1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১১:১৩ অপরাহ্ন

রাজাপুরে কালভার্ট ভেঙ্গে মরণ ফাঁদ, জনদুভোর্গ চরমে

  • প্রকাশিত : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২০
  • ২২১ বার পড়া হয়েছে

মো. এনামুল হোসেন খান
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বারবাকপুর হাজীরহাট আমিন বাড়ি ব্রিজ ভায়া আকনের হাট, পশ্চিম ফুলহার হয়ে আমতলা সড়কের একটি কালভার্ট ভেঙ্গে পড়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এ কারণে প্রতিনিয়ত ছোট ছোট দুর্ঘটনা ঘটেই চলছে। তবুও দেখার যেন কেউ নেই! কর্তৃপক্ষের নজদারির অভাবে চলাচলের বিকল্প কোন ব্যবস্থা হয়নি। ফলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
দীর্ঘদিন যাবত কালভার্টটি ভেঙ্গে পরে থাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ পথচারীদের। চলাচল বন্ধ রয়েছে সকল প্রকার যান বাহন। একই সড়কে ৩৫০ চেইনেজে নতুন করে আরো একটি কালভার্ট ইতিমধ্যেই পানির চাপে দেবে গেছে। দেবে যাওয়া এ কালভার্টের উপর বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে মানুষ চলাচল করছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, কালভার্টটির একাংশ ২-৩ ফুট নিচে দেবে গেছে। মাঝখানের কিছু অংশ ধসে পড়েছে। দুইপাশের গাইড (উইং) ওয়ালসহ একাধিক অংশে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। নিচের অংশের গাঁথুনি খসে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় বছরখানেক ধরে কালভার্টটি ভাঙ্গা অবস্থায় পড়ে আছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ পুনঃ নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে না। বর্ষা মৌসুমের জলাবদ্ধতার স্রোত এবং কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে নতুন করে অন্য কালভার্টটি দেবে যায়। এতে করে যে কোন সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাই দ্রুত সমস্যা সমাধান ও নতুন কালভার্ট নির্মাণে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের নিকট দাবি জানান এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, প্রায় এক বছর আগে পুনঃ খননকৃত সেনের খালের তীব্র স্রোতের কারণে কালভার্টটি ভেঙে যায়। তারপর হতেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই কালভার্ট দিয়ে পার হতে হয় শত শত শিক্ষার্থীসহ কয়েক গ্রামের মানুষদের। এ কারণে বারবাকপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ২৬ নং বারবাকপুর সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয় ও ২৯ নং পূর্ব ফুলহার সরকারি প্রাইমারী স্কুলের শত শত শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। স্কুলগুলোর মাঝামাঝি এ কালভার্টটি ভেঙ্গে এমন দশায় পরিণত হয়েছে যে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার প্রায় ৫ হাজার লোকের যাতায়াত বন্ধ রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিম্নমাণের উপকরণ দিয়ে কালভার্টটি নির্মাণ ও পুনঃ খননকৃত খালের তীব্র স্রোতের কারণেই কালভার্টটি ভেঙ্গে গেছে। তাই দ্রæত এই কালভার্ট দুইটি পুনঃনির্মাণ করা না হলে যে কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এই বিষয়ে রাজাপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মৃধা মজিবর জানান, কালভার্টটি সংস্কারের জন্য এরই মধ্যে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে। নতুন করে আরও একটি কালভার্টটি দেবে যাওয়ার পরে বিকল্প পথ না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তার আগে যতদ্রæত সম্ভব এ কালভার্ট দুইটি পুনঃনির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ গোলাম মোস্তফা বলেন, কালভার্ট দুইটি ভেঙ্গে যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করেছি। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews