1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন

মানবতার ফেরিওয়ালা ‘ফজলুর রহমান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’

  • প্রকাশিত : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০
  • ১৯০ বার পড়া হয়েছে
মো. ফজলুর রহমান সিকদার।
মো. ফজলুর রহমান সিকদার।

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফজলুর রহমান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের যাত্রা বেশিদিন নয়। মাত্র ৫ বছরের মধ্যে মানব কল্যাণমূলক কাজ করে ঝালকাঠি জেলার উত্তর জনপদে সাধারণ মানুষের মাঝে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এই ফাউন্ডেশন। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবাসহ হতদরিদ্রদের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করে ফজলুর রহমান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন এলাকাবাসীর হৃদয়ে মানবতার ফেরিওয়ালা হিসাবে স্থান পেয়েছে।
ঝালকাঠি জেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের বেশাইনখান গ্রামে ১৯৩৫ সালের ১১ জুলাই জন্মগ্রহণ করেছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগি মো. ফজলুর রহমান সিকদার। ঐ গ্রাম থেকে তৎকালীন সময় তিনি প্রথম ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। এরপর থেকে পড়াশুনার পাশাপাশি তিনি শিক্ষকতা শুরু করেন। পেশাগত জীবনে তিনি প্রথম দিকে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী কীর্ত্তিপাশা প্রসন্ন কুমার উচ্চ বিদ্যালয়, তারুলী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, বরিশালের ডহরপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দেহরগাতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও গুঠিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে তিনি বনবিভাগ ও ভূমি মন্ত্রণালয়ে কিছুদিন কর্মরত ছিলেন। সর্বশেষ তিনি খুলনায় কর্মরত অবস্থায় টিএন্ডটি বোর্ডের মনিটর পদ থেকে অবসরে যান।
তিনি বহু অসহায় শিক্ষার্থীদের বিনা খরচে শিক্ষাদান ও শিক্ষা উপকরণ দিতেন। তাঁর বহু ছাত্র কর্মক্ষেত্রে দেশে-বিদেশে সম্মানের সাথে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদদের স্মরণে বধ্যভূমিতে নির্মিত বেশাইনখান শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যানিকেতনসহ এ অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান এলাকার মানুষ এখনও স্মরণ করেন।
পরোপকারী ও মানব দরদী এই শিক্ষানুরাগী ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট না ফেরার দেশে চলে যান। তিনি খুলনায় ইন্তেকাল করলেও তাঁর ওসিয়ত মোতাবেক গ্রামের বাড়ি বেশাইনখানে দাফন করা হয়। মারা যাওয়ার তিনদিন পরে গ্রামের মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের সময় তাঁর ছাত্র ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে ‘ফজলুর রহমান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’ নামে একটি মানবকল্যাণমূলক সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রবীণদের মাঝে শীতের চাদর ও বেতের লাঠি বিতরণ

২০১৬ সালে ফজলুর রহমান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে প্রবীণদের মাঝে শীতের চাদর ও বেতের লাঠি বিতরণ করা হয়।

সেই সংগঠনের উদ্যোগে প্রথমে ২০১৬ সালে জানুয়ারি মাসে ষাটোর্দ্ধ বয়স্কদের নিয়ে ‘প্রবীণদের মিলনমেলা’ নামে এক ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী দুই শতাধিক প্রবীণের মাঝে বেতের লাঠি ও চাদর উপহার দেয়া হয়। তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট কীর্ত্তিপাশা ও কেওড়া ইউনিয়নের ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গাছের চারা রোপণ ও বেশাইনখান শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যা নিকেতনের শিক্ষার্থীদের মাঝে ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে বেশাইনখান কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রদান করা হয়। তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে এলাকার মসজিদ ও মাদরাসায় নারিকেল গাছের চারা রোপণ করা হয়। দেশব্যাপী যখন এডিস মশার প্রকোপ ঠিক তখনই চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে দুই শতাধিক হতদরিদ্রের মাঝে মশারী বিতরণ করে এই সংগঠন।

হতদরিদ্রদের মাঝে মশারি বিতরণ

২০১৯ সালে দেশব্যাপী এডিস মশার প্রকোপ দেখা দিলে ফজলুর রহমান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে হতদরিদ্রদের মাঝে মশারি বিতরণ করা হয়।

এবার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ২৩ আগস্ট সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত বেশাইনখান শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যানিকেতনে ‘বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প’ এর আয়োজন করা হয়েছে। এখানে কীর্ত্তিপাশা ও কেওড়া ইউনিয়নসহ ঝালকাঠির উত্তর জনপদের মানুষের জন্য বিনামূল্যে চশমা প্রদান ও বাছাইকৃত সানি রোগীদের বিশেষজ্ঞ সার্জন দ্বারা চোখের অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাথে সাথে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীও বিতরণ করা হবে। এসব কর্মসূচির পাশাপাশি প্রতিবছর বেশাইনখান হাজী খলিলুর রহমান হাফিজিয়া মাদরাসায় কুরআনখানী ও হাফেজ ছাত্রদের মাঝে উন্নতমানের খাবার এবং বেশাইনখান শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যানিকেতনের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেয়া হয়।
তারই ছাত্র তারুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক হেমায়েত হোসেন মোল্লা বলেন, রাত জেগে তিনি আমাদের পড়াতেন। কিন্তু কখনোই তিনি এর পারিশ্রমিক নেননি। এ ছাড়া গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের নিজের টাকা দিয়ে পরীক্ষার ফি দিতে সাহায্য করেছেন। যার অনেক নজির আছে। বর্তমান সময়ে এ ধরনের শিক্ষক খুঁজে পাওয়া বিরল। তার আদর্শ অনুসরণ করলে আদর্শ মানুষ হওয়া সম্ভব।
তারই আর এক ছাত্র কীর্ত্তিপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তণ প্রধান শিক্ষক আব্দুল হক মাস্টার বলেন, স্যারের কাছে শিক্ষা নেয়া আমাদের এলাকার শতাধিক ছাত্র আমার মতো বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষকতা শুধুমাত্র একটি পেশা নয়, মানবকল্যাণ ও মানুষকে পথ দেখাতে পারে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন ফজলুর রহমান স্যার। এখনও আমরা তার আদর্শ ও নীতির কথা সবার কাছে গর্ব করে বলি। আমাদের সবার উচিৎ গুণিজনদের স্মৃতি ধরে রাখা।
এ সব কর্মকান্ড প্রসঙ্গে ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও ৫ নং কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুস শুক্কুর মোল্লা বলেন, ফজলুর রহমান সিকদার এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে নিস্বার্থভাবে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে গেছেন। যা মানুষ আজো স্মরণ করে। তাই তার অসমাপ্ত কাজকে অব্যাহত রাখতে এলাকার মানুষকে নিয়ে তাঁর পুত্র বিশিষ্ট সাংবাদিক রাশিদুল ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করেছেন ‘ফজলুর রহমান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’ নামে একটি মানব কল্যাণমূলক সংগঠন। এ সংগঠনকে গতিশীল করার জন্য তাঁর ছাত্র ও ভক্ত-শুভাকাঙ্খিদের এগিয়ে আসতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews