1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ১১:৩৪ অপরাহ্ন

ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে করছে যান চলাচল, ঝালকাঠিতে তিন বছরেও শেষ হয়নি সেতু নির্মাণের কাজ

  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২০
  • ১২৪ বার পড়া হয়েছে
পিসি গার্ডার সেতুটির নির্মাণ কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি
ঝালকাঠিতে খুলনা-ঝালকাঠি মহাসড়কের কৃষ্ণকাঠি মানপাশা টেম্পো স্ট্যান্ড এলাকার পিসি গার্ডার সেতুটির নির্মাণ কাজ তিন বছরেও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

মো. আতিকুর রহমান
ঝালকাঠিতে খুলনা-ঝালকাঠি মহাসড়কের কৃষ্ণকাঠি মানপাশা টেম্পো স্ট্যান্ড এলাকার পিসি গার্ডার সেতুটির নির্মাণ কাজ তিন বছরেও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে চরম ঝুঁকি নিয়ে পুরোনো সেতু দিয়ে চলাচল করছে যাত্রীবাহী গাড়িসহ দূরপাল্লার বিভিন্ন পরিবহণ। কাজের ধীর গতির কারণে ব্যস্ততম এ সড়কের সেতু নির্মাণের এলাকায় প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছ থেকে কয়েক দফায় সময় বাড়িয়েও সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে পেরেছে মাত্র ৭০ ভাগ। এ বছরের জুনে সেই মেয়াদ শেষ হয়েছে। কবে নাগাদ সেতুর কাজ সম্পন্ন হবে তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এ পথে চলাচল করা বাস চালকসহ সাধারণ মানুষ। তবে সওজ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি অধিগ্রহণ করা জমি মালিকদের বাঁধাসহ বিভিন্ন জটিলতায় সময় মত সেতুর কাজ শেষ করা যায়নি। শিগগরিই এ সেতুর কাজ শেষ করা হবে।
ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে সওজের তত্তাববাধানে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সদরের মানপাশা টেম্পো স্ট্যান্ড ও জেলা আনসার ভিডিপি কার্যালয় থেকে গাবখান সেতু সংলগ্ন বৈদারাপুর পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার সড়কের সম্প্রসারণ ও সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করে ওয়েস্টার নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ কাজের সাথে আলাদাভাবে দরপত্রের মাধ্যমে একই ঠিকদারি প্রতিষ্ঠান মানপাশা টেম্পো স্ট্যান্ড সংলগ্ন ৪৪ (চুয়াল্লিশ) মিটারের দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণের দায়িত্ব পায়। এ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের শুরুতে এ সেতুর জমি অধিগ্রহণের পরে কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে অধিগ্রহণ করা জমির মালিকদের সাথে ঝামেলার কারণে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ ছিল। ২০১৮ সালের শেষের দিকে আবার কাজ শুরু করে ঠিকাদার। সেই থেকে এখন পর্যন্ত কাজের মাত্র ৭০ ভাগ শেষ হয়েছে। সেতুর পিলারের রড বাধাই করে ঢালাই করা হয়েছে। সেতুর মূল ভিত্তি পিলার, উইন ওয়াল (দেয়াল), অ্যাপার্টমেন্ট ওয়াল ও রূপ  স্লাব (চলাচলের জন্য সেতুর ওপরের মূল ঢালাই) কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। কাজের মেয়াদ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শেষ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৬ মাস বাড়ানোর আবেদন করেন। সওজ কর্তৃপক্ষ এ বছরের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বর্ধিত করে।
অন্যদিকে কাজের শুরু থেকে তিন বছর পর্যন্ত পাশের পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ লোহার সেতুটি দিয়ে বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন ভারী যান চলাচল করছে। লোহার সেতুটি কাজের সুবিধার্থে কেটে সরু করা হয়েছে। কোন পরিবহণ সেতুতে উঠলে অপর প্রান্তের গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ফলে অনেক সময় মহা সড়কে গাড়ির দীর্ঘ লাইন পরে যায়। অথচ লোহার সেতুটি আগে প্রশস্ত থাকায় দুটি গাড়ি পাশাপাশি অতিক্রম করতে পারত। সেতুটিও নড়বড়ে থাকায় একটি বড় আকারের গাড়ি উঠলেই সেটি দুলতে থাকে। এতে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
এদিকে কাজ শুরু করার সময় সেতুর সাথে সংযোগ থাকা পৌরসভার পানি সরবরাহের ৬ ইঞ্চির পাইপটি কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ফলে ৩ নং ওয়ার্ডের কৃষ্ণকাঠি এলাকার প্রায় দুই শতাধিক গ্রাহক প্রায়ই পানির সংকটে পরে। তাঁদের তিন কিলোমিটার দূরের মনু সড়কের পাম্পের ওপর নির্ভর করে থাকতে হয়। যেটি সব সময় চালু থাকে না। অথচ আগে শহরের ১২টি পাম্পের কিছু চালু থাকলেই এ এলাকার গ্রাহকরা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পানি পেত। সরেজমিনে ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে কৃষ্ণকাঠি টেম্পো স্ট্যান্ডে এলাকায় সেতু নির্মাণের কাজের স্থানে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকরা ঢিলেঢালা ভাবে কাজের গতি এগিয়ে চলছে। ব্রিজের পশ্চিম ঢালে এপ্রোজের জন্য সামান্য কিছু বালু ফেলা হলেও পূর্ব ঢালের এপ্রোজ খালিই রয়েছে। বিকল্প চলাচলের জন্য পুরোনো লোহার সেতুটি কেটে অর্ধেক সরু করা হয়েছে। সেতুতে ওঠার পথটিও চিকন হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে গাড়িগুলো পারাপার হচ্ছে। ভারী গাড়ি উঠলেই সেতুটি দুলে ওঠে। দুই পারে সব সময় যানবাহনের জট লেগেই থাকে। পৌরসভার পানি সরবরাহের মূল পাইপটি বিচ্ছিন্ন করা। এ বিষয়ে বারিশাল-খুলনা সড়কে চলাচল করা বিআরটিসি পরিবহনের চালক ফকরুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ এ সড়কে গাড়ি চালাই। তিন বছর পর্যন্ত দেখছি সেতুটির কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত কাজের ৮০ ভাগও শেষ হয়নি। আমাদের ঝুঁকি নিয়ে পুরোনো লোহার সেতুটি দিয়ে চলাচল করতে হয়। সব সময় দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকি।
কৃষ্ণকাঠি এলাকার ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, পুরোনো লোহার সেতুটি কেটে সরু করার সময় পৌরসভার পানি সরবরাহের ৬ ইঞ্চির পাইপটি কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ফলে আমরা কৃষ্ণকাঠি এলাকার প্রায় দুই শতাধিক গ্রাহক প্রায়ই পানির সংকটে থাকি। তিন কিলোমিটারের দূরের মনু সড়কে স্থাপিত পাম্প থেকে সব সময় পানি পাইনা।
কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টারের প্রকৌশলী এনায়েত হোসেন বলেন, শুরুতে অধিগ্রহণ করা জমির মালিকদের বাঁধার কারণে কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে নিয়েছি। এখন আর সমস্যা হবে না। দ্বিগুণ শ্রমিক নিয়োগ করে শিঘ্রই কাজ শেষ করার চেষ্টা করবো।
এ কাজের দেখভাল করার দায়িত্বে থাকা সওজের উপ-সহকারি প্রকৌশলী ফকরুল ইসলাম বলেন, মূল নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ব্রিজটি পূর্ব-পশ্চিম মূখী হওয়ায় পূর্বঢালের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে স্থানীয়দের সাথে ঝামেলা আছে। পশ্চিম ঢালে এপ্রোজের জন্য বালু ফেলতে পারলেও পূর্ব ঢালে বালু ফেলা যাচ্ছে না। ঠিকাদার অক্টোবর পর্যন্ত কাজের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছেন। এছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ এবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত আছে। আশাকরি শিঘ্রই কাজ সম্পন্ন হবে।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীমা ইয়াসমিন বলেন, কিছু জটিলতার কারণে সেতুর কাজটি ধীর গতিতে এগিয়েছে। এখন আর সমস্যা হবে না। আশাকরি ঠিকাদার তাঁর প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যেই কাজ শেষ করবেন। সেতুটি চালু হলে এ মহাসড়কে যান চলাচলে অনেক গতি ফিরে আসবে। পাশাপাশি পানি সরবরাহের পানির লাইনও স্বাভাবিক হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews