ঝালকাঠি পৌর এলাকায় স্থাপিত অর্ধশত বেসিন ব্যবহার করছে না জনসাধারন

0
240

স্টাফ রিপোর্টার
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে বার বার হাত ধুয়ে পরিস্কার রাখতে ঝালকাঠি পৌর এলাকায় প্রায় অর্ধশত বেসিন স্থাপন করা হয়েছে। ঝালকাঠি পৌরসভা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ব্যবসায়ী শামিম আহমেদ ব্যক্তিগত অর্থায়নে এ বেসিন স্থাপন করেন। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ২৫টি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ৯টি এবং ব্যবসায়ী শামিম আহমেদ ২০টি বেসিন স্থাপন করেন। সেই সাথে প্রতিটা বেসিনে দেয়া হয় সাবানও। যাতে পথচারীরা কিছুক্ষণ পর পর হাত ধুয়ে পরিস্কার রেখে নিজেকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে নিজেকে সুরক্ষা দিতে পারেন। কিন্তু জনসাধারন এসব বেসিন ব্যবহার তেমন একটা করছেন না। বেসিনে রাখা সাবানও চুরি হয়ে গেছে।
জানাগেছে, পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শুরুতে মার্চ মাসের প্রথম দিকে পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ২৫টি জনবহুল স্থানে বেসিন স্থাপন করেন। প্রতিটা বেসিনের সাথে সেট করা সাবান রাখার বাক্সে একটি করে সাবানও দেন। অপরদিকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে, পুলিশ লাইনে, সদর উপজেলা পরিষদের সামনে, সদর হাসপাতালের সামনে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সামনে এবং নলছিটি উপজেলা পরিষদের সামনে, রাজাপুর উপজেলা পরিষদের সামনে এবং কাঁঠালিয়া উপজেলা পরিষদের বেসিন স্থাপন করেন। এছাড়াও সবিহা কেমিকেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যবসায়ী শামিম আহমেদ পৌর কর্তৃপক্ষের এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্থাপিত বেসিন ছাড়াও যেসব স্থানে বেসিন স্থাপন প্রয়োজন ছিলো সেসব স্থানে বেসিন স্থাপন করেন তিনি। কিন্তু প্রথম দিকে কিছু লোকজন বেসিনে হাত ধৌত করলেও বর্তমানে তা ব্যবহার তেমন একটা করছেন না। অনেক স্থানের বেসিনে রাস্তা ধুলো-ময়লা পড়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, ওয়াশবøক তৈরী প্রকল্পের আওতায় ৩০হাজার টাকা বরাদ্দে প্রতিটি আধুনিক বেসিন স্থাপন করে। এছাড়াও ঝালকাঠির আদালতে একটি আধুনিক বেসিন স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পূর্বের ন্যায় স্বাভাবিকভাবে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে তখন আইনী সেবাগ্রহিতারা যাতে হাত ধুয়ে পরিস্কার রেখে নিজেকে করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্ত রাখতে পারেন।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, নাক, মুখ ও চোখ থেকে করোনা ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করে। একজন সুস্থ মানুষ প্রতি ৬মিনিট পরপর চোখে, মুখে ও নাকে হাত দেয়। বিভিন্ন জনের সাথে হাতমিলানো, বিভিন্ন স্থান স্পর্শ করায় হাতের আঙ্গুলিতে জীবাণু স্থান নেয়। তাই ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধৌত করলে সাবানের ক্ষারত্বের কারণে জীবাণু ধ্বংস হয়। পরিস্কার হাত মুখমন্ডলে স্পর্শ করলে তখন জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে না। পক্ষান্তরে অপরিস্কার হাত দিয়ে মুখমন্ডল স্পর্শ করলে জীবাণু সহজেই সংক্রমণ করতে পারে।
ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার জানান, করোনা সংক্রমণ ব্যক্তির হাচি ও কাশির মাধ্যমে জীবাণুর বিস্তার ঘটে। চলাচলের কারণে বাতাসের সাথে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। অপরিস্কার হাত মুখমন্ডলে স্পর্শ করলে তা থেকে সুস্থ ব্যক্তির দেহে করোনা ভাইরাসের জীবাণু সংক্রমণ হয়ে থাকে। সাবান দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড হাত ধুলে সাবানের ক্ষারত্বের কারণে জীবাণু ধ্বংস হয়। স্বাস্থ্য বিধির অবহেলা না করে সকলকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার অনুরোধ করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here