1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০১:০৪ পূর্বাহ্ন

বিশখালী নদীতে বেড়ি বাঁধ না থাকায় ঝুঁকিতে তীরবর্তি ২লক্ষাধিক মানুষ

  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০
  • ৩৯৮ বার পড়া হয়েছে

মোঃ আতিকুর রহমান
ঝালকাঠির সুগন্ধা, বিষখালী ও গাবখান নদীর মোহনা (গাবখান ব্রিজ সংলগ্ন) থেকে দক্ষিণে বয়ে গেছে বিষখালী নদী। বিষখালী নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঝালকাঠি ও বরগুনা জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ১০৫ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৭৬০ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকারে একেবেকে বয়ে গেছে।
বিষখালী নদীটি ঝালকাঠি জেলার ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন এলাকায় প্রবহমান সুগন্ধা নদী হতে উৎপত্তি লাভ করেছে। অতঃপর এই নদীর জলধারা রাজাপুর, কাঁঠালিয়া ও বেতাগী উপজেলা অতিক্রম করে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার পাথরঘাটা ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে নিপতিত হয়েছে। নদীটির উজানের তুলনায় ভাটির দিক অধিক প্রশস্ত। নদীতে সারাবছর পানিপ্রবাহ পরিদৃষ্ট হয় এবং ছোটবড় নৌযান চলাচল করে। তবে বর্ষাকালে নদীটিতে স্বাভাবিকের চেয়ে পানির প্রবাহ অধিক মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। এ সময় নদীর তীরবর্তী অঞ্চল বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়।
ঝালকাঠি সদর ও কাঁঠালিয়া এলাকার ২৯ কিলোমিটার বিস্তৃত বিষখালী নদী তীরবর্তী মানুষের ঘুম নেই। সদর ও কাঁঠালিয়ায় বিষখালী নদীর তীরে বেড়ি বাঁধ না থাকায় ঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলার ২ লক্ষাধিক মানূষ। ঘূর্ণিঝড় আম্পান আসার খবরে তীরবর্তি বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করে।
ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা ও বুলবুলে জেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা কাঁঠালিয়া। বেড়ি বাঁধ না থাকায় চার ইউনিয়নের জনগণের দুর্ভোগের শেষ নেই। বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের ক্ষোভের অন্ত নেই। বাঁধ না থাকায় প্রতি বছর জলোচ্ছাসে ফসল ও মৎস্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
নদী তীরবর্তি মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেড়ি বাঁধ না থাকায় সিডরে কাঁঠালিয়া উপজেলায় ২১ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ঘূর্ণিঝড় আইলা ও বুলবুলে আঘাতহানে কাঁঠালিয়ায়। কোন প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও বিষখালী নদীতে অতিরিক্ত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভেসে গেছে জেলেদের জাল, নৌকা। তলিয়ে গেছে মাছের ঘের ও ছোট-বড় পুকুর। নষ্ট হয়ে গেছে কাঁচা আধা কাঁচা ঘর-বাড়ি ও ফসলের ক্ষেত।
এছাড়াও স্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে আমুয়া, হেতালবুনিয়া, মশাবুনিয়া, চিংড়াখালী, জয়খালী, কাঁঠালিয়া সদরসহ প্রায় ২০টি গ্রামের ফসলি মাঠ প্লাবিত।
অপরদিকে ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান-ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন, পোনাবালিয়া ইউনিয়ন, রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নও বিষখালী নদীর তীরে। এসব এলাকায় কিছু অংশে বেড়ি বাঁধ থাকলেও তা সংস্কারের অভাবে ধ্বসে পড়েছে। স্বাভাবিক জোয়ারের পানিও ফসলী জমিতে প্রবেশ করে। এছাড়া বেশিরভাগ অংশেই বেড়ি বাঁধ না থাকায় লোকজন চরম আতঙ্কে রয়েছেন।
স্থানীয় জেলে মিরন জোমাদ্দার বলেন, সিডর এর সময় গলা পর্যন্ত পানিতে ঘর দরজা গরু-বাছুর সব ভাসাইয়া নিয়ে যায়।
কাঁঠালিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, বেড়ি বাঁধ না হওয়ায় আমরা বন্যার সময় খুবই অসহায় অবস্থার সম্মুখিন হই। ঘর-বাড়ি আর কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, বাঁধ না থাকায় প্রতিদিন স্বাভাবিক জোয়ারে বিষখালী নদীর পানি সহজেই প্রবেশ করে তলিয়ে যাচ্ছে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর আবাদী জমি। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান মো. এমাদুল হক মনির বলেন, উপজেলাবাসির দীর্ঘ দিনের দাবি এ বেড়ি বাঁধ নির্মাণের। বাঁধটি নির্মাণ করে উপজেলার জনসাধারণকে নিরাপদে রাখা সরকারের দায়িত্ব। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এটি নির্মাণের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মোঃ জোহর আলী জানান, ঝালকাঠির বিষখালী নদী তীরবর্তি বিস্তীর্ণ এলাকায় বেড়ি বাঁধ নেই। সরেজমিনে পরিদর্শন করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে বেড়ি বাঁধ স্থাপনের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ও বরাদ্দ এলেই বেড়ি বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews