1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন

ভারানী খালটি বর্তমানে নাব্যতা হারিয়ে মরা খালে পরিণত, ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী কাঁঠালিয়ার কৈখালি বাজারের বটবৃক্ষ

  • প্রকাশিত : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১৯৪ বার পড়া হয়েছে
কাঁঠালিয়া কৈখালীর বাজারের সংলগ্ন মরে যাওয়া ভারানীখাল।

মানিক রায়
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের কৈখালি বাজারে কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে প্রায় দেড়শতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী বটবৃক্ষটি। কৈখালি বাজারের মধ্যবর্তী স্থানে ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন অতি প্রাচিন এ গাছটি রয়েছে। এক সময় বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া স্রোতস্বিনী কৈখালি ভারানী খালটি বর্তমানে নাব্যতা হারিয়ে এক রকম মরা খাল। প্রায় ৩শত মিটার প্রশস্তের খালটি বর্তমানে ১০-১২ মিটার প্রশস্ততা নিয়ে আধমরা অবস্থায় রয়েছে। শুকনো মৌসুমে খালটিতে পানি থাকে না। খালটির উভয় পাড়ে প্রকারভেদে ২শ মিটার জায়গা সিকস্তি হয়েছে। উভয় পাড়ে সিকস্তি জায়গা বাসিন্দারা ভোগ দখল করছে। কৈখালি বাজারের খালের ভরাট হওয়া জায়গায় অসংখ্য দোকানপাট, এমনকি চেঁচরীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি সিকস্তি জায়গায় নির্মিত হয়েছে।

১৫০ বছরের বটবৃক্ষ

কাঁঠালিয়া কৈখালীর বাজারের ১৫০ বছরের বটবৃক্ষ।

খালটি কাঁঠালিয়া উপজেলা সদরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বিশখালি নদী থেকে ভারানি খাল বের হয়েছে। পার্শ্ববর্তী ভান্ডারিয়া উপজেলা সদরের কচা নদীর শাখা, পোনা উপ-নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। এই খালেরই অপর একটি অংশ কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া বন্দরের বিশখালির শাখা নদী থেকে আর একটি বিশাল ভাড়ানি খাল কৈখালি বাজারের কাছে এসে মিলিত হয়ে কাঠালিয়া-ভান্ডারিয়া ভারানি খাল নামে সংযুক্ত হয়েছে। কাঁঠালিয়া উপজেলা সদর ইউনিয়ন, আমুয়া ইউনিয়ন ও চেঁচরীরামপুর ৩টি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রায় ২০ কিলোমিটারের এই খালটি। ২০কিলোমিটারের দীর্ঘ খালের উভয় পাড়ে সিকস্তি জমির পরিমাণ কয়েক হাজার একর। যা নদী পারের বাসিন্দারা ভোগ-দখল করছে। এক সময় এই ভাড়ানি খালটি জোয়ার-ভাটায় তীব্র স্রোতের কারণে তুফানমুখি ছিল। কম সময়ে দূরত্ব কমিয়ে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নৌযান এ খালটি ব্যবহার করতো। প্রশস্থ এই ভারানি খাল দিয়ে যাত্রীবাহি নৌযান ও পণ্য পরিবহনের কার্গো চলেছে। বর্তমান সময় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠায় ও খালটি নব্যতা হারানোর কারণে খালের ব্যবহার সংকুচিত হয়েছে। সময়ের বিবর্তনে খালটির ইতিহাস-ঐতিহ্য স্লান হয়ে গেলেও কালের সাক্ষী হিসাবে বট বৃক্ষটি দাড়িয়ে আছে।
এই বাজারের বর্ষিয়ান ব্যবসায়িরা জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই বট গাছটিকে তারা এখন যেমন দেখছেন, তেমনি দেখে আসছেন। তাদের পূর্ব পুরুষের কাছ থেকে শোনা তথ্য অনুযায়ি এই বট বৃক্ষটির বয়স দেড় শতাধিক বছর অতিক্রম করেছে। বিশাল আকারের ২টি ভাড়ানি খাল বাজার সংলগ্ন এলাকায় এসে সংযুক্ত হওয়ায় খালটি উত্তালমুখি ছিল। কথিত রয়েছে কৈখালি বাজারে বট গাছটি সংলগ্ন তৎকালিন সময় ঢেউয়ের মধ্যে পাড়ে নেমে এক দরবেশ এই বট বৃক্ষটির চারা ডুব দিয়ে রোপণ করেছিলেন। সেই গাছটি ধীরে-ধীরে বড় হয়ে আজকের অবস্থায় এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews