দুই বছর ধরে ঝালকাঠি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সিজারিয়ান অপারেশন হচ্ছে না

0
89
ঝালকাঠির মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সিজারিয়ান অপারেশন থিয়েটার।
ঝালকাঠির মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সিজারিয়ান অপারেশন থিয়েটার।

মো. আতিকুর রহমান
ঝালকাঠির মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে দুই বছর ধরে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে বাচ্চা প্রশব বন্ধ রয়েছে। ফলে গর্ভবতী মায়েদের সিজারের প্রয়োজনে স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন মোটা অংকের অর্থ ব্যায় হয়, অন্যদিকে বরিশালে নেয়ার পথেই অনেক মায়েরা মৃত্যু ঝুঁকিতে থাকেন। প্রায় দুই বছর যাবৎ এনেস্থেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, আট লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত জেলা ঝালকাঠির সদরে অবস্থিত ২০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে প্রায় দুই বছর যাবৎ এনেস্থেসিয়া চিকিৎসক নেই। এতে এই দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে এখানকার অপারেশন থিয়েটার। ফলে গর্ভবতী মায়েদের প্রয়োজনে এখানে সিজারিয়ান অপারেশন হচ্ছে না। এ ধরনের রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক অথবা বিভাগীয় শহর বরিশালে নিয়ে যেতে হয়। এতে একদিকে যেমন মোটা অংকের অর্থের প্রয়োজন, অন্যদিকে মা ও গর্ভস্থশিশুর সুস্থ থাকা নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। তা ছাড়া দরিদ্রদের পক্ষে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা জোগাড় করে অন্যত্র সেবা নেয়া দুঃসাধ্য হয়ে পরে। এখানকার এনেস্থেসিয়া চিকিৎসক ডাঃ মো. আমির হোসাইন প্রায় দুই বছর আগে উচ্চতর প্রশিক্ষণে গিয়ে কর্মস্থলে আর ফিরে আসেননি। তার পরিবর্তে কোন ডাক্তারও নিয়োগ দেয়া হয়নি। এতে মারাত্মক ভোগান্তিতে পরেছেন এখানে চিকিৎসা নিতে আসা স্বল্প আয়ের মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণির গর্ভবতী মায়েরা।
এই কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা শারমীন সুলতানা নামে একজন নারী জানান, গত আট মাস যাবৎ এখানকার চিকিৎসক মো. জোয়াহের আলীর কাছে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। তবে স্বল্প খরচে এই কেন্দ্রে ডেলিভারীর কাজ করানোর ইচ্ছা থাকলেও এনেস্থেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন শারমীন সুলতানা।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত চিকিৎসক ডা. মো. জোয়াহের আলী জানান, আধুনিক সুযোগ সুবিধা থাকা সত্তে¡ও শুধুমাত্র এনেস্থেসিয়া চিকিৎসকের অভাবে এখানে সিজারিয়ান সেকশন বন্ধ রয়েছে। তবে এখানে রোগী দেখা ও নরমল ডেলিভারীর কাজ নিয়মিতই হচ্ছে।
ঝালকাঠি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ কামাল হোসেন জানান, এনেস্থেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় অনেকদিন ধরে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে। সদর হাসপালের এনেস্থেসিয়া ডাক্তার এনে বর্তমান সংকট নিরসনের চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জনের সাথে কথা বলেছেন তিনি। তবে অচিরেই এ পদে একজন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হতে পারে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here