1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৮:৩০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট:
ঝালকাঠিতে করেনাভাইরাসে ৩ জনের মৃত্যু টানা ৯ দফায় ইউপি চেয়ারম্যান পৌর মেয়র ও ৩০ ইউপিতে নৌকার জয় এমপি আমু’র সাথে নবনির্বাচিত মেয়রের সাক্ষাত ঝালকাঠিতে জনপ্রতিনিধিতে হেট্রিক করলেন যাঁরা ঝালকাঠি জেলা কল্যাণ সমিতি খুলনার নেতৃবৃন্দের বিবৃতি, ঝালকাঠি পৌর মেয়রসহ নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন শংকরপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবনটি অতি ঝুঁকিপুর্ণ ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ভিডিপি সদস্যদের সতর্ক দায়িত্ব পালন ঝালকাঠি পৌরসভা এবং ৩১টি ইউনিয়নে স্বতঃস্ফুর্ত ভোট অনুষ্ঠিত, দুই প্রার্থীর ভোট বর্জন ঝালকাঠি পৌর নির্বাচনে নৌকার জয় ঝালকাঠির ৩১ ইউপিতে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হলেন যাঁরা
শিরোনাম:
ঝালকাঠিতে করেনাভাইরাসে ৩ জনের মৃত্যু টানা ৯ দফায় ইউপি চেয়ারম্যান পৌর মেয়র ও ৩০ ইউপিতে নৌকার জয় এমপি আমু’র সাথে নবনির্বাচিত মেয়রের সাক্ষাত ঝালকাঠিতে জনপ্রতিনিধিতে হেট্রিক করলেন যাঁরা ঝালকাঠি জেলা কল্যাণ সমিতি খুলনার নেতৃবৃন্দের বিবৃতি, ঝালকাঠি পৌর মেয়রসহ নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন শংকরপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবনটি অতি ঝুঁকিপুর্ণ ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ভিডিপি সদস্যদের সতর্ক দায়িত্ব পালন ঝালকাঠি পৌরসভা এবং ৩১টি ইউনিয়নে স্বতঃস্ফুর্ত ভোট অনুষ্ঠিত, দুই প্রার্থীর ভোট বর্জন ঝালকাঠি পৌর নির্বাচনে নৌকার জয় ঝালকাঠির ৩১ ইউপিতে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হলেন যাঁরা

নলছিটির সেই ছেলের করোনা জয়

  • প্রকাশিত : সোমবার, ১০ মে, ২০২১
  • ৪৩ বার পড়া হয়েছে
ঝালকাঠির নলছিটিতে করোনা জয়ী মা রেহেনা বেগম ও ছেলে জিয়াউল হাসান টিটু।
ঝালকাঠির নলছিটিতে করোনা জয়ী মা রেহেনা বেগম ও ছেলে জিয়াউল হাসান টিটু।

কে এম সবুজ

অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৭০ অবস্থায় করোনা আক্রান্ত মা-কে বাঁচানোর জন্য শরীরে ৮ লিটার মাত্রার চলমান ২০ কেজি ওজনের অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে মোটরসাইকেলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সেই সন্তান জিয়াউল হাসান টিটুও আক্রান্ত হয়েছিলেন করোনায়। হাসপাতালে টানা ৬ দিন মায়ের সেবা করে নিজেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। অবশেষে টানা ১৫ দিন করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করে জয়ী হয়েছেন কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা টিটু। রবিবার দুপুরে তাঁর মোবাইলেফোনে করোনা নেগেটিভের রিপোর্ট আসে। বৃহস্পতিবার সে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নমুনা দিয়েছিলেন।

জিয়াউল হাসান টিটু বলেন, আমি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। করোনা পজিটিভ থাকাকালে আমার শরীরে কোন উপসর্গ ছিলো না। তারপরেও টানা ১৫ দিন আমি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সব কাজ করেছি। এজন্যই দ্রুত আমি সুস্থ হয়ে গেছি।

টিটু বলেন, আমি সুস্থ হওয়ার পেছনে আমার মা রেহেনা বেগম ও ছোট ভাই রাকিবুল হাসান ইভানের ভূমিকা অপরিসীম। তাদের সেবাযতেœ আমি এখন সম্পূর্ণ করোনা মুক্ত। মায়ের সেবা করতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছি। এতে আমার কোন দুঃখ নেই। মমতাময়ী মাকে বাঁচাতে হবে, এটাই ছিল আমার একমাত্র চাওয়া। আমার সুস্থ হয়ে বাড়িতে এসেছেন, আমি করোনা আক্রান্ত হয়েছি। সেই মা আমার সেবাযতœ করেছেন।

১৫ দিন কিভাবে কাটল বাসায় : গত ২৩ এপ্রিল বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে মাকে নিয়ে সেই মোটরসাইকেলে করেই নলছিটির সুর্য্যপাশা গ্রামের বাড়িতে ফেরেন ছেলে জিয়াউল হাসান টিটু। পরের দিন নলছিটি হাসপাতালে তাঁর পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়। সেই থেকে বাড়িতেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুস্থ হয়ে ওঠেন টিটু। ১৫ দিন তিনি বই পড়ে ও ল্যাপটপে ইন্টার ব্যবহার করেই তাঁর সময় কাটে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাঁর কক্ষে খাবার দিয়ে আসতেন সেই মমতাময়ী মা রেহেনা বেগম ও ছোট ভাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগরে ছাত্র রাকিবুল হাসান ইভান। কোন কিছুর প্রয়োজন হলেই রিভান হাজির হয়ে যেতো টিটুর কাছে। মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাভস ও শরীরে পিপিই পড়ে ভাইয়ের সার্বক্ষণিক সেবা করেছে সে। মা ও ভাইয়ের প্রতি আজন্ম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে টিটু।

মা রেহানা বেগমের কথা : মায়ের সেবা করতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে টানা ১৫ দিন ঘরের ভেতরে ছিলেন টিটু। তাঁর সার্বক্ষণিক সেবাযত্ন করেছেন তাঁর মা নলছিটি বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রেহেনা পারভীন। টিটুর বাবা মরহুম আব্দুল হাকিম মোল্লা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বাবার মৃত্যুর পরে ছেলেরাই মায়ের দেখাশুনা করেন। স্বামীকে হারানোর অভাব কখনোই বুঝতে দেয়নি তাঁর তিন ছেলে। বড় ছেলে মেহেদী হাসান মিঠু পুলিশের এসআই। সে খুলনার একটি থানায় কর্মরত আছে।

রেহেনা বেগম বলেন, আমার সব স্বপ্নই এখন সন্তানদের ঘিরে। সন্তানরা যেমন আমার অসুস্থতার সময় নিজেদের জীবন বিপন্ন করে বাঁচানো চেষ্টা করেছেন, এটা আমার অনেক বড় পাওয়া। আমিও চাই তাঁরা আলোকিত মানুষ হোক। তাদের নিয়ে আমার গর্ব হচ্ছে, যেমনটি দেশের মানুষের হচ্ছে। আমি যখন সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরি, তখন অনেক পত্রিকা ও টিভিতে আমার সন্তানকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার হয়েছে। আমি দেখেছি সবগুলোই, আপ্লুত হয়েছি সন্তানদের এমন ভালোবাসায়। তাদের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।

১৭ এপ্রিলের ঘটনা : মা রেহেনা বেগমের অক্সিজেন সাপ্লাই ঠিক রাখতে শরীরের সঙ্গে গামছা দিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে রেখেছিলেন ছেলে জিয়াউল হাসান টিটু। মোটরসাইকেলের পেছনে করোনায় আক্রান্ত মা বসে আছেন। সেই স্কুল শিক্ষিকা মা রেহেনা পারভীনকে লকডাউনের সময় মোটরসাইকেলে করে ১৭ এপ্রিল বিকেলে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাঁর ছেলে। আর এ দৃশ্য দেখতে পেয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মহাসড়কে থাকা চেকপোস্ট থেকে সেই করোনা রোগী বহন করা মোটরসাইকেলটিকে দ্রুত ও অবাধে যেতে দিয়েছে পুলিশ। ওই সময় পুলিশের এক সদস্য একটি ছবি তুলে তা ফেসবুকে পোস্ট করে। এর পরেই ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায়। সেই মা রেহেনা পারভীন (৫৮) সুস্থ অবস্থায় গত ২৩ এপ্রিল বাসায় ফেরেন।

রেহেনা পারভীন ঝালকাঠির নলছিটি বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবদুল হাকিম মোল্লার স্ত্রী।
জিয়াউল হাসান টিটু জানান, গত ৯ এপ্রিল তাঁর মার করোনা শনাক্ত হলে নলছিটির সূর্যপাশা বাড়িতে বসেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ১৭ এপ্রিল দুপুরে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফোন দিলে অ্যাম্বুলেন্স অন্য রোগী নিয়ে বরিশাল চলে গেছে বলে জানানো হয়। লকডাউনের মধ্যে কোন গাড়ি যখন পাচ্ছিলেন না, তখন সংকটাপন্ন মায়ের জীবন বাঁচাতে মোটরসাইকেলে টিটু নিজের শরীরে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে হাসপাতে নিয়ে আসেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews