1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন

ঢাকার প্রেমিককে রাজাপুরে প্রেমিকার বাড়িতে হত্যার অভিযোগে মামলা, মেয়ে বাবা গ্রেপ্তার

  • প্রকাশিত : সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০
  • ১১১ বার পড়া হয়েছে
অভিযুক্ত শিক্ষিকা নুরুন্নাহার সুমি ওরফে মায়া ও নিহত ব্যবসায়ি আজিজুল হক।
অভিযুক্ত শিক্ষিকা নুরুন্নাহার সুমি ওরফে মায়া ও নিহত ব্যবসায়ি আজিজুল হক।

মো. এনামুল হোসেন খান
ঝালকাঠির রাজাপুরে এক স্কুলশিক্ষিকা ও তাঁর বাবার বিরুদ্ধে ঢাকার ব্যবসায়ী আজিজুল হককে (৩৮) হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। নিহতের ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম সোহেল বাদী হয়ে শনিবার (২৮ নভেম্বর) রাতে রাজাপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। অভিযুক্ত শিক্ষিকা নুরুন্নাহার সুমি ওরফে মায়া ও তার বাবা শহিদুল বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই স্কুল শিক্ষিকার রাজাপুর সদরের আদর্শপাড়া এলাকার ভাড়া বাসার সামনে থেকে আজিজুলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযুক্ত শিক্ষিকার দাবি, বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় অভিমান করে বাসার ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন আজিজুল।
নিহত ব্যবসায়ী আজিজুল শরিয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ধোনাই গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে। জানাগেছে, তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজে প্রডাকশন এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ করতেন। তারা সপরিবারে ঢাকায় বসবাস করতেন। ব্যক্তিজীবনে আজিজুল তিন সস্তানের জনক। বিবাহ ২টি। প্রথম স্ত্রী’কে ডিভোর্স দেন। ২য় স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার মীরপুরে থাকেন।
অভিযুক্ত শিক্ষিকার বাড়ি রাজাপুরের বড়ইয়া ইউনিয়নের চর পালট গ্রামে। উপজেলার মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা তিনি। বিশখালী নদীতে বাড়ি ভেঙে যাওয়ায় তারা বরিশালে বসবাস করতেন। চাকরির সুবাদে তিনি রাজাপুরে ভাড়া বাসায় একা থাকতেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি অবিবাহিত।
নিহত আজিজুল ও অভিযুক্ত শিক্ষিকার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আট বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষিকার সঙ্গে আজিজুলের পরিচয় হয়। এরপর তিনি নিজের চিকিৎসার জন্য মাঝেমধ্যেই ঢাকায় যেতেন। এ সময় আজিজুল শিক্ষিকার চিকিৎসায় সহযোগিতা করতেন।
তাদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্প্রতি আজিজুল ও শিক্ষিকা দীর্ঘ সময় মুঠোফোনে কথা বলতেন। এ নিয়ে আজিজুল ও তার স্ত্রীর মধ্যে কলহ দেখা দেয়। এদিকে রাজিব নামে এক যুবকের সঙ্গে সম্প্রতি শিক্ষিকার বিয়ে ঠিক করে তার পরিবার। রাজিব গত ২৬ নভেম্বর আজিজুলের মা শিক্ষিকার মোবাইলে ফোন দিয়ে আজিজুলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে নিষেধ করেন। যোগাযোগ করলে এর ফল ভালো হবে না বলে হুমকি দেন। এদিকে আজিজুল কাউকে কিছু না জানিয়ে গত ২৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে ঈগল পরিবহনের একটি নৈশকোচে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে রাজাপুর সদরের আদর্শপাড়া এলাকায় শিক্ষিকার ভাড়া বাসায় পৌঁছেন। এ সময় শিক্ষিকার বাবা মেয়ের বাসায় ছিলেন। আজিজুল বাসায় এসে রাজিবকে বিয়ে না করার জন্য শিক্ষিকাকে অনুরোধ করেন। এতে রাজি না হওয়ায় মেয়ে ও তার বাবার সঙ্গে বাগবিতন্ডা হয় আজিজুলের। অভিযুক্ত শিক্ষিকা পুলিশের জবান বন্দিতে উল্লেখ করেন- বিবাহে রাজি না হওয়ায় আজিজুল ছুড়ি দিয়ে নিজেকে হত্যার চেষ্টা করে, আমি ও বাবা থামানোর চেষ্টা করি। পরে শীলপাটার পুতা দিয়ে নিজের মাথা ফাটানোর চেষ্টা করে, আমরা তাকে থামানোর চেষ্টা করি। হঠাৎ আমার রুম ৪র্থ তলাথেকে দৌড়ে ছাদ থেকে নীচে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে।
মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, বাগবিতন্ডার একপর্যায়ে আজিজুলকে হত্যা করে তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দেন শিক্ষিকা ও তার বাবা।
এদিকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আজিজুলের লাশ উদ্ধারের পর থেকেই পলাতক ছিলেন শিক্ষিকা ও তার বাবা। শুক্রবার গভীর রাতে বরিশাল থেকে শিক্ষিকা ও তার বাবা শহিদুল বিশ্বাসকে আটক করেন পুলিশ। পরে মামলা দায়ের হলে আটককৃতদেও গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষিকা জানান, আজিজুল তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় অভিমান করে তিনতলা বাসার ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন আজিজুল। স্থানীয়রা বলেন, ‘অনৈতিক প্রেমের পরিণতি, একফুলকো দো মালি’।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, নিহতের ছোট ভাই বাদী হয়ে স্কুল শিক্ষিকা ও তার বাবাকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিকটিম আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, পুলিশি তদন্ত ও আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews