রাজাপুরে বিদ্যুত বিল পরিশোধের তারিখ অতিক্রম হলেও সময়মতো পায়নি বিলের কাগজ!

0
182
সময়মতো পায়নি বিলের কাগজ
সময়মতো পায়নি বিলের কাগজ

মোঃ আতিকুর রহমান
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের শতাধিক গ্রাহকের বিদ্যুতের বিল পরিশোধের তারিখ অতিক্রম হলেও পায়নি বিলের কাগজ। অপরদিকে গত ২৬ আগস্ট বিল পরিশোধের সর্বশেষ তারিখ থাকলেও ২৫ আগস্ট কতিপয় গ্রাহককে বিলের কাগজ পৌছানো হয়। যা একদিনের মধ্যে অনেকে বিদ্যুত বিল দিতে পারেনি। এনিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন গ্রাহকরা।
গ্রাহকদের কাছ থেকে জানা গেছে, ঝালকাঠি পল্লী বিদ্যুত সমিতির অধীনে রাজাপুর উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের ৮৪ নম্বর বইয়ের বিল প্রস্তুত ও বিতরণকারী মোঃ হারুন অর রশিদ। উপজেলার নারিকেল বাড়িয়া গ্রামে ২শতাধিক গ্রাহক রয়েছেন ৮৪ নম্বর বইয়ের অন্তুর্ভুক্ত। তারপক্ষে গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে বিদ্যুত বিলের কাগজ বিলি করেন আমিনুল ইসলাম নামের এক কিশোর। ওই কিশোর গ্রাহকদের বাড়ি ঘর চিনে না, কার নামে কোন খানা অন্তর্ভুক্ত তাও জানে না। ধারণার উপর ভিত্তি করে বিদ্যুত বিলের কাগজ বিতরণ করেছে। একই বাড়িতে ৪টি খানা থাকলে সেখানে ২জনকে বিলের কাগজ দিয়েছে, আর বাকি ২জন বিলের কাগজ পাননি। এনিয়ে বিলের কাগজ বঞ্চিতরা চরম দুশ্চিন্তা ও হতাশায় পড়েছেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ, যেখানে ২৬ আগস্ট বিদ্যুত বিল পরিশোধের শেষ তারিখ। সেখানে ২৫ আগস্ট বিকেলে বিদ্যুত বিলের কাগজ দিলে আমরা তা কিভাবে পরিশোধ করবো। বিদ্যুত বিল দেয়ার মতো টাকা ঘরে প্রস্তুত করা নেই। একটি দিন সময় পেলে বিলের টাকা প্রস্তুত করে পরিশোধ করতে পারতাম। এখন উপায় না পেয়ে ঋণ-কর্জ করে বিল জমা দিয়েছি। অনেক গ্রাহক বিল কাগজ পেয়েও ঘরে টাকা না থাকা, আবার অনেকের জনবল না থাকায় একদিনের মধ্যে ব্যবস্থা করে বিল পরিশোধ করতে পারেনি। অপরদিকে শতাধিক গ্রাহক বিলের কাগজ পায়নি, আগামী মাসে ২টি বিল একত্রে অনেক টাকা জমা হবে। তখন এতোগুলো টাকা একত্রে দিতেও অনেক কষ্ট হবে।
বিদ্যুত বিল প্রস্তুতকারীর বিরুদ্ধে মিটার রিডিং সঠিকভাবে না দেখে ভুতুরে বিল দেয়া দীর্ঘদিনের অভিযোগ। সেই সাথে আবার সঠিক সময়ে গ্রাহকের কাছে বিদ্যুতের বিল কাগজ না পৌছানো অভিযোগের আরেকটি মাত্রা যোগ করেছে। পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের এ হয়রানি বন্ধে কর্তৃপক্ষের নিকট আশু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
বিল প্রস্তুতকারী মোঃ হারুন অর রশিদ মুঠোফোনে জানান, আমি অনেক অসুস্থ্য। হাত-পা কাঁপছে। বাসা থেকে বের হতে পারছি না।
রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী রাজন কুমার দাস জানান, ৮৪ নম্বর বইয়ের বিল প্রস্তুত ও বিতরণকারী হারুন অর রশিদ অসুস্থ্য আছেন। করোনা আক্রান্ত থেকে সুস্থ হবার পরে নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়েছেন। একটু কাটিয়ে ওঠার পরে এখন আবার ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত। তাই বিলের কাগজ বিতরণে সমস্যা হয়েছে। তবে তিনি ইচ্ছা করে কোন গাফিলতি করলে বিধি অনুযায়ী দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here