1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের চক্ষু বিভাগ, প্রাইভেট চেম্বারের রোগী হাসপাতালে ভর্তি করে সরকারী সেবা

  • প্রকাশিত : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০
  • ১৩৮ বার পড়া হয়েছে
প্রাইভেট চেম্বারে চুক্তিমূল্যে সদর হাসপাতালে ভর্তি
ঝালকাঠি: প্রাইভেট চেম্বারে চুক্তিমূল্যে অপারেশন করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে সরকারী খরচে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন নলছিটি উপজেলার নাচনমহল গ্রামের আশরাফ আলীকে।

মো. আতিকুর রহমান
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার নলবুনিয়া গ্রামের সাহেব আলীর কন্যা শাহিদা আক্তারের চোখের নেত্রনালিতে সমস্যা কয়েক মাস ধরে। রাজাপুর উপজেলা সদরেই প্রাইভেট ডাক্তার দেখানোর জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের সিনিয়র কলসান্টেট (চক্ষু) ডা. মির্জা মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত চেম্বারে যান শাহিদা। ৫শত টাকা ভিজিট দিয়ে ডাক্তারের কাছ থেকে ব্যবস্থাপত্র নেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নেত্রনালিতে অপারেশন করার জন্যও রাজি হন শাহিদা। সাড়ে ৩ হাজার টাকায় ডাক্তারের সাথে চুক্তিতে ডাক্তারের দেয়া নির্দেশনায় সদর হাসপাতালে ২২ সেপ্টেম্বর ভর্তি হন তিনি। ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঝালকাঠি সদর চৌমাথায় চশমা ঘরে ব্যক্তিগত চেম্বারে চুক্তির টাকা দিয়ে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের সিনিয়র কলসান্টেট (চক্ষু) ডা. মির্জা মাহবুবুর রহমান নেত্রনালি অপারেশ করেন। এরপর পাঠিয়ে দেন সদর হাসপাতালের নীচতলার পূর্ব পাশে মহিলা চক্ষু ওয়ার্ডে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অপারেশনের পরের দিন চোখের ব্যান্ডেজ খুলে দেয়া হয়। চোখ লাল হয়ে অপারেশন স্থান থেকে এখন ময়লা ঝড়ছে।
শুধু শাহিদা আক্তারই নন, এভাবেই প্রাইভেট চেম্বারে চুক্তিমূল্যে অপারেশন করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে সরকারী খরচে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন নলছিটি উপজেলার নাচনমহল গ্রামের আশরাফ আলী, শ্রীরামপুর গ্রামের শাহআলম, ঢাপড় গ্রামের সাফিয়া বেগম, রাজাপুর উপজেলার পুখরীজানা গ্রামের হাবিবুর রহমান খান (অব. পুলিশ), সদর উপজেলার সারেংগল গ্রামের মাসুদ খন্দকার, শহরের নতুন কলাবাগান এলাকার রওশন আরাকে।
সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাচনমহলের আশরাফ আলী, সারেংগলের মাসুদ খন্দকার, শ্রীরামপুরের শাহ আলম, ঢাপড়ের সাফিয়া বেগম এরা সবাই বৃদ্ধ। চোখের ছানি অপারেশন করিয়েছেন ডা. মির্জা মাহবুবুর রহমানের মাধ্যমে।
স্বজনদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, সাড়ে ৪ হাজার টাকা চুক্তিতে সদর হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে ছানি অপারেশন করা হয়েছে। অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে আগে ডাক্তারকে সাড়ে ৪হাজার টাকা দিতে হয়েছে। যে আগে টাকা দিছে তার অপারেশনই আগে হয়েছে, এরপর তিনি অপারেশনের কাজ শুরু করেছেন। কারো কাছ থেকে ১ টাকাও কম নেননি। দরজার ফাঁক দিয়ে কিভাবে অপারেশন করে তাও আমরা দেখেছি।
নতুন কলাবাগান এলাকার রওশন আরার স্বজনরা জানান, ডাক্তারের প্রাইভেট চেম্বারে কম্পিউটারে ছানি পরীক্ষা করা হয়েছে। ৬হাজার টাকা চুক্তিতে অপারেশন করা হয়েছে।
রাজাপুর পুখরীজানার হাবিবুর রহমান খান জানান, চোখের উপরের পাতায় মাংস বলেছিলো (বৃদ্ধি পেয়েছিলো)। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তার চেম্বারে তা অপারেশন করে কেটে ফেলা হয়েছে। চোখের ছানি কম্পিউটারে অপারেশন করতে ৯হাজার টাকা চুক্তিতে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চোখের ছানিও অপারেশন করা হয়েছে।
জানা গেছে, ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের সিনিয়র কলসান্টেট (চক্ষু) ডা. মির্জা মাহবুবুর রহমানের জন্য নির্ধারিত কক্ষে জটিল কোন রোগ নিয়ে চিকিৎসা সেবার জন্য গেলে যন্ত্রপাতি ও লোকবল নেই বলে ব্যক্তিগত চেম্বারের যেতে উৎসাহিত করেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত থাকার নিয়ম থাকলেও ১২টা অতিক্রম হতেই তিনি ব্যক্তিগত চেম্বারে চলে যান। সেখানে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে ব্যবস্থাপত্র নিতে হয়। অপারেশন প্রয়োজন হলে চেম্বারেই তিনি অপারেশন করে থাকেন। সে চেম্বারে অপারেশন উপযোগী কোন পরিবেশ নেই। ব্যক্তি ব্যবসাকে হাসিল করতে সদর হাসপাতালকে পুঁিজ হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের সিনিয়র কলসান্টেট (চক্ষু) ডা. মির্জা মাহবুবুর রহমানের ব্যবহৃত মুঠোফোনে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় শুনে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এ প্রসঙ্গে ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. রতন কুমার ঢালী জানান, এই চিকিৎসকের বিষয়ে এর আগে কোন অভিযোগ পাইনি। এখন যেহেতু জেনেছি আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি। তবে সদর হাসপাতালে চক্ষু চিকিৎসার কোন যন্ত্রপাতির অভাব আছে কিনা তা আমি এই মূহুর্তে বলতে পারছিনা। কারণ আমি যোগদান করেছি প্রায় ১ মাস। এরমধ্যে অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকায় এখন পর্যন্ত সবকিছু বিস্তারিত জানতে পারিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews