‘মৌয়াত কালে একটু শান্তি পাইছি’, রাজাপুরের পুটিয়াখালী গ্রামের বৃদ্ধা শাহাবানু পেল মাথা গোজার ঠাঁই

0
85
বৃদ্ধা শাহাবানুকে সহায়তা করেন কর্মকর্তাবৃন্দ।
বৃদ্ধা শাহাবানুকে সহায়তা করেন কর্মকর্তাবৃন্দ।

স্টাফ রিপোর্টার
“এতকাল অনেক কষ্টে রইছি, মৌয়াত কালে একটু শান্তি পাইছি। এখন দুইডা টাহা পাইলে আর একটু ভাল থাকমু।” ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের পুটিয়াখালি গ্রামের অসহায় পঙ্গু বিধবা সাহাবানুর হৃদয়বিদারক সংবাদ শতকণ্ঠসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় দেখে নাভানা গ্রæপের একটি টিম বুধবার সকালে সহায়তা নিয়ে তাঁর বাড়িতে আসলে তিনি তাঁদের সাথে এসব কথা বলেন। এ সময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরউজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহাগ হাওলাদার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা আক্তার লাইজু, নাভানা গ্রæপের এজিএম আফজাল ইবনি নাজিম, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. মজিবুল হক কামাল উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে সাহাবানুর হৃদয়বিদারক সংবাদ মিডিয়ায় প্রকাশের পরে স্থানীয় প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার একটি ঘর তুলে দেন। ঘরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিরা তাঁকে খাদ্য সহায়তা করে আসছেন।
জানাগেছে, ২৫ বছর পূর্বে সাহাবানু ও তার একমাত্র পুত্র শাহজাহানকে রেখে স্বামী ইয়াছিন মারা যায়। মারা যাওয়ার সময় বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই রেখে যায়নি তিনি। অন্যের বাড়িতে কাজ করে সাহাবানু নিজে না খেয়েও একমাত্র ছেলেকে বড় করেন। অন্যের বাড়িতে কাজ করার সময় হোঁচট খেয়ে কোমরে আঘাত পেয়ে আর কোমর সোজা করতে পারেননি। কিন্তু ছেলে বড় হয়ে মাকে বাড়িতে ফেলে রেখে বিয়ে করে আলাদা বাড়িতে থাকেন, মায়ের কোন খোঁজখবর নেয়নি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে হামাগুড়ি দিয়ে চলেন সাহাবানু। অনেক দুঃখ কষ্টে চলে সাহাবানুর সংসার। বর্তমানে সাহাবানুর বয়স ৭০ বছর। স্থানীয় সাংবাদিকরা বিভিন্ন মিডিয়ায় তাঁর সংবাদ প্রকাশ করলে বিষয়টি সবার নজরে আসে।
নাভানা গ্রæপের এজিএম আফজাল ইবনি নাজিম জানান, মিডিয়ায় প্রকাশিত সাহাবানুর হৃদয়বিদাকর সংবাদ দেখে তার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদের ঘটনা স্থলে পাঠিয়েছেন। এখন থেকে মৃত্যুর আগপর্যন্ত সাহাবুনর সমস্ত দায়িত্ব নাভানা গ্রæপের। সাহাবানুর জন্য নগদ ২৫ হাজার স্থানীয় নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সাহাবানুর যখন যা প্রয়োজন হবে সবকিছু স্থানীয় প্রশাননের মাধ্যমে তাঁর কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here