাঁথা ইতিহাস ঐতিহ্যকে ধারণ করে অবদান রেখে চলছে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে তুলতে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম এই ছাত্র সংগঠনটি। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে জেলা, মহানগর, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ছাত্রলীগের সুসংগঠিত কমিটির মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনটি শক্ত অবস্থানে থেকে ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্ব করে চলছে।
ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের দীর্ঘদিন যাবৎ কমিটি না হওয়ার কারণে নেতাকর্মী ও পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে এক ধরনের চাপা হতাশা লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমান কমিটির অনেকে বিবাহিত ও সন্তানের জনক, অনেকের নামে আছে নানান বিতর্কিত অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি মন্তব্য। আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা বঙ্গবন্ধুর স্নেহাশিস এবং শেখ হাসিনার আস্থাভাজন নেতৃত্ব ১৪দলের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক জ্যেষ্ঠ নেতা আমির হোসেন আমু এমপির নিজ জেলা হওয়ায় নেতা-কর্মীরা তাঁর নির্দেশনা ও হস্তক্ষেপের আশায় বুক বেধে আছেন। ২০১৯ সালের ২০ নভেম্বর জেলা ছাত্রলীগ প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পদ প্রত্যাশীদের জীবন বৃত্তান্ত সংগ্রহ করলেও আজঅব্দি কোন কমিটি হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা ছাত্রলীগের এক নেতা বলেছেন, ‘বর্তমানে জেলার নেতৃত্ব সাংগঠনিকভাবে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে এগিয়ে চলছেন। কমিটির শুরু থেকে স্থানীয় গ্রুপিং ও ভাইদের আধিপত্যের ছত্রছায়ায় থেকে অনেক নাটকীয় অধ্যায় পার করলেও সংগঠন স্থবির হয়ে আছে। গত ৬ বছরে কলেজ, উপজেলা, শহর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনে ব্যর্থ ইউনিট শীর্ষ নেতারা। কেন্দ্র ঘোষিত অনেক প্রোগ্রামও আমাদের নেতৃত্ব বাস্তবায়ন করতে অনেকটা ব্যর্থ, এখানে ভাইদের নিয়ে ব্যানার আর নেতায় ঝালকাঠিতে অবস্থান করলে সবাই এক্টিভিটি বাড়িয়ে নেতাকে জানান দেয়া ছাড়া তেমন কিছু লক্ষ্য করা যায় না।’
আসন্ন কমিটিতে পদপ্রত্যাশী অনেক নেতাই জানিয়েছেন, ছাত্রলীগ একটি ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন। নেতৃত্বে যে বা যারাই আসুক ত্যাগী, পরিশ্রমী, মেধাবী ও স্বচ্ছ ক্লিন ইমেজের কর্মী বান্ধব বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রকৃত ছাত্র। যাদের একাডেমিক ধারাবাহিকতা রয়েছে এমন নেতৃত্বের প্রতি যেন দায়িত্ব দেয়া হয় এবং স্থানীয় সিন্ডিকেট বরাবর যে আনফিট নেতৃত্ব বের করে নিয়ে আসে এবার যেন সেসব না পারে সে বিষয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের প্রতি বিনীত আবেদন রেখেছেন। তবে জেলার একাধিক নেতা একে অপরের প্রতি পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে বলেছেন, এদের মধ্যে কেউ কেউ বিবাহিত আছেন, কেউ আবার পুলিশ মারা মামলার আসামি এবং কেউ কেউ শিক্ষাগত যোগ্যতায় স্কুলের গন্ডি পেরুতে না পারলেও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে পদ প্রত্যাশা করছেন।
ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে অনেক যোগ্য নেতৃত্ব রয়েছেন যারা সাংগঠনিক রাজনীতিতে তাদের নেতৃত্ব গুণ তুলে ধরেছেন স্বমহিমায়, আবার কেউ কেউ আছেন ভাইদের ছত্রছায়ায় থেকে আলোচিত প্রার্থী। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদ পেতে ইতোমধ্যেই যারা মাঠে নেমেছেন তারা হলেন, সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম পারভেজ, শহর ছাত্রলীগ সভাপতি মো. জোবায়ের হোসেন, জেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি শেখ তরিকুল ইসলাম সজীব, আব্দুল্লাহ আল মাসুদ মধু, সোহান খান সরোয়ার, আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসানুল বারী, সম্পাদকের পদ পেতে জোর লবিং চালাচ্ছেন জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ রাব্বি, উজ্জ্বল মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী রইচ আহম্মেদ অন্তু, সৈয়দ আতিকুল ইসলাম হৃদয়, শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক নাদিম মাহমুদ, প্রচার সম্পাদক শুভাশীষ সেন গুপ্তসহ আরো অনেকে।
