1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
শুক্রবার, ০৬ অগাস্ট ২০২১, ১২:৪০ পূর্বাহ্ন

ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি বৃদ্ধিতে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত

  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২০
  • ৩১৫ বার পড়া হয়েছে
পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দেউরি সাইক্লোন সেন্টার পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী।

মোঃ অঅতিকুর রহমান
ঝালকাঠি সদর ও কাঁঠালিয়া উপজেলা সুগন্ধা এবং বিষখালী নদীর তীরে অবস্থিত। এ দু উপজেলার মধ্যদিয়ে বয়ে যাওয়া ৩০ কিলোমিটার বিষখালী নদীর তীরে বেড়ি বাঁধ না থাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে ৭ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নদী তীরবর্তি অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দু’তীরের বাসিন্দারা ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। বুধবার (২০ মে) দুপুর থেকে থেমে থেমে হালকা ও ভারী বৃষ্টি ও দমকা বাতাস বইতে শুরু করলে বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পল্লীবিদ্যুত এবং ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী (ওজোপাডিকো) কর্তৃপক্ষ। একারণে নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
বিষখালী নদী তীরে সদর উপজেলার সাচিলাপুর কিস্তাকাঠি এলাকার সোহেল খলিফা জানান, বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে রাত ১০টার দিকে অন্তত ৭ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে তলিয়ে গেছে বসতবাড়িসহ ফসলী জমি। নদীপাড়ের বাসিন্দারা ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। ঝড়ো ও দমকা হাওয়ায় অনেক গাছ উপড়ে পড়েছে এবং অনেক গাছের ডাল-পালা ভেঙে পড়েছে।
কাঁঠালিয়া উপজেলার দক্ষিণ চেঁচরী গ্রামের হুমায়ুন কবির সিদ্দিক ও আব্দুল মালেক জমাদ্দার জানান, ঘূর্ণিঘড় আম্পানে তাঁদের বাগানে রোপিত বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা উপড়ে পড়েছে, কিছু গাছপালা ভেঙে গেছে, ৭/৮ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাড়ির আঙিনা, গোয়াল ঘর তলিয়ে যায়। পুকুর তলিয়ে চাষ করা মাছ বের হয়ে গেছে। এতে প্রায় দুই/আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে তাঁদের।
জানাগেছে, সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর দুপাড়ে ২লক্ষাধিক লোকের বসবাস। সুগন্ধা ও বিষখালী ঝালকাঠি জেলার অংশে নদীর দৈর্ঘ প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। এর ৫কিলোমিটারে বেড়ি বাঁধ থাকলেও বাকি ৩০ কিলোমিটারে বেড়ি বাঁধ নেই। যেটুকুতে বেড়ি বাঁধ আছে তাও আবার নাজুক এবং অনেক জায়গার বেড়ি বাঁধ ধ্বসে পড়েছে। যার ফলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে নদী তীরবর্তি প্রায় অর্ধশতগ্রাম। তলিয়ে গেছে ফসলী জমিও। গবাদি প্রাণির আবাসস্থলও তলিয়ে যাওয়ায় মালিকরা পড়েছেন বিপাকে।
জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোঃ জোহর আলী বিকেলে স্পীড বোটে নদী তীরবর্তি কয়েকটি গ্রাম পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে আগতদের সার্বিক খোঁজ খবর নেন। ডিসি জোহর আলী জানান, সুপার সাইক্লোন আম্পানের প্রভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বইছে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি। বিকেলে অতিঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিতদের সার্বিক খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, জেলায় ২৭৪ টি আশ্রয় কেন্দ্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পাকা ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে আশ্রয় নেয়ার জন্য পূর্বথেকেই সব পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়াও জেলার ত্রাণ ভান্ডারে পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রয়েছে। রেডক্রিসেন্ট, স্কাউট, ফায়াসার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরাসহ স্বেচ্ছাসেবীরা দুর্যোগ মোকাবেলায় নিয়োজিত রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে এবং জানমালের নিরাপত্তার জন্য জেলা প্রশাসনসহ সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews