রাজাপুরে কাঁদা রাস্তায় পনের বছরের যন্ত্রণা

0
181
ঝালকাঠি রাজাপুর ডাকবাংলো মোড় থেকে এলএসডি ঘাট পর্যন্ত সড়কটি সংস্কার না করায় বেহাল দশা।

কে এম সবুজ
কাঁদা পাড়াইয়্যা বাজারে যাওয়া লাগে। পোলা মাইয়্যা স্কুলে যায়, কাঁদা লাগে জামা কাপড়ে। বর্ষা মৌসুমে ভাল কোন পোষাক পইড়্যা রাস্তায় নামা যায় না। পনের বছর ধইর‌্যা আমাগো রাস্তাডার কোন উন্নতি হয়নায়। আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন রাজাপুর সদরের ডাকবাংলো এলাকার কবির হোসেন (৪৫)। উপজেলা সদরের ডাকবাংলো মোড় থেকে এলএসডি ঘাট পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি নির্মাণের পর আর সংস্কার না করায় কবিরের মতো স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ জমে আছে ১৫ বছর ধরে। রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারীরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে নানা মন্তব্য করছেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ার ফলে সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এক পশলা বৃষ্টিতেই কাঁদাজলে মাখামাখি সড়কে ভোগান্তিতে পড়েন গাড়ি চালক ও এই সড়কে চলাচল করা পথচারিরা।
সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইদুল ইসলাম তালুকদারের সঙ্গে। রাস্তাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘উপজেলা সদরের মধ্যে এই সড়কটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি ও উপজেলা সদরের ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল এ সড়কটি ব্যবহার করেই এলএসডি ঘাটে আনা-নেওয়া করেন। অথচ সদরের কম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যক্তিগত অনেক রাস্তা প্রতিবছর সংস্কার হলেও এই সড়কটির ওপর কারো নজর নেই। আমরা ১৫ বছর ধরে কাঁদায় মাখামাখি করে যাতায়াত করি। জনপ্রতিনিধি ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষ এই সড়ক দিয়ে মনের ভুলেও যাতায়াত করেন না। সড়কটি জরুরীভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন।’
জানা যায়, ২০০৫ সালে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ রাজাপুর সদরের ডাকবাংলো মোড় থেকে এলএসডি ঘাট পর্যন্ত সড়কটি পিচঢালা করা হয়। সড়কটি ব্যবহার করে স্থানীয়ও ব্যবসায়ীরা জেলা ও বিভাগীয় শহর থেকে নৌপথে আনা মালামালও এলএসডি ঘাট থেকে আনা-নেওযা করে। নৌপথে এলএসডি ঘাটে আসা সরকারি চাল ও গম খাদ্যগুদামে নিতেও ব্যবহৃত হয় সড়কটি। সড়কেই রয়েছে রাজাপুর ফাজিল মাদ্রাসাসহ তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অর্ধ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, চারটি করাতকল ও দুইটি অটো রাইস মিল। উপজেলা সদরের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি ব্যবহার করেন কয়েকশ শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ। নির্মাণের পর অজানা কারণে সড়কটি আর সংস্কার করা হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির পিচ উঠে গেছে বহু আগেই। ইটের সোলিংও নেই। মাটি বের হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে সেই মাটিতেই বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে পানি জমে থাকে। অতি প্রয়োজনে চলাচলকারী যানবাহন ও স্থানীয়দের যাতায়াতের কারণে কাঁদায় পরিপূর্ণ হয়ে আছে সড়কটি। শুকনো রাস্তায় পা রাখার কোন যায়গা নেই বললেই চলে। এমন পরিস্থিতিতে দুর্বিষহ অবস্থায় পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সুমন বলেন, ‘সড়কটিতে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে থাকে। এখান থেকে কোন গাড়ি গেলে আমাদের দোকানের ভেতর পানি প্রবেশ করে মালামাল সব নষ্ট হয়ে যায়। সড়কটিতে বর্ষামৌসুমে সব সময় কাঁদা-পানি থাকায় আমাদের দোকানগুলোতে ক্রেতা আসতে চায়না। ফলে দির্ঘ্যদিন ধরে ব্যবসায়ীকভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।’
রিকশাচালক মো. জামাল হোসেন বলেন, ’মহাসড়কের সাথে এই সড়কটির সংযোগ রয়েছে। সড়কটি সংস্কার হলে উপজেলা সদরের মূল সড়কে যানবাহনের চাপ কমবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলি মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘উপজেলাজুড়ে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য আমরা খুঁজে খুঁজে গ্রামপর্যায়েও সড়ক ও সেতু নির্মোণ করছি। অথচ উপজেলা সদরের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির কথা কেউ আমাদের কখনও বলেননি। যেহেতু এখন জানলাম, দ্রুতই সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করবো।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here