একই সাথে ঝালকাঠি শহর এবং সদর উপজেলা শাখার কমিটি নিয়েও চলছে ব্যাপক গুঞ্জন ও লোবিং-তদ্বির। শহর শাখার সভাপতির পদ প্রত্যাশী রয়েছেন সদর উপজেলা শাখার সহসভাপতি মো. সোহেল হাওলাদার। তিনি পারিবারিকভাবেই আওয়ামী ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে সন্তান। শহর ছাত্রলীগের সহসভাপতি আবু তাহের শুভ সভাপতির পদ প্রত্যাশী। সাধারণ সম্পাদক পদে ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ ওয়াসী ও নাইম পদপ্রত্যাশী।
সদর উপজেলার সভাপতি পদে বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম খান, জেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক রুমান খান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে সদর উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তানিম ও ছাত্রলীগ নেতা অভিজিৎ রায় শান্ত পদপ্রত্যাশী।
সদর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তারিকুল ইসলাম তানিম বলেন, একজন বাঙ্গালী হিসেবে বাংলা ও বাঙ্গালির ঐতিহ্যকে রক্ষার্থে এবং এই বাঙ্গালি জাতির কল্যাণে নিজের সব ধরনের স্বার্থকে আত্মত্যাগ দিয়ে দেশ ও জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমার উদ্দেশ্য। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে শক্তিশালী করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে ঝালকাঠির মাটি-মানুষের অভিভাবক ও আমার প্রাণপ্রিয় নেতা জননেতা আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু এমপি মহোদয়ের হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সর্বদা নিরলস কাজ করে যাব।
কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে ইচ্ছুক বর্তমান জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুল ইসলাম হৃদয় বলেন, দাদা আব্দুর রশিদ ছিলেন ভাষা সৈনিক। ছেলে বেলা থেকেই মুজিব আদর্শ ও চেতনা লালন করে আসছি। দলীয় নিয়মনীতি ও আদর্শ ধারণ করে জেলা ছাত্রলীগকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে রাজপথে ছিলাম এবং আছি। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ইলেকশন কিংবা সিলেকশন যাই হোক আমি আশাবাদী।
এদের মধ্যে সভাপতির পদ পেতে ইচ্ছুক শহর ছাত্রলীগ বর্তমান কমিটির সভাপতি জোবায়ের হোসেন বলেন, সাংগঠনিক নেতৃত্ব বিবেচনা করলে সবার আগে আমি এ পদের যোগ্য। ছোট্ট এ জেলায় শিশুকাল থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে ছাত্রলীগের পতাকা শক্তহাতে ধরেছি। আমাদের সবার অভিভাবক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু মহোদয় বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলেই আমার বিশ্বাস।
এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, নতুন কমিটির হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে পারলে আমারও ভাল লাগবে। সেক্ষেত্রে আমাদের সবার অভিভাবক ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এমপি মহোদয় এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনায় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্বশীল পদের একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানাগেছে, ঝালকাঠি ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের বিষয়টি ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এমপি মহোদয়ের নির্দেশনায় করা হয়ে থাকে। বরাবরের মত আগামী কমিটির ক্ষেত্রেও তাই হবে। তবে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া ছাড়া এখন পর্যন্ত ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক দুর্বলতার কোন অভিযোগ নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews