1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৯:১৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট:
ঝালকাঠিতে করেনাভাইরাসে ৩ জনের মৃত্যু টানা ৯ দফায় ইউপি চেয়ারম্যান পৌর মেয়র ও ৩০ ইউপিতে নৌকার জয় এমপি আমু’র সাথে নবনির্বাচিত মেয়রের সাক্ষাত ঝালকাঠিতে জনপ্রতিনিধিতে হেট্রিক করলেন যাঁরা ঝালকাঠি জেলা কল্যাণ সমিতি খুলনার নেতৃবৃন্দের বিবৃতি, ঝালকাঠি পৌর মেয়রসহ নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন শংকরপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবনটি অতি ঝুঁকিপুর্ণ ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ভিডিপি সদস্যদের সতর্ক দায়িত্ব পালন ঝালকাঠি পৌরসভা এবং ৩১টি ইউনিয়নে স্বতঃস্ফুর্ত ভোট অনুষ্ঠিত, দুই প্রার্থীর ভোট বর্জন ঝালকাঠি পৌর নির্বাচনে নৌকার জয় ঝালকাঠির ৩১ ইউপিতে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হলেন যাঁরা
শিরোনাম:
ঝালকাঠিতে করেনাভাইরাসে ৩ জনের মৃত্যু টানা ৯ দফায় ইউপি চেয়ারম্যান পৌর মেয়র ও ৩০ ইউপিতে নৌকার জয় এমপি আমু’র সাথে নবনির্বাচিত মেয়রের সাক্ষাত ঝালকাঠিতে জনপ্রতিনিধিতে হেট্রিক করলেন যাঁরা ঝালকাঠি জেলা কল্যাণ সমিতি খুলনার নেতৃবৃন্দের বিবৃতি, ঝালকাঠি পৌর মেয়রসহ নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন শংকরপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবনটি অতি ঝুঁকিপুর্ণ ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ভিডিপি সদস্যদের সতর্ক দায়িত্ব পালন ঝালকাঠি পৌরসভা এবং ৩১টি ইউনিয়নে স্বতঃস্ফুর্ত ভোট অনুষ্ঠিত, দুই প্রার্থীর ভোট বর্জন ঝালকাঠি পৌর নির্বাচনে নৌকার জয় ঝালকাঠির ৩১ ইউপিতে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হলেন যাঁরা

দেড়শতাধিক বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত, রাজাপুরের কারামাতিয়া মসজিদে জুমায় মুসল্লিদের সংকুলান হয় না

  • প্রকাশিত : রবিবার, ৯ মে, ২০২১
  • ৭১ বার পড়া হয়েছে
উত্তর নারিকেল বাড়িয়া কারামাত আলী (রহ.) জামে মসজিদ।
উত্তর নারিকেল বাড়িয়া কারামাত আলী (রহ.) জামে মসজিদ।

আতিকুর রহমান

হযরত মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী রহ. (জৌনপুরের পীর) বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে এসে প্রত্যন্ত এলাকার বিভিন্ন স্থানে বজরায় (বড় নৌকায়) সফর করতেন। সাথে থাকতো হুজুরের সফর সঙ্গিরা। নৌকা সুবিধামতো স্থানে নোঙর করে সফর সঙ্গিদের কাধে ভর করে পালকিতে গ্রামে গ্রামে (যাতায়াতের অনুন্নত পথ) ইসলাম প্রচার করতেন। বিভিন্ন স্থানে মাদ্রাসা-মসজিদও নির্মাণের নির্দেশ দেন। অনেক স্থানে আল্লাহর ওয়াস্তে স্থানীয়দের দেয়া জমিতে মাদ্রাসা/মসজিদ স্থাপনের জন্য চিহ্ন দিয়ে তিনি শুভ সূচনাও করেন। রাজাপুরে সফরকালে জৌনপুরের পীর হযরত মাওলানা কারামত আলী রহ. উত্তর নারিকেল বাড়িয়া গ্রামে একটি খোলা জায়গায় বিশ্রামের জন্য অবকাশ নেন। এসময় স্থানীয় এলাহিন নেছা নামে এক বৃদ্ধা মহিলা বোরকা পড়ে হুজুরের সামনে এসে দোয়া চেয়ে বলেন হুজুর আমি নিঃসন্তান। স্বামীও মারা গেছেন। আমার কিছু জমি আছে তা আল্লাহর ওয়াস্তে দান করতে চাই। তখন জৌনপুরী হুজুর একটি মসজিদের জন্য জমির সীমানা দিয়ে সেখানেই নামাজ আদায় করেন। দেড়শতাধিক বছর পূর্বে হুজুর এমসজিদ নির্মাণের শুভ সূচনা করেন। এরপর থেকে ক্রমান্বয়ে মসজিদের অগ্রগতি হতে থাকে স্থানীয়দের সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমেই। মসজিদের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সুদক্ষ কমিটি স্থানীয় সর্বমহলে প্রশংসিত। যার ফলে অত্র এলাকার আশপাশে একাধিক মসজিদ থাকা সত্তে¡ও উত্তর নারিকেল বাড়িয়া কারামাতিয়া মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা বেশিই থাকে। বর্তমানে মসজিদটি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট হলেও শুক্রবার জুমার দিনে মসজিদের মধ্যে মুসল্লিদের সংকুলান হয় না। সামনের পাকা ঈদগাহে কাপড় বিছিয়েও নামাজ পড়তে হচ্ছে মুসল্লিদের।

৯০ বছর বয়সী প্রবীণ মুসল্লি ও খাদেম আয়নাল আলী খলিফা জানান, কবে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে তার কোন সঠিক তথ্য নেই। তবে তার দাদা-নানারাও এই মসজিদে নামাজ পড়তেন। সেই থেকে তিনি ধারণা করেন প্রায় দুশত বছর হবে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা হয়েছে। হযরত মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী রহ. এ মসজিদটি নির্মাণ কাজ সূচনা করেছেন বলেও দাদার বরাত দিয়ে তিনি জানান।

মসজিদের প্রতিবেশী ৯০ বছরের বেশি বয়সী বৃদ্ধ আব্দুর রব হাওলাদার জানান, আমাদের ৪পুরুষ পূর্বে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। বুড়া এলাহিন নেছা হুজুরের সামনে গিয়ে দোয়া চেয়ে জমি দান করেন। সেই জমিতেই হুজুর মসজিদের চিহ্ন দেন। প্রথমে বাঁশের কোপা খুটি ও তালপাতার ছাউনী ছিলো। তা থেকে আস্তে আস্তে টিন-কাঠ থেকে এখন টিনসেড দালান হয়েছে।

৯৫বছর বয়সী মুসল্লি আব্দুল আউয়াল জানান, আমরা ছোট বেলা থেকেই এলাকার মধ্যে প্রথম মসজিদ হিসেবে নামাজ আদায় করছি। আমার দাদাও ছিলেন এ মসজিদের মুসল্লি। মসজিদের প্রতিষ্ঠা হিসেবে প্রায় দুই শত বছর হয়েছে বলেও ধারণা করেন তিনি।

মসজিদ কমিটির সভাপতি হারুন অর রশিদ জানান, হযরত মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী রহ. ১শ ৬০বছর পূর্বে এ এলাকায় ইসলাম প্রচারে এসে মসজিদের স্থান নির্বাচন করে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে শুভ সূচনা করেছেন। ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি স্থানীয়দের দান-অনুদানের উপর নির্ভর করেই অবকাঠামোসহ সার্বিক উন্নয়ন করা হয়েছে। সরকারীভাবে তেমন কোন সাহায্য-সহযোগিতা আসেনাই বললেই চলে। সরকারী কোন সহযোগিতা পেলে মসজিদের আরো উন্নয়ন করা সম্ভব হতো।

হযরত মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী রহ. এর বাংলাদেশে সফর, ইসলাম প্রচার ও প্রসারের তথ্য অনুসন্ধানে জানাগেছে, হযরত মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী (র.)-এর মত বড় বুযুর্গ ব্যক্তি তাঁর কালে এই উপমহাদেশে খুব কমই ছিলেন। ১৮০১ সালে দুনিয়ার বুকে আর্বিভুত শৈশবে তাঁর নাম কারামত আলী ছিল না। তাঁর নাম ছিল-মুহাম্মদ আলী জৌনপুরী। কিন্তু আল্লাহ’র পথে ও দ্বীন ইসলামের সেবায়, মানুষের খিদমতে তাঁর বাকী জীবনে অসংখ্য অলৌকিক (কারামত) ঘটনা ঘটে। আর এই ‘অলৌকিক’ তথা কারামতের কথা ছড়িয়ে পড়েছিল সকল মহলে। সেই থেকে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী নামে।

বাংলাদেশে ইসলামের নবজাগরণে পীর-আউলিয়া ও সূফী-দরবেশদের ভূমিকাই ছিল সবচেয়ে বেশি। এই পীর-আউলিয়ার অন্যতম হলেন হযরত মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী (র.)। তিনি তাঁর মুর্শিদ সায়্যিদ আহমদ শহিদ বেরেলভী (র.)-এর নির্দেশ মাথায় নিয়ে হিদায়াতের কাজে বাংলা ও আসামের পথে-প্রান্তরে সফর করনে। তিনি কলকাতা থেকে প্রথম আসেন যশোর। তারপর খুলনা এবং পুরো বাংলা। এ পুরো সফরই কাটে বজরায় (বড় নৌকা) করে।

জৌনপুরী পীর ছাহেব এ দেশের পথভ্রষ্ট মুসলামনদের নামায-রোযা, হজ্ব, যাকাত, ফিতরা, কুরবানী, জুমআর নামায আদায় অর্থাৎ শরীয়তের বিধি-বিধান বিষয়ে তাদের শিক্ষা দেন, তাদের এসব পালনে অনুপ্রাণিত করেন। এ কাজে বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ করেন মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকাহ্, মক্তব ইত্যাদি। ১৮০১ সালে জন্মগ্রহণ করে তিনি তাঁর ৭৮ বছর (মতান্তরে ৭৫ বছর) জীবনের ৫৭ বছরই দ্বীন ইসলামের জন্য ব্যয় করেন। এর মধ্যে ৫১ বছরই ছিলেন বাংলা ও আসামে। আর তিনি শেষ নিঃশ্বাসও ত্যাগ করনে বাংলাতেই। তাঁর দাফনও হয় এদেশের মাটিতে রংপুরে।
মাওলানা কারামত আলী (র.) কলকাতা থেকে একটি বজরার বহর সহযোগে রওনা হন আজকের বাংলাদেশে (তৎকালীন পুর্ববঙ্গ)। তাঁর এই বজরার বহররে একটিতে ছিলেন পরিবারের মহলিাগণ, একটিতে ছিল ভ্রাম্যমাণ মাদ্রাসা, একটিতে থাকতেন খাদিম ও র্কমচারীগণ, আর একটিতে থাকতেন মাওলানা ছাহেব নিজে এবং তাঁর খলীফা ও সাক্ষাৎপ্রার্থীগণ।

তাঁর এই ভ্রাম্যমাণ মাদ্রাসায় ইসলামী শিক্ষার তালিম দেয়া হতো। শিক্ষার্থীরা এখানে যাহিরী-বাতিনী বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতেন। শিক্ষা শেষে তারাই হতেন বিশিষ্ট বুযুর্গ ও আলিম। পরে তাদেরকে বিভিন্ন স্থানে খলীফা হিসাবে পাঠানো হতো। তারা সেখানে হিদায়াতের কাজ চালিয়ে যেতেন। এভাবে পুরো বাংলা জুড়ে গড়ে ওঠে ইসলামী শক্ষিার পরবিশে এবং জাগরণ। আজো বাংলাদশেরে খুব কম গ্রামই আছে যেখানে তাঁর অনুসারী নেই। তৎকালীন বাংলার অশিক্ষিত সমাজে হিদায়াতের কাজ খুব সহজ ছিল না। প্রথমে নিজেদের অজ্ঞতার কারণেই নামায-রোযা ও শরীয়ত বিষয়ে কথাবার্তা অনেকের ভাল লাগতো না। তারা পছন্দ করতো না এ জ্ঞানদান। অনেকেই ক্ষেপে উঠতো। তিরস্কার করতো তাঁকে। ঢিল ছুঁড়তো বজরা লক্ষ্য করে। জৌনপুরী ছাহেব যশোর ও বরিশাল অঞ্চলের বশে কয়েকেটি স্থানে এরূপ বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তাই বলে ক্ষান্ত হননি তিনি। বিরত হননি ইসলামের প্রচার কাজে।

পরে অবশ্য এই সব গ্রামবাসী তাদের নিজেদের ভুল বুঝতে পারতো। মুগ্ধ হতো তাঁর ওয়াজ-নসীহত শুনে। তারা ক্ষমা চাইতো। তওবা করতো এবং দলে দলে বাইআত হতো। আজো এসব এলাকায় মাওলানা কারামত আলী (র.)-এর ভক্ত ও অনুসারী বিপুল। এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে অধিক আলিম-উলামা দেখতে পাই। এর জন্য সবচেয়ে বড় অবদান তাঁর। এই অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক লোক তাঁর মুরীদ।

তখন এদেশে ইংরেজ শাসনাধীনে। তিনি এদেশের গ্রামে গ্রামে ঘুরে দেখলেন কোন কোন অঞ্চলে লোকজন জুমআ ও ঈদের নামায পড়ে না। তাদের মতে দেশ ইংরেজ শাসনাধীনে থাকায় জুমআ ও ঈদের নামায জায়যি নয়। তিনি ওয়ায, নসীহত ও যুক্তি-প্রমাণ দিয়ে মানুষের এ ধারণা ভেঙে দিলেন। এভাবে সবখানেই চালু হয় জুমআ ও ঈদের নামায। মাওলানা কারামত আলী (র.) শুধু আধ্যাত্বিক পুরুষই ছিলেন না। ছিলেন একজন শীর্ষস্থানীয় মুসলিম নেতা, যাঁর নেতৃত্বে এদেশের মুসলমানদের সামাজিক জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছিলো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews