কাঁঠালিয়ায় পোকা দমনে আলোক ফাঁদ

0
143
কাঁঠালিয়ায় পোকা দমনে আলোক ফাঁদ
কাঁঠালিয়ায় পোকা দমনে আলোক ফাঁদ।

ফারুক হোসেন খান
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে আলোক ফাঁদ প্রযুক্তি ব্যবহার করে চলতি আমন মৌসুমে ধানের ক্ষতিকর পোকা মাকড়ের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দমন করার লক্ষ্যে মাঠে মাঠে ছুটছেন কৃষি অফিসাররা। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার শৌলজালিয়া ইউনিয়নের বলতলা ব্লকের দক্ষিণ কৈখালী গ্রামের ডাকুয়া বাড়ীর সামনে মাঠে গিয়ে দেখা যায়, উপসহকারি কৃষি অফিসার মো.বখতিয়ার উদ্দীন শান্ত ব্যস্ত আলোক ফাঁদ তৈরীতে। এসময় কৃষি অফিসার কৃষিবীদ মো.শহীদুল ইসলাম, সহকারি কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. মোশারফ হোসেন, উপসহকারি কৃষি অফিসার মো. হাসিবুর রহমান, মো. জাহিদুল ইসলাম বশিরসহ স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন। আলোক ফাঁদ প্রযুক্তি ব্যবহারে সন্ধ্যা বেলায় সৌর বিদুত্যের বাল্ব টাঙানো হয়। বাল্বের নিচে পাত্র রাখা হয়। ওই পাত্রের মধ্যে ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানি থাকে। আকৃষ্ট হয়ে পোকামাকড় আলোর কাছে আসে এবং পাত্রের মধ্যে পড়ে মারা যায়। উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, ধান গাছে ক্ষতিকর সবুজ ঘাসফড়িং, পাতা মোড়ানো পোকা, মাজরার মথ পোকাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর পোকা আক্রমন করে। তাই কৃষকদের এই প্রযুক্তির প্রতি আকৃষ্ট করতে প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ১৮টি ব্লকে একযোগে কৃষি অফিসাররা এ কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
দক্ষিণ কৈখালী গ্রামের কৃষক আ.রশীদ ডাকুয়া বলেন, আমি এই বিষয়টি সর্ম্পকে জানতাম না। আমরা ক্ষেতে যে পরিমণ বিষ বা কীটনাশক প্রয়োগ করি তাতে ধান উৎপাদনে খরচ অনেক বেশি হয়। আমি এই পদ্ধতি দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি। আমি এখন থেকে নিয়মিত এই পদ্ধতি ব্যবহার করবো।
দক্ষিণ চেঁচরী গ্রামের কৃষক পরিতোষ সমাদ্দার, নুরুল ইসলাম খান ও মোশারফ হোসেন গাজী বলেন, আমরা যদি সকল কৃষক এই পদ্ধতি ব্যবহার করি তাহলে আমাদের খরচ অর্ধেকের কমে নেমে আসবে।
উপসহকারি কৃষি অফিসার মো. মাহতাব উদ্দীন বলেন, আমরা উপজেলা অফিসারের নির্দেশে প্রতিটি কৃষকের বাড়ী বাড়ী গিয়ে আলোক ফাঁদ এর উপকারিতা সর্ম্পকে বলছি। কৃষকরাও আমাদের এই পদ্ধতির উপকারিতা দেখে সারা দিচ্ছেন। আশাকরছি সকল কৃষকদের এই আলোক ফাঁদ এর আওতায় নিয়ে আসতে পারবো।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের ধান উৎপাদনে খরচ কম হয় সে লক্ষ্যে আমরা প্রতি মঙ্গলবার ইউনিয়নের সবগুলো ব্লকে একযোগে এই কার্যক্রম চালু করেছি। প্রতিটি ব্লকে আমাদের উপসহকারি কৃষি অফিসাররা কৃষকদের এই আলোক ফাঁদ তৈরীতে সহায়তা করেছেন। আবহাওয়া এবার কৃষির অনুকূলে থাকায় আশানুরুপ ফলন হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here