1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
বুধবার, ২১ জুলাই ২০২১, ১২:১০ অপরাহ্ন

ঝালকাঠিতে আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ

  • প্রকাশিত : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২০
  • ২৬০ বার পড়া হয়েছে

কে এম সবুজ
ঝালকাঠি সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষা অফিসের সিন্ডিকেটের সদস্য এমন কয়েকজন প্রধান শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের নাম ওই তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে এ তালিকায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের নাম বাদ দিয়ে আদৌ ক্ষতি হয়নি বা কম ক্ষতি হয়েছে এমন বিদ্যালয়ের নাম দেওয়া হয়েছে। জানাগেছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঝালকাঠি সদর উপজেলার নয়টি বিদ্যালয় মেরামতের জন্য ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়।
এদিকে একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে নয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা চলছে, কিভাবে নামেমাত্র কাজ দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা যায়।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা জানান, গত ২০ মে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ঝালকাঠির প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। দুই-একটি বিদ্যালয়ের দরজা জানালার সামান্য ক্ষতি হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে গত ২১ মে ঝালকাঠি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের তালিকা চায়। ঝালকাঠি সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সালেহা খাতুনের নির্দেশমত উচ্চমান সহকারী মো. শহিদুল ইসলাম তার পছন্দের প্রধান শিক্ষকদের স্কুল তালিকাভুক্ত করেন। যে নয়টি স্কুল তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তার মধ্যে রযেছে, বালিঘোনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ লাখ পচিশ হাজার টাকা, দক্ষিণ-পশ্চিম বালিঘোনা প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, কাঁচাবালিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা, বিকনা প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা, পশ্চিম দেউরী প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা, শিমুলিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা, মুরাসাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা, উদ্বোধন প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা ও কেফাইতনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা। এর মধ্যে পশ্চিম দেউরী প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া কোন বিদ্যালয় আম্পানের কারণে ক্ষতি হয়নি। কিন্তু তালিকা প্রেরণের সময় বলা হয়েছে, এসব বিদ্যালয়ের দরজা, জানালা ও সিড়ির ক্ষতি হয়েছে আম্পানে। আবার যে সব বিদ্যালয়ের সামান্য কিছু ক্ষতি হয়েছে, সেসব বিদ্যালয়ের নাম এ তালিকায় দেওয়া হয়নি। যেমন শ্রীমন্তকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেন্টার। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে এ বিদ্যালয়ের কয়েকটি থাই গ্লাস ভেঙে গেছে এবং ছাদে পানি জমে সৌর বিদ্যুতের প্যানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক কল্পনা ইন্দু বালা বলেন, আম্পানের পরে আমি আমার বিদ্যালয়ের নাম ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে শিক্ষা অফিসে জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখি আমার বিদ্যালয়ের নাম নেই। অথচ শুনছি আদৌ যে সব স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, সেসব স্কুলের নাম রয়েছে।

বিকনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন বাসিন্দা আবদুল জব্বার মৃধা ও ছাত্রলীগ নেতা আশিকুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ও আম্পানে স্কুলের কোন ক্ষতি হয়নি। আর ভেঙে পড়ার মত কোন গাছও স্কুলের পাশে নেই।
শিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিবেশী তারেক মোল্লা বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে আমাদের স্কুলের কোন ক্ষতি হয়নি। আগে যেমন ছিল তেমনই আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রধান শিক্ষক বলেন, বছরে বিভিন্ন খাতে স্কুল ওয়ারি বরাদ্দ আসে। এসব বরাদ্দ প্রাথমিক শিক্ষকদের সংগঠনের নেতারা যেসব স্কুলের সঙ্গে জড়িত তাদের মধ্যেই প্রতি বছর ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়। আর এসব অনিয়মের কলকাঠি নাড়েন উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী শহিদুল ইসলাম। সব বরাদ্দ থেকে তাকে ভাগ দিতে হয়। এমনকি জুন ফাইনালের কথা বলে ৪০ থেকে ৭০ হাজার সিলিপের টাকার জন্য শহিদুল স্কুল প্রতি দুই হাজার টাকা আদায় করেছেন। এ ছাড়াও প্রতিবছর রুটিন মেইন্টেনেসের ৪০ হাজার, উপবৃত্তির ২৫০০ টাকা, প্রাক প্রাথমিকের দশ হাজার, বিদ্যালয় আনুসঙ্গিকের ৮ হাজার এবং ক্রীড়ার দুই হাজার টাকা ছাড় করাতে উচ্চমান সহকারীকে ঘুষ দিতে হয়।
এ ব্যাপারে উচ্চমান সহকারী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাসকালীন সাধারণ ছুটির সময় অন্যরা অফিস না করলেও আমাকে অফিস করতে হয়েছে। অনেক সময় শিক্ষা কর্মকর্তা স্যার আসতে পারেন না, তখন স্যারের নির্দেশে আমাকেই সব কিছু করতে হয়। সে কারণে অনেক শিক্ষক আমার ওপর ক্ষিপ্ত। আম্পানের পরের দিন তালিকা করতে বলা হয়। তাড়াহুরার কারণে ভুলত্রæটি হতে পারে। আমার বিরুদ্ধে টাকা পয়সা আদায়ের অভিযোগ সত্য নয়।
সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সালেহা খাতুন বলেন, সহকারী শিক্ষা অফিসারদের প্রতিবেদন অনুয়াযী তালিকা তৈরি করা হয়েছে। কাজ না করে টাকা পয়সা ভাগবাটোয়ারা করার কোন সুযোগ নেই। আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও একটা স্কুলের নামে কিছু টাকা বরাদ্দ হলে আপনাদের সমস্যা কোথায় ?।
ঝালকাঠি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ স্কুলের তালিকা নিয়ে কিছু অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। যাচাই বাছাই করে তালিকা সংশোধন করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews