ঝালকাঠিতে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক কর্মশালা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৫টি ধাপ অনুসরণে গুরুত্বারোপ

0
266
ঝালকাঠিতে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক কর্মশালায় সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডাক্তার আবুয়াল হাসান বক্তৃতা করেন।

সূর্যালোক নিউজ
পৃথিবীতে বছরে প্রায় ৬০ কোটি মানুষ অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে মৃত্যুবরণ করে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার মানুষ। খাদ্য ও পানি থেকে সৃষ্ট ডায়রিয়ায় মারা যায় প্রায় ২২ লাখ মানুষ, যার মধ্যে ১৯ লাখই শিশু। এ পরিস্থিতিতে, খাবারকে নিরাপদ রাখার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পাঁচটি ধাপ অনুসরণ করা উচিত। এর মধ্যে রয়েছে- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা; কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা; সঠিক তাপমাত্রায় রান্না করা; সঠিক তাপমাত্রায় খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ করা এবং নিরাপদ পানি ব্যবহার করা।
ঝালকাঠি সদর হাসাপাতাল মিলনায়তনে শনিবার (২০ জুন) অনুষ্ঠিত ‘ইনক্রেজ অ্যাওয়ারনেস অন অকুপেশনাল এন্ড এনভার্নমেন্টাল হেলথ্ থ্রু সেভ ফুড প্রাকটিস’ শীর্ষক বিভাগীয় কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়। ‘নিরাপদ খাদ্য’ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো’র ‘লাইফস্টাইল, হেলথ্ এডুকেশন এন্ড প্রমোশন’ এর আয়োজক। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ‘ ধ্রুব অ্যাডভার্টাইজিং’ এতে সহযোগিতা করে।
ঝালকাঠির সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডাক্তার আবুয়াল হাসানের সভাপতিত্বে সিনিয়র স্বাস্থ্যশিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম কুমার দাস তথ্যপত্র উপস্থাপন করেন। সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার মোঃ জাফর দেওয়ান, জেলা তথ্য অফিসার মোঃ রিয়াদুল ইসলাম, সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন হিমু, প্রেস ক্লাব সহসভাপতি মানিক রায়, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তরুণ কর্মকার, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আল মাহমুদ, জেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর মোঃ আবদুর রব, উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তরুণ কুমার শীল প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন। সরকারি কর্মকর্তা, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, ধর্মীয়নেতাসহ ২৫ জন প্রতিনিধি কর্মশালায় অংশ নেন।
মূল উপস্থাপনায় বলা হয়, যে সকল খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, সংগ্রহ, তৈরি ও সংরক্ষণ করার সময় মানুষ বা প্রাণী অসুস্থ হতে পারে এমন কোনো উপাদান না থাকে, তাকেই নিরাপদ খাদ্য বলা হয়। সাধারণত, যেসব খাদ্য পুষ্টিকর এবং যার ভেতরে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পরজীবী বা রাসায়নিক পদার্থ থাকে না, সেরকম খাদ্যকেই নিরাপদ খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এছাড়া বলা হয়, অনিরাপদ খাবারের মাধ্যমে হতে পারে ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, বমি, জ্বরসহ নানা প্রকার রোগ। এছাড়া, দীর্ঘমেয়াদী নানা অসুখ যেমন : ডায়াবেটিস, হার্টের রোগ, ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতি রোগ। বিশ্ব ব্যাংকের ২০১৯ সালে প্রকাশিত মূল্যায়নে দেখা যায়, বাংলাদেশে এখনও শতকরা ৩১ ভাগ শিশুর উচ্চতা স্বাভাবিক উচ্চতার নীচে। শতকরা ২২ ভাগ শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। পুষ্টিকর ও সুষম খাবারের অভাবে এ জাতীয় সমস্যা হয়ে থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here