1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
সোমবার, ১০ মে ২০২১, ১১:৫৩ অপরাহ্ন

ঝালকাঠি শহরের ফরিদপুর পট্টিতে, পাখির কিচিরমিচির শব্দ ভুলিয়ে দেয় করোনা আতঙ্ক

  • প্রকাশিত : বুধবার, ৩ জুন, ২০২০
  • ৫১৫ বার পড়া হয়েছে
ঝালকাঠি শহরের ফরিদপুর পট্টি সড়কের পাশের গাছ থেকে বুধবার দুপুরে পাখি দুটির ছবি তোলা হয়।

মোঃ আতিকুর রহমান
করোনার ভয়ানক থাবায় যান্ত্রিক দুনিয়া যখন স্থবির হয়ে পড়েছে, প্রকৃতি তখন আপন ছন্দে নতুন করে জেগে উঠছে শহরে ছোট্ট একটি সড়কের অল্পকিছু গাছগাছালির মধ্যে। পুরো বিশে^র মতো বাংলাদেশও করোনার কবল থেকে রেহাই পায়নি, রেহাই পায়নি এই জেলা শহরটিও। তবে পাখিতো আর করোনা বোঝে না, তাইতো নিজেদের ছন্দে কিচিরমিচির করে মাতিয়ে রাখছে প্রকৃতি। এক কথায় পাখির কিচিরমিচির মানুষকে অন্তত কিছুক্ষণের জন্য ভুলিয়ে রাখছে করোনা আতঙ্কের কথা।
স্বাভাবিকভাবে পাখিরা বনবাদাড়ে নিজেদের বসবাস ও আড্ডাস্থল গড়ে থাকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আলাদা। ঝালকাঠি শহরের উদ্বোধন স্কুল সংলগ্ন ফরিদপুর পট্টি রোডের প্রবেশদ্বারের কিছু স্থানের কয়েকটি গাছে বাসা বেঁধেছে কয়েকটি প্রজাতির পাখি। এ পাখিরা তাদের বসতি ও আড্ডাস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছে এ স্থানটি। শহরের সবচেয়ে কোলাহলপূর্ণ কুমারপট্টি এলাকা। কুমারপট্টি সড়কের খান সুপার মার্কেটের পাশ থেকে উদ্বোধন স্কুলের সংযোগ সড়কের একটু সামনে আগাতেই ফরিদপুর পট্টি সড়কের প্রবেশদ্বার। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রজাতির পাখিরা এ স্থানটি তাদের অভয়াশ্রম হিসেবে ব্যবহার করছে। এমন একটি জায়গায় পাখিরা সমবেত হয় যা রীতিমতো অবাক করার মতো। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে-না-হতেই পাখিগুলোর আগমন ঘটতে থাকে। ঝাঁকে ঝাঁকে এসে বসে রাস্তার পাশে বৈদ্যুতিক তার এবং গাছের ডালপালায়। সংখ্যায় যা হাজারেরও বেশি। সন্ধ্যার অনেক পর পর্যন্ত চলে তাদের কলকাকলি কিচিরমিচির। এখানেই রাত কাটিয়ে ভোরে বেরিয়ে যায় আহারের সন্ধানে। স্থানীয় একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকরা মাঝে মধ্যে পাখিদের জন্য খাবারও দিয়ে থাকেন।
ওই এলাকার কনফেকশনারি দোকানদার আব্দুস সাত্তার জানান, প্রতিদিন বিকেলে হাজারেরও বেশি পাখি এখানে জড়ো হয়। ওদের কলকাকলিতে মিষ্টি এক পরিবেশ তৈরি হয়। মাঝে মাঝে ওরা ঝগড়াও করে দেখে ভালোই লাগে।
ঝালকাঠির পাখিপ্রেমিক ও সচেতন মহল জানান, এখানে আগে আরো অনেক বেশি পাখি ছিলো। তাদের কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত থাকতো পুরো এলাকা। কিন্তু কিছু দুস্কৃতিকারী লোকের ডিস্টার্বের ফলে দিন দিন এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। যেহেতু এই পাখিগুলো জনবসতির আশপাশে থাকতে ভালোবাসে, তাই কেউ যেন এদের শিকার করতে না পাওে সে জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টি করা উচিৎ বলে মনে করেন তাঁরা। বিষয়টির দিকে নজর রাখার জন্য তাঁরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান।
ঝালকাঠি সরকারী কলেজের প্রাণি বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জেবুন্নেছা জানান, পাখিরা যেখানে নিরাপদ আশ্রয় মনে করে সেখানেই বসতি গড়ে তোলে। ওদের ডিস্টার্ব করলে স্থান পরিবর্তন করে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে বলেও জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews