1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন

ঝালকাঠির নির্মাণ শ্রমিকদের মানবেতর জীবনযাপন

  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২০
  • ২৫৯ বার পড়া হয়েছে

মোঃ আতিকুর রহমান
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া নির্মাণ শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। চারপাশে ত্রাণ বিতরণ চললেও বেশির ভাগ নির্মাণ শ্রমিক পাননি কোনো ধরনের সহায়তা। কেউ কেউ আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সংসার চালালেও এখন আর সেটাও সম্ভব হয়ে উঠছে না। শেষমেশ সরকারি-বেসরকারি ত্রাণের ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে ওই সব পরিবারের। তাও চাহিদার তুলনায় কম।
রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেন মো: বাবুল হোসেন। পরিবারের লোকসংখ্যা চারজন। থাকেন পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দেউরী গ্রামের বাড়িতে। তিনি বলেন, পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে দিন যাচ্ছে। করোনায় ছুটি ঘোষণার আগে থেকেই আমাদের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। কোনো আয়-রোজগার নেই। বাবুল বলেন, এ পর্যন্ত আমাদের এ এলাকায় কেউই কোনো ত্রাণ নিয়ে আসেনি। আমরা কোনো ত্রাণ পাইনি। আত্মীয়স্বজন বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে কত ঋণ নেয়া যায়। সবাইতো কষ্টে আছে। সামনে চোখে মুখে অন্ধকার দেখছি।
বাবুল নামেই আরেকজন বাবুল হাওলাদার রঙমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালান। পরিবারের লোকসংখ্যা সাতজন। বাড়ি কীর্ত্তিপাশা হলেও সন্তানের পড়ালেখার সুবাদে থাকেন শহরের বাহের রোড এলাকায়। তিনি বলেন, কী বলব ভাই দুঃখের কথা, পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টের মধ্যে আছি। করোনার মধ্যে সরকারি বেসরকারিভাবে কতজন কতভাবে সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছে শুনি, কিন্তু এ পর্যন্ত আমাদের এখানে কেউ কোনো ত্রাণ নিয়ে আসেনি, আমরা কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাইনি। তিনি বলেন, অনেকেই ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে গেছে। কিন্তু ওই পর্যন্তই শেষ। বাসাভাড়া দেয়া প্রসঙ্গে বাবুল বলেন, রং মিস্ত্রির কাজ করলেও সংসার ভালোভাবেই চলছিলো। কাজ বন্ধ থাকায় নিজেরাই খাইতে পারি না, এখন বাসাভাড়া কিভাবে দেবো? ২ মাস বাসা ভাড়া দিতে পারি না। কাজের কিছু বকেয়া টাকা ছিল সেগুলো উঠানোর চেষ্টা করছি। কেউ ফোন ধরলে, অনুনয় বিনয় করলে দুয়েক হাজার টাকা দেয়, আবার অনেকেই ফোনও ধরে না। এভাবেই ধারকর্জ করে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছি।
জানা গেছে, ঝালকাঠি জেলায় নির্মাণশ্রমিক আছে প্রায় ৩ হাজারের মত। এর মধ্যে শহরে কাজ করেন প্রায় ১হাজার। করোনার এ পরিস্থিতির মধ্যে অনেকেই শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন। যারা শহরে আছেন তাদের বেশির ভাগ নির্মাণ শ্রমিকের সংগঠন ইমারত নির্মান শ্রমিক ইউনিয়ন অব বাংলাদেশ (ইনসাব) ও ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন এর সদস্য হননি। কিছু কিছু সদস্যদের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হলেও বেশিরভাগ শ্রমিকরাই সহায়তা পাননি।
ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ-ইনসাবের নেতৃবৃন্দ বলেন, ঝালকাঠি জেলায় নির্মাণ শিল্পে কয়েকহাজার হতদরিদ্র শ্রমিক কর্মহীন হয়ে অমানবিক জীবন অতিবাহিত করছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। কয়েকজনে সহায়তা পেলেও বেশিরভাগ শ্রমিকই কোনো সাহায্য সহযোগিতা এখনো পায়নি। কবে পাবো তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। তিনি বলেন, সরকারি অনুদান পেলে নির্মাণশ্রমিকদের সামান্য হলেও কষ্ট লাঘব হতো। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের হয়তো পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কর্মহীন প্রত্যেক পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা নগদ প্রদান করা হবে। জেলায় প্রায় ৩হাজার নির্মাণ শ্রমিক করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদেরকেও এই প্রণোদনায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews