বরিশাল বিভাগে প্রথম হানাদার মুক্ত হয় রাজাপুর

0
117
রাজাপুর থানা রোডের বধ্যভূমি
রাজাপুর থানা রোডের বধ্যভূমি

স্টাফ রিপোর্টার
২৩ নভেম্বর সোমবার। ১৯৭১ সনের এ দিনে বরিশাল বিভাগের ৯নং সেক্টরের মধ্যে ঝালকাঠির রাজাপুর থানা সর্বপ্রথম পাকিস্তানী হানাদার মুক্ত হয়। ৯নং সেক্টরের মধ্যে সর্ব প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয় রাজাপুরে। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীদের সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধারা রাতভর যুদ্ধের পরে হানাদার বাহিনী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। শত্রু মুক্ত হয় রাজাপুর থানা, বন্ধ হয় গণহত্যা। ১৯৭১ সনের ২২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদার বাহিনীর আস্তানায় আক্রমণ চালায়, শুরু হয় গুলি পাল্টা গুলি। ২৩ নভেম্বর ভোর রাত ৪ টার দিকে পাকহানাদার বাহিনী মুক্তিবাহিনীর কাছে আত্মসর্মপন করতে বাধ্য হয়। এ দিনের যুদ্ধে শহীদ হন আবদুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক এবং গুরুতর আহত হন মো. হোসেন আলীসহ কমপক্ষে ২০ জন মুক্তিযোদ্ধা। সে দিনের এ যুদ্ধে ৩’শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করেন। এ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন ৯নং সেক্টরের অন্যতম সাব সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন মুঃ শাহজাহান ওমর। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য শাহজাহান ওমর বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন।
৯নং সেক্টরের মধ্যে সর্বপ্রথম রাজাপুর থানা শত্রু মুক্ত হওয়ায় ১৯৯৫ সালে রাজাপুরে নির্মাণ করা হয় মুক্তিযোদ্ধা মিলন কেন্দ্র। বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা ভবন নির্মাণ করা হয়। এছাড়া শহীদের স্মরণে তাদের নামানুসারে রাজাপুরে কয়েকটি সড়কের নামকরণ করা হয়। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৬ বছর অতিবাহিত হলেও রাজাপুর উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত দুটি বধ্যভূমি ও তিনটি গণকবরসহ সাতটি স্থান আজও অবহেলিত ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। উদ্যোগের অভাবে নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে এসব স্থানগুলো।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার থানা ঘাটের বধ্যভূমিতে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ নিরীহ বাঙালিকে হত্যা করা হয়। সাব সেক্টর কমান্ডার ক্যাপটেন শাহজাহান ওমরের বাড়ির সামনের বধ্যভ‚মিতে আরও প্রায় ২০০লোককে হত্যা করা হয়। এছাড়াও শুক্তাগড় ইউনিয়নের কাঠিপাড়ায় ২০১০ সালে দুইটি গণকবর পাওয়া যায়। যার একটি থেকে অনেক মানুষের হাড্ডি উদ্ধার হয় এবং সাতুরিয়ার তারাবুনিয়া গ্রামে একটি (অখননকৃত) গণকবরের সন্ধান দেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here